ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ মিয়া-আয়ুব হাসানের যৌথ প্রয়াসের প্রতিষ্ঠান পিংক সিটি নিউ স্টার ফুটবল ক্লাব রতনপুরের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সংবর্ধিত বালাগঞ্জে শান্তিপুর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন : চমক দেখিয়ে আনহার মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত ফ্রান্সে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ফরাসি জাতীয়তা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত প্যারিসে Point d’Aide – এইড পয়েন্ট এর নতুন অফিসের উদ্বোধন তরুণ সাহিত্যিক সাদাত হোসাইনকে প্যারিসে সংবর্ধনা দিলো ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশীরা গাজীপুর জেলা সমিতি,ফ্রান্স’র দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত : ফারুক খান সভাপতি, জুয়েল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত কেবল উপবাসের নামই সিয়াম নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষাই সিয়াম ফ্রান্সে একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ‘বাংলাদেশ সমিতি’র তাগিদ, একটি প্রস্তাবনা শিশু কিশোরদের নানা ইভেন্ট নিয়ে ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস পালন

আফ্রিকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী বাংলাদেশীরাঃকারো ভ্রুক্ষেপ নেই

  • আপডেট সময় ১০:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৯
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

Warning: Attempt to read property "post_excerpt" on null in /home/u305720254/domains/francedorpan.com/public_html/wp-content/themes/newspaper-pro/template-parts/common/single_two.php on line 117

দর্পণ রিপোর্টঃ বাংলাদেশের বর্তমান শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত তৈরীতে যে নিয়ামকটি সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রেখেছে,রাখছে এবং রাখবে তার নাম প্রবাসী রেমিট্যান্স। এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত করে, জানা নেই। সব সরকারের পক্ষ থেকে তা বরাবরই স্বীকারও করা হয়। কিন্তু প্রবাসীদের অবদান তারা অন্তরে কতটা বিশ্বাস করেন তা মোটাদাগে প্রশ্নবিদ্ধ।
বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যুদ্ধারা যুদ্ধরত আছেন। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা বা অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশের সব অঞ্চলেই আছে তাদের শ্রমের হাত।

প্রবাসীরা বিনাশ্রমে কাড়িকাড়ি আয় করেন আর দেশে প্রেরণ করেন ব্যাপারটা মোটেই এমন নয়। এজন্য তাদের অনেক ত্যাগ ও শ্রম দিতে হয়। এমনকি বিশ্বের অনেক দেশে প্রবাসীরা আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাজি রেখে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতটুকুও বাড়িয়ে বলা হচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীদের দিকে খেয়াল করলে, সহজেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
গত এক মাসে সেখানে অন্তত ১১ জনের মত প্রবাসী বাংলাদেশী গুলি বা ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে ইমন হোসেন (২৫) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এবছর এপর্যন্ত প্রায় অর্ধশত রেমিট্যান্স যুদ্ধা সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়।
তবে এমন খবর কয়েকটা অনলাইনে আসলেও মূল ধারার কোন মিডিয়ায় তেমন একটা আসেও না। সাউথ আফ্রিকা প্রবাসীদের অনেকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সেখানে প্রতিনিয়ত অপহরণ ও হত্যাকান্ড ঘটে আসলেও অধিকাংশ হত্যাকান্ডকে চোর ডাকাতের গুলিতে নিহত বলে চালিয়ে দেয়া হয়। বাকী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়না।

সেখানকার পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডের পর পুলিশের পক্ষে একটি ইউ ডি মামলা ছাড়া ভিকটিমের পক্ষে কোন মামলা হয়না। তাই কি কারণে এ হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে তা পুলিশী তদন্তের বাইরে থেকে যায়।

অনেক সময় দেখা যায় হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তির কোন আত্নীয় স্বজন সাউথ আফ্রিকায় না থাকায় এ হত্যাকান্ড নিয়ে তেমন কেউ আগ্রহ দেখায় না।

আমিনুল ইসলাম নামে একজন সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ব্যবসায়ী দুঃখের সাথে বলেন, বাংলাদেশি ছাড়া অন্যকোন বিদেশী নাগরিক সাউথ আফ্রিকায় খুনের শিকার হলে ঐ দেশের কমিউনিটি নেতারা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাত আসামীর নামে মামলা দায়ের করে এবং মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ঐ মামলার তদারকি করে যায়। এমন কি সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস পর্যন্ত মামলার তদারকির জন্য নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করে থাকে।

কিন্ত একমাত্র বাংলাদেশি প্রবাসীদের বেলায় সবকিছু উল্টো। যে কোন এলাকায় কোন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের শিকার হলে স্থানীয় বাংলাদেশিরা চাঁদা তুলে লাশটা কোনরকমে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে
এ ক্ষেত্রে আমরা কোনদিন দেখিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির কোনো নেতা একটি লাশের তদারকি করতে বা কমিউনিটি বাদী হয়ে মামলা করতে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের এবিষয়ে কোন নজর নেই বলে অভিযোগ একাধিক প্রবাসীর । এখন পর্যন্ত সেখানকার দূতাবাস এ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সাথে কোন আলোচনা করেছে এমন খবরও শোনা যায় না। অথচ এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিবাদ প্রত্যাশিত। অন্তত সরকারের নিজের স্বার্থে হলেও এগিয়ে আসা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ সরকার বা সেখানকার দূতাবাস যে কোনো প্রকারেই হোক দক্ষিণ আফ্রিকার অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশির বিষয় নিয়ে সে দেশের সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আফ্রিকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এখান থেকে প্রবাসীরা সে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। দেশ হারাবে রেমিট্যান্সের একটি বড় বাজার।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ মিয়া-আয়ুব হাসানের যৌথ প্রয়াসের প্রতিষ্ঠান পিংক সিটি

আফ্রিকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী বাংলাদেশীরাঃকারো ভ্রুক্ষেপ নেই

আপডেট সময় ১০:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০১৯

দর্পণ রিপোর্টঃ বাংলাদেশের বর্তমান শক্তিশালী অর্থনীতির ভিত তৈরীতে যে নিয়ামকটি সবচেয়ে বেশী ভূমিকা রেখেছে,রাখছে এবং রাখবে তার নাম প্রবাসী রেমিট্যান্স। এ ব্যাপারে কেউ দ্বিমত করে, জানা নেই। সব সরকারের পক্ষ থেকে তা বরাবরই স্বীকারও করা হয়। কিন্তু প্রবাসীদের অবদান তারা অন্তরে কতটা বিশ্বাস করেন তা মোটাদাগে প্রশ্নবিদ্ধ।
বর্তমানে বিশ্বের শতাধিক দেশে বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যুদ্ধারা যুদ্ধরত আছেন। এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা বা অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশের সব অঞ্চলেই আছে তাদের শ্রমের হাত।

প্রবাসীরা বিনাশ্রমে কাড়িকাড়ি আয় করেন আর দেশে প্রেরণ করেন ব্যাপারটা মোটেই এমন নয়। এজন্য তাদের অনেক ত্যাগ ও শ্রম দিতে হয়। এমনকি বিশ্বের অনেক দেশে প্রবাসীরা আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাজি রেখে অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতটুকুও বাড়িয়ে বলা হচ্ছে না। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসীদের দিকে খেয়াল করলে, সহজেই এর সত্যতা পাওয়া যাবে।
গত এক মাসে সেখানে অন্তত ১১ জনের মত প্রবাসী বাংলাদেশী গুলি বা ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন শহরে ইমন হোসেন (২৫) নামে এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এবছর এপর্যন্ত প্রায় অর্ধশত রেমিট্যান্স যুদ্ধা সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়।
তবে এমন খবর কয়েকটা অনলাইনে আসলেও মূল ধারার কোন মিডিয়ায় তেমন একটা আসেও না। সাউথ আফ্রিকা প্রবাসীদের অনেকের সাথে আলাপ করে জানা যায়, সেখানে প্রতিনিয়ত অপহরণ ও হত্যাকান্ড ঘটে আসলেও অধিকাংশ হত্যাকান্ডকে চোর ডাকাতের গুলিতে নিহত বলে চালিয়ে দেয়া হয়। বাকী হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়না।

সেখানকার পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডের পর পুলিশের পক্ষে একটি ইউ ডি মামলা ছাড়া ভিকটিমের পক্ষে কোন মামলা হয়না। তাই কি কারণে এ হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে তা পুলিশী তদন্তের বাইরে থেকে যায়।

অনেক সময় দেখা যায় হত্যাকান্ডের শিকার হওয়া ব্যক্তির কোন আত্নীয় স্বজন সাউথ আফ্রিকায় না থাকায় এ হত্যাকান্ড নিয়ে তেমন কেউ আগ্রহ দেখায় না।

আমিনুল ইসলাম নামে একজন সাউথ আফ্রিকা প্রবাসী ব্যবসায়ী দুঃখের সাথে বলেন, বাংলাদেশি ছাড়া অন্যকোন বিদেশী নাগরিক সাউথ আফ্রিকায় খুনের শিকার হলে ঐ দেশের কমিউনিটি নেতারা বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় অজ্ঞাত আসামীর নামে মামলা দায়ের করে এবং মামলার চুড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত ঐ মামলার তদারকি করে যায়। এমন কি সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস পর্যন্ত মামলার তদারকির জন্য নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগ করে থাকে।

কিন্ত একমাত্র বাংলাদেশি প্রবাসীদের বেলায় সবকিছু উল্টো। যে কোন এলাকায় কোন বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকান্ডের শিকার হলে স্থানীয় বাংলাদেশিরা চাঁদা তুলে লাশটা কোনরকমে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে
এ ক্ষেত্রে আমরা কোনদিন দেখিনি বাংলাদেশ কমিউনিটির কোনো নেতা একটি লাশের তদারকি করতে বা কমিউনিটি বাদী হয়ে মামলা করতে।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারের এবিষয়ে কোন নজর নেই বলে অভিযোগ একাধিক প্রবাসীর । এখন পর্যন্ত সেখানকার দূতাবাস এ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকারের সাথে কোন আলোচনা করেছে এমন খবরও শোনা যায় না। অথচ এ ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কড়া প্রতিবাদ প্রত্যাশিত। অন্তত সরকারের নিজের স্বার্থে হলেও এগিয়ে আসা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ সরকার বা সেখানকার দূতাবাস যে কোনো প্রকারেই হোক দক্ষিণ আফ্রিকার অসহায় প্রবাসী বাংলাদেশির বিষয় নিয়ে সে দেশের সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে আফ্রিকা প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই এখান থেকে প্রবাসীরা সে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। দেশ হারাবে রেমিট্যান্সের একটি বড় বাজার।