ঢাকা ১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্রবাসে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে রোমে বৃহত্তম ঢাকাবাসীর পিঠা উৎসব নতুন তত্ত্ব ও জ্ঞান সৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্যঃ ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক ফ্রান্স দর্পণ পত্রিকার সম্পাদকের ভাইয়ের মৃত্যুতে প্যারিসে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ইপিএস কমিউনিটি ইন ফ্রান্স এর উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালিত গ্লোবাল জালালাবাদ এসোসিয়েশন ফ্রান্সের নবগঠিত কমিটির আত্মপ্রকাশ ফরাসি নাট্যমঞ্চে বাংলাদেশি শোয়েব বালাগঞ্জে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত রুপালী ব্যাংক লিমিটেড সুলতানপুর শাখার উদ্যোগে প্রকাশ্যে কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠিত সাজাপ্রাপ্ত এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে বালাগঞ্জ থানায় পুলিশ গহরপুরে কৃতি ফুটবলার লায়েক আহমদ সংবর্ধিত; জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে লেখাপড়ার গুরুত্ব অনুভব করেছি

ক্ষমা করবেন প্রিয় মানিক ভাই: ফারুক নেওয়াজ খান

  • আপডেট সময় ১২:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ১৯৪ বার পড়া হয়েছে

সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালবাসা ও দেশপ্রেম থেকে প্যারিসের সর্বাধিক পরিচিত স্থাপনা আইফেল টাওয়ারের পাশে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ফ্রান্স প্রবাসী সকল বাংলাদেশী দলমত নির্বিশেষে অপেক্ষা করতো এই একটি দিনের জন্য। বাঙ্গালীর স্বাধীনতার পর বৃহৎ অর্জনের তালিকায় ভাষার জন্য সংগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত।
বিশ্বের প্রথম জাতি হিসেবে আমরাই প্রথম মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিলাম। ইউনেস্কো আমাদের এ আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারীকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।ইউনেস্কোর সদস্যরাষ্ট্ররা এ দিনটি পালন করে।
প্যারিসে অবস্থানরত বাংলাদেশীকে এক ছায়াতলে এনে প্যারিস বন্ধূখ্যাত অকাল প্রয়াত শহীদুল আলম মানিক ভাই সম্পুর্ন নিজ উদ্যোগে আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতেন।
২১ ফেব্রুয়ারী মুল অনুষ্ঠান হলেও মরহুম মানিক ভাই এর মাসখানেক আগে থেকেই ফ্রান্সের সকল বাংলাদেশী সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতেন। প্যারিসে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের পরিচিত এলাকা গার দু নর্দের একটি বাঙ্গালী চা দোকানে প্রায় প্রতি রোববারেই এ বিষয় নিয়ে একাধিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন তিনি। অনুষ্ঠানকে কিভাবে সাফল্যমন্ডিত করা যায়। কিভাবে সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা যায় এসব নিয়েই মুলত আলোচনা চলতো।
২০০১ সালে প্যারিসে আসার পর থেকে মানিক ভাইয়ের মৃত্যুর বছর অর্থাৎ ২০১৩ পর্যন্ত প্রতিটি আলোচনা সভায় অংশগ্রহনের সুযোগ হয়েছিলো। মানিক ভাইয়ের মৃত্যু পরবর্তী এ বিষয়ে দায়িত্বগ্রহনের মতো যোগ্য কেউ না থাকায় কোন সভা হয়েছে কিনা সে তথ্য না থাকায় এর অধিক কিছূ জানিনা।
শুনেছি ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে দায়সারাভাবে অনুষ্ঠঅন হয়েছিলো। ২০১৬ সালে আয়োজকদের একগুয়েমীর কারনে প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরে অপর একটি সংগঠন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। একই বছরে আইফেল টাওয়ারে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় না অপর উদ্যোক্তাদের। এর পিছনে প্রশাসনিক যোগাযোগের ব্যর্থতা মোটাদাগে অনুভুত হয়।
মানিক ভাই যে ভাবে ফরাসী প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন উনার অবর্তমানে যারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের সে রকম যোগাযো্গ ছিলোনা। এ কারনেই আইফেল টাওয়ার চত্বরে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের অনুমতি লাভে ব্যর্থ হয়।
এ বছরও (২০১৮) একই স্থানে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের অনুমতি লাভে ব্যর্থ হয়েছে আয়োজকরা। পাশাপাশি সকল সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা না করায় আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের অংশগ্রনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে।
এ বছরও রিপাবলিক চত্বরে ২১ ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশীদের স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রায় ৬৫ টি সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পদচারনায় সরগরম ছিলো রিপাবলিক চত্বর।
মানিক ভাইয়ের মৃত্যু পরবর্তী প্রকৃত সংগঠকের অনুপস্থিতির কারনেই আইফেল টাওয়ার চত্বরে একুশ উদযাপনের বিদায় ঘন্টা বাজতে যাচ্ছে। প্রশাসনিক ও সামাজিক যোগাযোগ না করার ফল যে কতোটা মর্মান্তিক হতে পারে এটাই তার প্রমান।
মানিক ভাই আপনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন কিন্তু আমরা এতোটাই অযোগ্য যে আপনার হাতে গড়ে তোলা একটি স্বপ্নের মৃত্যু ঘটাচ্ছি। আমাদের এ ব্যর্থতা ক্ষমা করবেন প্রিয় মানিক ভাই।

লেখক- সম্পাদক, ইউরো বার্তা ২৪.কম

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

প্রবাসে বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধরে রাখার লক্ষ্যে রোমে বৃহত্তম ঢাকাবাসীর পিঠা উৎসব

ক্ষমা করবেন প্রিয় মানিক ভাই: ফারুক নেওয়াজ খান

আপডেট সময় ১২:৩৬:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

সম্পূর্ণ একক প্রচেষ্টায় জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি ভালবাসা ও দেশপ্রেম থেকে প্যারিসের সর্বাধিক পরিচিত স্থাপনা আইফেল টাওয়ারের পাশে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। ফ্রান্স প্রবাসী সকল বাংলাদেশী দলমত নির্বিশেষে অপেক্ষা করতো এই একটি দিনের জন্য। বাঙ্গালীর স্বাধীনতার পর বৃহৎ অর্জনের তালিকায় ভাষার জন্য সংগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত।
বিশ্বের প্রথম জাতি হিসেবে আমরাই প্রথম মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছিলাম। ইউনেস্কো আমাদের এ আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারীকে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।ইউনেস্কোর সদস্যরাষ্ট্ররা এ দিনটি পালন করে।
প্যারিসে অবস্থানরত বাংলাদেশীকে এক ছায়াতলে এনে প্যারিস বন্ধূখ্যাত অকাল প্রয়াত শহীদুল আলম মানিক ভাই সম্পুর্ন নিজ উদ্যোগে আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপন করে ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতেন।
২১ ফেব্রুয়ারী মুল অনুষ্ঠান হলেও মরহুম মানিক ভাই এর মাসখানেক আগে থেকেই ফ্রান্সের সকল বাংলাদেশী সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতেন। প্যারিসে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের পরিচিত এলাকা গার দু নর্দের একটি বাঙ্গালী চা দোকানে প্রায় প্রতি রোববারেই এ বিষয় নিয়ে একাধিক সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় করতেন তিনি। অনুষ্ঠানকে কিভাবে সাফল্যমন্ডিত করা যায়। কিভাবে সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা যায় এসব নিয়েই মুলত আলোচনা চলতো।
২০০১ সালে প্যারিসে আসার পর থেকে মানিক ভাইয়ের মৃত্যুর বছর অর্থাৎ ২০১৩ পর্যন্ত প্রতিটি আলোচনা সভায় অংশগ্রহনের সুযোগ হয়েছিলো। মানিক ভাইয়ের মৃত্যু পরবর্তী এ বিষয়ে দায়িত্বগ্রহনের মতো যোগ্য কেউ না থাকায় কোন সভা হয়েছে কিনা সে তথ্য না থাকায় এর অধিক কিছূ জানিনা।
শুনেছি ২০১৪, ২০১৫ এবং ২০১৬ সালে দায়সারাভাবে অনুষ্ঠঅন হয়েছিলো। ২০১৬ সালে আয়োজকদের একগুয়েমীর কারনে প্যারিসের রিপাবলিক চত্বরে অপর একটি সংগঠন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়। একই বছরে আইফেল টাওয়ারে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের অনুমতি দেয়া হয় না অপর উদ্যোক্তাদের। এর পিছনে প্রশাসনিক যোগাযোগের ব্যর্থতা মোটাদাগে অনুভুত হয়।
মানিক ভাই যে ভাবে ফরাসী প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন উনার অবর্তমানে যারা দায়িত্ব নিয়েছিলেন তাদের সে রকম যোগাযো্গ ছিলোনা। এ কারনেই আইফেল টাওয়ার চত্বরে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের অনুমতি লাভে ব্যর্থ হয়।
এ বছরও (২০১৮) একই স্থানে অস্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের অনুমতি লাভে ব্যর্থ হয়েছে আয়োজকরা। পাশাপাশি সকল সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা না করায় আইফেল টাওয়ারের পাদদেশে ফ্রান্সে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের অংশগ্রনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে।
এ বছরও রিপাবলিক চত্বরে ২১ ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনে বাংলাদেশীদের স্বতস্ফুর্তভাবে অংশ নিতে দেখা গেছে। প্রায় ৬৫ টি সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পদচারনায় সরগরম ছিলো রিপাবলিক চত্বর।
মানিক ভাইয়ের মৃত্যু পরবর্তী প্রকৃত সংগঠকের অনুপস্থিতির কারনেই আইফেল টাওয়ার চত্বরে একুশ উদযাপনের বিদায় ঘন্টা বাজতে যাচ্ছে। প্রশাসনিক ও সামাজিক যোগাযোগ না করার ফল যে কতোটা মর্মান্তিক হতে পারে এটাই তার প্রমান।
মানিক ভাই আপনি আমাদের ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন কিন্তু আমরা এতোটাই অযোগ্য যে আপনার হাতে গড়ে তোলা একটি স্বপ্নের মৃত্যু ঘটাচ্ছি। আমাদের এ ব্যর্থতা ক্ষমা করবেন প্রিয় মানিক ভাই।

লেখক- সম্পাদক, ইউরো বার্তা ২৪.কম