ঢাকা ০৪:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৩ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ মিয়া-আয়ুব হাসানের যৌথ প্রয়াসের প্রতিষ্ঠান পিংক সিটি নিউ স্টার ফুটবল ক্লাব রতনপুরের সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সংবর্ধিত বালাগঞ্জে শান্তিপুর্ণভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সম্পন্ন : চমক দেখিয়ে আনহার মিয়া চেয়ারম্যান নির্বাচিত ফ্রান্সে বাংলাদেশি অভিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে ফরাসি জাতীয়তা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত প্যারিসে Point d’Aide – এইড পয়েন্ট এর নতুন অফিসের উদ্বোধন তরুণ সাহিত্যিক সাদাত হোসাইনকে প্যারিসে সংবর্ধনা দিলো ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশীরা গাজীপুর জেলা সমিতি,ফ্রান্স’র দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত : ফারুক খান সভাপতি, জুয়েল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত কেবল উপবাসের নামই সিয়াম নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষাই সিয়াম ফ্রান্সে একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ‘বাংলাদেশ সমিতি’র তাগিদ, একটি প্রস্তাবনা শিশু কিশোরদের নানা ইভেন্ট নিয়ে ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস পালন

সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন, আটক ২

  • আপডেট সময় ১১:২২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অগাস্ট ২০১৮
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সামাজিক বিচারের নামে জনসম্মুখে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর দেবরদের (স্বামীর ভাই) যোগসাজশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ আগস্ট দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বেকিসাত পাড়া গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী গ্রামের সামছু ব্যাপারীর ছেলে প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় ওই নারীর বোন বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার শিকার ওই নারী চার সন্তানের জননী । তার এক ছেলে কোরআনে হাফেজ। আরেক ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। অন্য দুজনের একজন কেজি’র ছাত্র। আর ছোট ছেলের বয়স চার বছর। গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে ‘পরকীয়ায় জড়িত’ অভিযোগে পাশের বারপাড়া গ্রামের আলম নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে জোর করে ওই গৃহবধূর ঘরে আটকে রাখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। আটক দু’জনের ওপর রাতভর দফায় দফায় নির্যাতন চালায় প্রবাসী কবিরের ভাই সাইফুল, বাবুল, মিন্টু, মোস্তাক ও আরেক ভাই খোকনের স্ত্রী। পরদিন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে সামাজিক বিচারের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠক চলাকালে প্রতিবেশি মিন্টু মাতব্বরদের নির্দেশে লাঠি দিয়ে ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া, বেধড়ক পেটানো হয় আটক আলমকেও।

তাদেরকে নির্যাতনের ঘটনায় ১ আগস্ট ওই নারীর বোন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্ত আসামি সাইফুল ও একই গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে বাবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছে— একই গ্রামের মোবারকের ছেলে মিন্টু, বারেক মিয়ার ছেলে মোস্তাক ও নির্যাতিতা নারীর দেবরের শিল্পী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টা তাদের পারিবারিক ষড়যন্ত্রের অংশ। কবিরের চার ভাই ও এক ভাবি মিলে এ কাণ্ডটি ঘটিয়েছে।’

মনির তালুকদার বলেন, ‘ওই দিন সকালে বৈঠক শুরুর পর হঠাৎ করেই কবিরের এক ভাই এসে তার ভাবীকে মারধরের নির্দেশ দিতে থাকে। পরে আমার ইউনিয়নের তিনজন সদস্য ও আশপাশের লোকজন মিলে আহত দু’জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠাই এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেই।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুলসহ আরেক আসামি বাবুলকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অচিরেই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

বাংলা ট্রিবিউন থেকে

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

তরুণ উদ্যোক্তা মাসুদ মিয়া-আয়ুব হাসানের যৌথ প্রয়াসের প্রতিষ্ঠান পিংক সিটি

সালিশ বৈঠকে প্রবাসীর স্ত্রীকে নির্যাতন, আটক ২

আপডেট সময় ১১:২২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অগাস্ট ২০১৮

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে সামাজিক বিচারের নামে জনসম্মুখে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ওই নারীর দেবরদের (স্বামীর ভাই) যোগসাজশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে তাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ আগস্ট দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বেকিসাত পাড়া গ্রামে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী গ্রামের সামছু ব্যাপারীর ছেলে প্রবাসী কবির হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় ওই নারীর বোন বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামি করে দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পরে পুলিশ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার শিকার ওই নারী চার সন্তানের জননী । তার এক ছেলে কোরআনে হাফেজ। আরেক ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে। অন্য দুজনের একজন কেজি’র ছাত্র। আর ছোট ছেলের বয়স চার বছর। গত ৩১ জুলাই রাত ১০টার দিকে ‘পরকীয়ায় জড়িত’ অভিযোগে পাশের বারপাড়া গ্রামের আলম নামে এক ব্যক্তিকে ডেকে এনে জোর করে ওই গৃহবধূর ঘরে আটকে রাখে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। আটক দু’জনের ওপর রাতভর দফায় দফায় নির্যাতন চালায় প্রবাসী কবিরের ভাই সাইফুল, বাবুল, মিন্টু, মোস্তাক ও আরেক ভাই খোকনের স্ত্রী। পরদিন সকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদারের উপস্থিতিতে সামাজিক বিচারের আয়োজন করা হয়। সালিশ বৈঠক চলাকালে প্রতিবেশি মিন্টু মাতব্বরদের নির্দেশে লাঠি দিয়ে ওই নারীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া, বেধড়ক পেটানো হয় আটক আলমকেও।

তাদেরকে নির্যাতনের ঘটনায় ১ আগস্ট ওই নারীর বোন বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর অভিযুক্ত আসামি সাইফুল ও একই গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে বাবুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছে— একই গ্রামের মোবারকের ছেলে মিন্টু, বারেক মিয়ার ছেলে মোস্তাক ও নির্যাতিতা নারীর দেবরের শিল্পী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বৈঠকে উপস্থিত বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন তালুকদার বলেন, ‘বিষয়টা তাদের পারিবারিক ষড়যন্ত্রের অংশ। কবিরের চার ভাই ও এক ভাবি মিলে এ কাণ্ডটি ঘটিয়েছে।’

মনির তালুকদার বলেন, ‘ওই দিন সকালে বৈঠক শুরুর পর হঠাৎ করেই কবিরের এক ভাই এসে তার ভাবীকে মারধরের নির্দেশ দিতে থাকে। পরে আমার ইউনিয়নের তিনজন সদস্য ও আশপাশের লোকজন মিলে আহত দু’জনকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাঠাই এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেই।’

ঘটনার সত্যতা স্বীকার দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ মামলায় প্রধান আসামি সাইফুলসহ আরেক আসামি বাবুলকে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অচিরেই তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।’

বাংলা ট্রিবিউন থেকে