ঢাকা ০৪:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফ্রান্সে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত ফেভারিটদের মহারণ ওলিসের হেট্রিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে ফ্রান্স গাজীপুর জেলা অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্সের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আল্লামা গহর পুরী প্রশ্নে অবস্থান পরিষ্কার করলেন সাংসদ এম এ মালেক বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে ‘রাজনীতির শিকার’ হচ্ছে ইরান বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখবেন ইয়ামাল ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩২ বিশ্বকাপ ২০২৬: কেন আবারও শিরোপার সবচেয়ে বড় দাবিদার ফ্রান্স?

তিন দশক পর আবারো নির্মিত হলো বসনিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ

  • আপডেট সময় ০৭:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০১৯
  • ৭৭৪ বার পড়া হয়েছে

প্রায় তিন দশক আগে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া বসনিয়ার একটি প্রখ্যাত মসজিদ আবারো নামাজের জন্য খোলা হলে তাতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধের সময় বোমার আঘাতে ধ্বংস হয় মসজিদটি।
জাতিগত বিরোধের জেরে বসনিয়ার সার্ব সেনাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই যুদ্ধের শুরুতেই ফোকা অঞ্চলের আলাদজা মসজিদ ধ্বংস করা হয়।

ষোড়শ শতাব্দীর ওই মসজিদটিকে অটোমান স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে মনে করা হতো।

মসজিদটির পুনর্নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হতে বেশ কয়েকবছর সময় লেগেছে। তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ এর পুনর্নির্মাণ কাজের অর্থায়ন করে।

মসজিদটি ১৫৫০ সালের দিকে তৈরি করা হয় – ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান ছিল মসজিদটির।

মসজিদে বিস্ফোরক স্থাপন করার অপরাধে ২০১৮ সালে সাবেক একজন বসনিয় সার্ব সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

মসজিদটির আদি প্রস্তর-শৈলীর যেসব অংশ বিস্ফোরণের পর পরিত্যক্ত করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল, সেই অংশগুলোও আবার মাটির নিচ থেকে বের করে আনা হয়েছে।

ফোকা’তে মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মুসলিম অংশগ্রহণ করেন।

বসনিয়ার যুদ্ধের সময় শুধু ফোকা শহরেই ১২টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল।

যুদ্ধের আগে ঐ শহরে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল শহরের মোট জনসংখ্যার (৪১ হাজার) অর্ধেকেরও বেশি – তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে বর্তমানে ঐ শহরে মুসলিমের সংখ্যা ১ হাজারের কিছু বেশি।

জাতিগত-ভাবে যারা সার্ব নয়, এমন জনগোষ্ঠীর মানুষদের গণহত্যার কারণে বসনিয়া যুদ্ধের সময় কুখ্যাতি লাভ করেছিল ফোকা।

যুদ্ধের সময় ঐ শহরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় স্রবিনিয়ে – তবে ২০০৪ সালে বসনিয়ার আদালত শহরের পুরনো নাম পুনর্বহালের আদেশ দেয়।

বসনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই ঐতিহাসিক স্থানকে আবারো তৈরি করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সম্প্রদায়ের প্রধান হুসেইন কাবাজোভিচ বলেন, “আমরা আজ আশা করতে পারি যে এখানকার মানুষের মধ্যে আবারো শান্তি ফিরে আসবে।”

তুরস্কের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মেহমেট নুরি এ সময় বলেন, এই মসজিদের পুনরায় তৈরি হওয়ার বিষয় থেকেই বোঝা যায় যে “বর্ণ বৈষম্য এবং ঘৃণা বস্তুগত ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হলেও সংস্কৃতির মূলে থাকা শত শত বছর ধরে লালন করা সহাবস্থানকে নষ্ট করতে পারে না।”
সূত্র : বিবিসি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফ্রান্সে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত

তিন দশক পর আবারো নির্মিত হলো বসনিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদ

আপডেট সময় ০৭:৫২:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ মে ২০১৯

প্রায় তিন দশক আগে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া বসনিয়ার একটি প্রখ্যাত মসজিদ আবারো নামাজের জন্য খোলা হলে তাতে অংশ নেয় হাজার হাজার মানুষ।
১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত চলা বসনিয়া যুদ্ধের সময় বোমার আঘাতে ধ্বংস হয় মসজিদটি।
জাতিগত বিরোধের জেরে বসনিয়ার সার্ব সেনাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই যুদ্ধের শুরুতেই ফোকা অঞ্চলের আলাদজা মসজিদ ধ্বংস করা হয়।

ষোড়শ শতাব্দীর ওই মসজিদটিকে অটোমান স্থাপত্যশৈলীর অন্যতম নিদর্শনগুলোর একটি হিসেবে মনে করা হতো।

মসজিদটির পুনর্নির্মাণ প্রকল্প সম্পন্ন হতে বেশ কয়েকবছর সময় লেগেছে। তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ এর পুনর্নির্মাণ কাজের অর্থায়ন করে।

মসজিদটি ১৫৫০ সালের দিকে তৈরি করা হয় – ডিনামাইট দিয়ে ধ্বংস করার আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান ছিল মসজিদটির।

মসজিদে বিস্ফোরক স্থাপন করার অপরাধে ২০১৮ সালে সাবেক একজন বসনিয় সার্ব সেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

মসজিদটির আদি প্রস্তর-শৈলীর যেসব অংশ বিস্ফোরণের পর পরিত্যক্ত করে মাটি চাপা দেয়া হয়েছিল, সেই অংশগুলোও আবার মাটির নিচ থেকে বের করে আনা হয়েছে।

ফোকা’তে মসজিদটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মুসলিম অংশগ্রহণ করেন।

বসনিয়ার যুদ্ধের সময় শুধু ফোকা শহরেই ১২টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল।

যুদ্ধের আগে ঐ শহরে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল শহরের মোট জনসংখ্যার (৪১ হাজার) অর্ধেকেরও বেশি – তবে সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মতে বর্তমানে ঐ শহরে মুসলিমের সংখ্যা ১ হাজারের কিছু বেশি।

জাতিগত-ভাবে যারা সার্ব নয়, এমন জনগোষ্ঠীর মানুষদের গণহত্যার কারণে বসনিয়া যুদ্ধের সময় কুখ্যাতি লাভ করেছিল ফোকা।

যুদ্ধের সময় ঐ শহরের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় স্রবিনিয়ে – তবে ২০০৪ সালে বসনিয়ার আদালত শহরের পুরনো নাম পুনর্বহালের আদেশ দেয়।

বসনিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এই ঐতিহাসিক স্থানকে আবারো তৈরি করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

সম্প্রদায়ের প্রধান হুসেইন কাবাজোভিচ বলেন, “আমরা আজ আশা করতে পারি যে এখানকার মানুষের মধ্যে আবারো শান্তি ফিরে আসবে।”

তুরস্কের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মেহমেট নুরি এ সময় বলেন, এই মসজিদের পুনরায় তৈরি হওয়ার বিষয় থেকেই বোঝা যায় যে “বর্ণ বৈষম্য এবং ঘৃণা বস্তুগত ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম হলেও সংস্কৃতির মূলে থাকা শত শত বছর ধরে লালন করা সহাবস্থানকে নষ্ট করতে পারে না।”
সূত্র : বিবিসি