ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪, ২৮ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
প্যারিসে Point d’Aide – এইড পয়েন্ট এর নতুন অফিসের উদ্বোধন তরুণ সাহিত্যিক সাদাত হোসাইনকে প্যারিসে সংবর্ধনা দিলো ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশীরা গাজীপুর জেলা সমিতি,ফ্রান্স’র দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত : ফারুক খান সভাপতি, জুয়েল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত কেবল উপবাসের নামই সিয়াম নয়, প্রকৃত মানুষ হওয়ার শিক্ষাই সিয়াম ফ্রান্সে একটি সর্বজন গ্রহণযোগ্য ‘বাংলাদেশ সমিতি’র তাগিদ, একটি প্রস্তাবনা শিশু কিশোরদের নানা ইভেন্ট নিয়ে ইপিএস কমিউনিটি ফ্রান্সের স্বাধীনতা দিবস পালন জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ফ্রান্স’র নতুন কমিটির পরিচিতি ও ইফতার প্যারিসে ‘নকশী বাংলা ফাউন্ডেশন সম্মাননা’ পেলেন ফ্রান্স দর্পণ নির্বাহী সম্পাদক ফেরদৌস করিম আখঞ্জী নানা আয়োজনে প্যারিসে সাফের আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন ‘পাঠশালা’ – ফরাসী ভাষা শিক্ষার স্কুল উদ্বোধন

সৌদি যুবরাজ সালমান কী নিহত হয়েছেন ?

  • আপডেট সময় ১১:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮
  • ৮২২ বার পড়া হয়েছে

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ২৭ দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রহস্যজনভাবে তার এই নিখোঁজ হওয়া নিয়ে মুখ সৌদি কতৃপক্ষ। এরই মধ্যে  ইরান ও রুশ গণমাধ্যম সৌদি যুবরাজ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে এসব প্রতিবেদনে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের কথা উল্লেখ না করলেও বেশ কিছু পয়েন্টের ভিত্তিতে সৌদি যুবরাজ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে।

রাশিয়ায় স্পুতনিক নিউজ, ইরানের ফার্স নিউজ ও প্রেস টিভিতে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা হয়। সেখানেই গোলাগুলি চলার সময় সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ সালমান নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত কাইহান পত্রিকা দাবি করছে, অজ্ঞাত একটি আরব দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যুবরাজ নিহত হওয়ার খবরটি পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২১ এপ্রিল সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ সালমানের শরীরে দুটি বুলেট আঘাত হানে। তিনি হয়তো মারা গিয়েছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ইরানের ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলছে, ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদ থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছে। যুবরাজ সালমানকে তখন রিয়াদে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রিয়াদে বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের প্রাসাদকে ঘিরে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। খবরে দাবি করা হচ্ছে, সৌদি বাদশা ও তার সন্তান যুবরাজ সালমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিরাপত্তায় তাদের বিমানঘাঁটির একটি বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রেস টিভিতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এমননি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এপ্রিলের শেষের দিকে যখন সৌদি সফরে যান তখনও যুবরাজ সালমানকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। যদিও খবরে বলা হচ্ছে, যুবরাজ সালমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদির বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইরের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি ছাড়া কোনো ছবি প্রকাশিত হয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যুবরাজ সালমানকে প্রায়শই গণমাধ্যমে দেখা যায়। কিন্তু গত ২৭ দিন আগে রিয়াদে হামলার পর থেকে তিনি গণমাধ্যমে একেবারেই অনুপস্থিত। দীর্ঘ দিন অদৃশ্য থাকায় যুবরাজ সালমানের পরিণতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছু সূত্র দাবি করেছে, সৌদি রাজপরিবারের যেসব সদস্য বাদশা সালমানের বিরোধী তারাই ২১ এপ্রিল হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ২১ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের রাজপ্রসাদ চত্ত্বরে হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনায় দেশটিতে অভ্যুত্থান চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিকট গুলির শব্দ নানা গুঞ্জনের জন্ম দেয়। পরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, গুলি করে একটি ড্রোন নামানো হয়েছে। ড্রোনটি খেলনা বলে চিহ্নিত করেছে তারা।

আসলে এটি অভ্যুত্থান চেষ্টা ছিল নাকি এমন সম্ভাবনা ধাপাচাপা দিতেই ড্রোনের নাটক সাজানো হয়েছে- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেশটির বিভিন্ন মহলে। শুধু সৌদি আরবেই নয় সারা বিশ্বেই এ ঘটনাকে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সৌদির কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় বলা হয়, গোলাগুলির সময় বাদশা সালমান নিকটবর্তী মার্কিন ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

প্যারিসে Point d’Aide – এইড পয়েন্ট এর নতুন অফিসের উদ্বোধন

সৌদি যুবরাজ সালমান কী নিহত হয়েছেন ?

আপডেট সময় ১১:০৯:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ মে ২০১৮

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে ২৭ দিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। রহস্যজনভাবে তার এই নিখোঁজ হওয়া নিয়ে মুখ সৌদি কতৃপক্ষ। এরই মধ্যে  ইরান ও রুশ গণমাধ্যম সৌদি যুবরাজ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তবে এসব প্রতিবেদনে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রের কথা উল্লেখ না করলেও বেশ কিছু পয়েন্টের ভিত্তিতে সৌদি যুবরাজ নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করছে।

রাশিয়ায় স্পুতনিক নিউজ, ইরানের ফার্স নিউজ ও প্রেস টিভিতে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ইরানের গণমাধ্যমগুলো দাবি করছে, গত ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদে একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা হয়। সেখানেই গোলাগুলি চলার সময় সৌদির প্রভাবশালী যুবরাজ সালমান নিহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফার্সি ভাষায় প্রকাশিত কাইহান পত্রিকা দাবি করছে, অজ্ঞাত একটি আরব দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের কাছে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে যুবরাজ নিহত হওয়ার খবরটি পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২১ এপ্রিল সৌদির রাজপ্রাসাদে হামলার সময় যুবরাজ সালমানের শরীরে দুটি বুলেট আঘাত হানে। তিনি হয়তো মারা গিয়েছেন। কারণ ওই ঘটনার পর যুবরাজকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

ইরানের ফার্স নিউজের এক প্রতিবেদনে বলছে, ২১ এপ্রিল রিয়াদের রাজপ্রাসাদ থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছে। যুবরাজ সালমানকে তখন রিয়াদে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। গণমাধ্যমে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, রিয়াদে বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদের প্রাসাদকে ঘিরে ব্যাপক গোলাগুলি হচ্ছে। খবরে দাবি করা হচ্ছে, সৌদি বাদশা ও তার সন্তান যুবরাজ সালমানকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নিরাপত্তায় তাদের বিমানঘাঁটির একটি বাঙ্কারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রেস টিভিতে বলা হয়েছে, ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এমননি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এপ্রিলের শেষের দিকে যখন সৌদি সফরে যান তখনও যুবরাজ সালমানকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। যদিও খবরে বলা হচ্ছে, যুবরাজ সালমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু সৌদির বাদশা সালমান বিন আব্দুল আজিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবেইরের সঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবি ছাড়া কোনো ছবি প্রকাশিত হয়নি।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যুবরাজ সালমানকে প্রায়শই গণমাধ্যমে দেখা যায়। কিন্তু গত ২৭ দিন আগে রিয়াদে হামলার পর থেকে তিনি গণমাধ্যমে একেবারেই অনুপস্থিত। দীর্ঘ দিন অদৃশ্য থাকায় যুবরাজ সালমানের পরিণতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কিছু সূত্র দাবি করেছে, সৌদি রাজপরিবারের যেসব সদস্য বাদশা সালমানের বিরোধী তারাই ২১ এপ্রিল হামলা চালিয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।

আল জাজিরা ও বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, ২১ এপ্রিল রাতের অন্ধকারে সৌদি আরবের রাজপ্রসাদ চত্ত্বরে হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনায় দেশটিতে অভ্যুত্থান চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। বিকট গুলির শব্দ নানা গুঞ্জনের জন্ম দেয়। পরে সৌদি আরবের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, গুলি করে একটি ড্রোন নামানো হয়েছে। ড্রোনটি খেলনা বলে চিহ্নিত করেছে তারা।

আসলে এটি অভ্যুত্থান চেষ্টা ছিল নাকি এমন সম্ভাবনা ধাপাচাপা দিতেই ড্রোনের নাটক সাজানো হয়েছে- তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দেশটির বিভিন্ন মহলে। শুধু সৌদি আরবেই নয় সারা বিশ্বেই এ ঘটনাকে অভ্যুত্থান ষড়যন্ত্রের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর সৌদির কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় বলা হয়, গোলাগুলির সময় বাদশা সালমান নিকটবর্তী মার্কিন ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছেন।