ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ মিয়া-আয়ুব হাসানের যৌথ প্রয়াসের প্রতিষ্ঠান পিংক সিটি নিউ স্টার ফুটবল ক্লাব রতনপুরের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সংবর্ধিত বালাগঞ্জে শান্তিপুর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন : চমক দেখিয়ে আনহার মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত ফ্রান্সে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ফরাসি জাতীয়তা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত প্যারিসে Point d’Aide – এইড পয়েন্ট এর নতুন অফিসের উদ্বোধন তরুণ সাহিত্যিক সাদাত হোসাইনকে প্যারিসে সংবর্ধনা দিলো ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশীরা গাজীপুর জেলা সমিতি,ফ্রান্স’র দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত : ফারুক খান সভাপতি, জুয়েল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত কেবল উপবাসের নামই সিয়াম নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষাই সিয়াম ফ্রান্সে একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ‘বাংলাদেশ সমিতি’র তাগিদ, একটি প্রস্তাবনা শিশু কিশোরদের নানা ইভেন্ট নিয়ে ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস পালন

রাসায়নিক হামলার প্রমাণ পেলে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে ফ্রান্স

  • আপডেট সময় ০৮:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ব ঘৌটায় বুধবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক হামলার প্রমাণ পেলে দেশটিতে হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইভেস লি দ্রিয়ান এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, যাচাই বাছাইয়ে যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, এতে প্রাণহানি ঘটে থাকে তাহলে এ ধরনের হামলার বিস্তার রোধে হস্তক্ষেপ কররে প্যারিস। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বুধবার প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, পূর্ব ঘৌটায় ফসফরাস বোমার মতো কিছু নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে, সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, বুধবার আসাদ বাহিনীর ছোঁড়া বোমাগুলো ছিল ব্যারেল বোমা। হামলার শিকার লোকজনকে শ্বাস নিতে লড়াই করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, হামোরিয়া আবাসিক এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়েছে।

আসাদ বাহিনী আবরও রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে; এমন খবরে ওই এলাকায় বন্ধ হয়েছে বহুল প্রতিক্ষীত রেডক্রসের ত্রাণ কার্যক্রম। এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পূর্ব ঘৌটায় ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হলো। ত্রাণবাহী ট্রাকগলো আক্রান্ত এলাকাটির বাইরে রাখা হয়েছে।

রেডক্রসের মুখপাত্র ইঙ্গি সেডকি বলেছেন, ‘ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এমনভাবে পাল্টে গেছে যাতে আমাদের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।’

বুধবার সিরিয়ার সরকারি বাহিনী পূর্ব ঘৌটার বিদ্রোহীমুক্ত এলাকাকে আলাদা করে ফেলে। এতে বিদ্রোহী যোদ্ধাসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অপর এলাকাটিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

আসাদ বাহিনী বিদ্রোহীদের দখলে থাকা বেইত সাওয়া এবং মিসরাবা দখলে নিয়েছে। স্থলবাহিনীর পথ পরিষ্কার করতে সরকারি বাহিনীকে সেখানে চরম মাত্রায় বোমা বর্ষণ করতে হয়েছে।

‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ বলেছে, বুধবার আসাদ বাহিনীর হামলায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে ৬০ জন শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিমান হামলার সময় সাকবা ও হাম্মুরিয়াহতে বিমান হামলার সময় ‘ব্যারেল বোমা’ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ‘সিরিয়ান আমেরিকান মেডিক্যাল সোসাইটির’ (স্যামস) একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে অন্তত ২৯ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এদের মধ্যে দেখা দেওয়া লক্ষণগুলো ক্লোরিন হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা দেয়। ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে কারও মৃত্যু না হলেও এটাই স্বভাবিক যে অন্যান্য স্থানে যাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেছে।

স্যামস জানিয়েছে, ‘পূর্ব ঘৌটায় ক্লোরিন হামলায় হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম ঝরা, কফ আসা, সর্দি ঝরা, নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় বুকে শব্দ হওয়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেছে। তাছাড়া এ ধরণের হামলার শিকার ব্যক্তিদের যে মানসিক ক্ষতি হয় তা অপরিসীম।’

আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে পূর্ব ঘৌটায় একাধিকবার ক্লোরিন হামলার  অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়া ও আসাদ সরকার বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। জাতিসঙ্ঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, ২০১৬ সালে সারিন গ্যাস হামলা ছাড়াও ২০১৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সরকারি বাহিনী অন্তত তিন বার ক্লোরিন হামলা করেছে। এ সপ্তাহে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করতে হলো। যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে পূর্ব ঘৌটায় ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

১৮ ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র একবার ৪৬টি ত্রাণবাহী ট্রাক আক্রান্ত এলাকায় যেতে পেরেছিল। কিন্তু সেখানে তাদের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করে চলে আসতে হয় বিমান হামলার প্রাবল্যে। নিয়ে যাওয়া খাবারের অর্ধেকই বিলি করতে পারেনি তারা। জাতিসংঘ বলেছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তখন ট্রাক থেকে চিকিৎসা উপকরণ নামিয়েও নিয়ে গিয়েছিল।

২০১৩ সাল থেকে যুদ্ধাক্রান্ত পূর্ব ঘৌটায় খাবার ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দুর্লভ। সেখানে ত্রাণ বিতরণ করার আগে যুদ্ধরত সব পক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া লাগে। সূত্র: আল জাজিরা, গার্ডিয়ান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ মিয়া-আয়ুব হাসানের যৌথ প্রয়াসের প্রতিষ্ঠান পিংক সিটি

রাসায়নিক হামলার প্রমাণ পেলে সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করবে ফ্রান্স

আপডেট সময় ০৮:১২:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ মার্চ ২০১৮

পূর্ব ঘৌটায় বুধবার সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের রাসায়নিক হামলার প্রমাণ পেলে দেশটিতে হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফ্রান্স। বৃহস্পতিবার ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন ইভেস লি দ্রিয়ান এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি বলেন, যাচাই বাছাইয়ে যদি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়, এতে প্রাণহানি ঘটে থাকে তাহলে এ ধরনের হামলার বিস্তার রোধে হস্তক্ষেপ কররে প্যারিস। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

বুধবার প্রকাশিত বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, পূর্ব ঘৌটায় ফসফরাস বোমার মতো কিছু নিক্ষেপ করা হচ্ছে। তবে, সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, বুধবার আসাদ বাহিনীর ছোঁড়া বোমাগুলো ছিল ব্যারেল বোমা। হামলার শিকার লোকজনকে শ্বাস নিতে লড়াই করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, হামোরিয়া আবাসিক এলাকায় ওই হামলা চালানো হয়েছে।

আসাদ বাহিনী আবরও রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে; এমন খবরে ওই এলাকায় বন্ধ হয়েছে বহুল প্রতিক্ষীত রেডক্রসের ত্রাণ কার্যক্রম। এক সপ্তাহের মধ্যে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পূর্ব ঘৌটায় ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত রাখতে হলো। ত্রাণবাহী ট্রাকগলো আক্রান্ত এলাকাটির বাইরে রাখা হয়েছে।

রেডক্রসের মুখপাত্র ইঙ্গি সেডকি বলেছেন, ‘ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি এমনভাবে পাল্টে গেছে যাতে আমাদের পক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।’

বুধবার সিরিয়ার সরকারি বাহিনী পূর্ব ঘৌটার বিদ্রোহীমুক্ত এলাকাকে আলাদা করে ফেলে। এতে বিদ্রোহী যোদ্ধাসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ অপর এলাকাটিতে কোণঠাসা হয়ে পড়েন।

আসাদ বাহিনী বিদ্রোহীদের দখলে থাকা বেইত সাওয়া এবং মিসরাবা দখলে নিয়েছে। স্থলবাহিনীর পথ পরিষ্কার করতে সরকারি বাহিনীকে সেখানে চরম মাত্রায় বোমা বর্ষণ করতে হয়েছে।

‘সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’ বলেছে, বুধবার আসাদ বাহিনীর হামলায় অন্তত ৮৭ জন নিহত হয়েছেন। কমপক্ষে ৬০ জন শ্বাসকষ্টের চিকিৎসা নিয়েছেন।

বিমান হামলার সময় সাকবা ও হাম্মুরিয়াহতে বিমান হামলার সময় ‘ব্যারেল বোমা’ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। ‘সিরিয়ান আমেরিকান মেডিক্যাল সোসাইটির’ (স্যামস) একজন চিকিৎসক জানিয়েছেন, তারা তাদের চিকিৎসাকেন্দ্রে অন্তত ২৯ জনকে চিকিৎসা দিয়েছেন। এদের মধ্যে দেখা দেওয়া লক্ষণগুলো ক্লোরিন হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা দেয়। ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে কারও মৃত্যু না হলেও এটাই স্বভাবিক যে অন্যান্য স্থানে যাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে অনেকে মারা গেছে।

স্যামস জানিয়েছে, ‘পূর্ব ঘৌটায় ক্লোরিন হামলায় হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম ঝরা, কফ আসা, সর্দি ঝরা, নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় বুকে শব্দ হওয়া এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা গেছে। তাছাড়া এ ধরণের হামলার শিকার ব্যক্তিদের যে মানসিক ক্ষতি হয় তা অপরিসীম।’

আসাদ বাহিনীর বিরুদ্ধে চলতি সপ্তাহে পূর্ব ঘৌটায় একাধিকবার ক্লোরিন হামলার  অভিযোগ উঠেছে। রাশিয়া ও আসাদ সরকার বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। জাতিসঙ্ঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, ২০১৬ সালে সারিন গ্যাস হামলা ছাড়াও ২০১৪ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত সরকারি বাহিনী অন্তত তিন বার ক্লোরিন হামলা করেছে। এ সপ্তাহে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ত্রাণ কার্যক্রম স্থগিত করতে হলো। যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে পূর্ব ঘৌটায় ত্রাণ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

১৮ ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মাত্র একবার ৪৬টি ত্রাণবাহী ট্রাক আক্রান্ত এলাকায় যেতে পেরেছিল। কিন্তু সেখানে তাদের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ করে চলে আসতে হয় বিমান হামলার প্রাবল্যে। নিয়ে যাওয়া খাবারের অর্ধেকই বিলি করতে পারেনি তারা। জাতিসংঘ বলেছে, সিরিয়ার সরকারি বাহিনী তখন ট্রাক থেকে চিকিৎসা উপকরণ নামিয়েও নিয়ে গিয়েছিল।

২০১৩ সাল থেকে যুদ্ধাক্রান্ত পূর্ব ঘৌটায় খাবার ওষুধ ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দুর্লভ। সেখানে ত্রাণ বিতরণ করার আগে যুদ্ধরত সব পক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া লাগে। সূত্র: আল জাজিরা, গার্ডিয়ান।