ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা ‎সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ ফ্রান্স শাখার কমিটি গঠন ফ্রান্সে নবাগত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে BSNF-এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণের আইনগত প্রতিকার : প্রাসঙ্গিক আলোচনা ফ্রান্সের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলনে স্টান গ্রেনেড ব্যবহার স্থগিত করল ফ্রান্স লন্ডনে বাংলাদেশি পুরুষদের সমকামী সাজিয়ে আশ্রয় আবেদনে সহায়তা, গ্রেপ্তার ৩

হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন প্রায় ২৬ কোটি মানুষ

  • আপডেট সময় ১০:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮
  • ৫২৯ বার পড়া হয়েছে

নীরব এক ঘাতক হেপাটাইটিস ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বিশ্বে বসবাস করছে প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। যা প্রায় ২৬ কোটি। ২০১৫ সালে এ ভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন ৮ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ। প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মানুষের রয়েছে হেপাটাইটিস-সি সংক্রমণ। এ অবস্থায় প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। ২৮ শে জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দিনটি পালন করে। তাদের উদ্দেশ্য, এ রোগে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং কিভাবে এ রোগের চিকিৎসা করানো যায়, নির্মূল করা যায়। হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৫ ভাগেরও কম মানুষ জানেন যে তারা এ ভাইরাসে সংক্রমিত। এটি লিভার বা যকৃতের একটি রোগ। এতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এ থেকে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সার হতে পারে। বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিসের সবচেয়ে অভিন্ন কারণ হলো এই ভাইরাস। এ ছাড়া এলকোহল, সুনির্দিষ্ট মদ থেকেও এ রোগের সৃষ্টি হতে পারে। প্রধানত ৫ রকম হেপাটাইটিস ভাইরাস আছে। এগুলোকে ইংরেজি এ, বি, সি, ডি এবং ই নামে অভিহিত করা হয়েছে। এগুলো সবটাই লিভারের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ ভাইরাস বিভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। লাখ লাখ মানুষের দেহে ক্রোনিক আকারে রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী বি এবং সি ভাইরাস। লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য এ দুটি ভাইরাসই বেশি দায়ী। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, অনিরাপদ মেডিকেল প্রাকটিসের কারণে এ ভাইরাস দুটি দ্রুত ছড়ায়। শরীরে এ দুটি ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার অনেক সময় পর্যন্ত, কখনো কখনো অনেক বছর বা কয়েক দশক পর্যন্ত এর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। শতকরা কমপক্ষে ৬০ ভাগ লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে দেরিতে পরীক্ষা করানোয়। হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের লক্ষণ যদি দেখা দেয় তাহলে তা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। এতে ত্বক হলুদ হয় যায়। চোখ হলুদ হয়ে যায় (জন্ডিস), প্রসাব গাঢ় হয়ে যায়। নাকে সর্দি আসে। বমি বমি লাগে। পেটে ব্যথা হয়। হেপাটাইটিস সি’তে সংক্রমিত হওয়ার পর শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যাদের ক্ষেত্রে এর লক্ষণ দেখা দেয় তাদের জ্বর হয়। অবসাদ, ক্ষুধা মন্দা, নাকে সর্দি, বমি, পেতে পীড়া, ঘন প্রস্রাব দেখা দেয়। পায়খানার রং হয় কালো। জয়েন্টে জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা হয়। হেপাটাইটিস বি-এর একটি টিকা আছে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে শতকরা ৯৫ ভাগ কার্যকর। জটিল রোগ ও লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় তা কার্যকর। হেপাটাইটি সি ভাইরাসের কোনো টিকা বের হয় নি। ভাইরাস বিরোধী ওষুধ ব্যবহার করে শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া যায়। তবে তা কার্যকর হয় যারা দু’তিন মাসের মধ্যে এ সংক্রমণ ধরতে পেরেছেন তাদের ক্ষেত্রে। এতে লিভার ক্যান্সার ও সিরোসিসের মতো রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে

হেপাটাইটিস বি সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন প্রায় ২৬ কোটি মানুষ

আপডেট সময় ১০:৩৭:২৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুলাই ২০১৮

নীরব এক ঘাতক হেপাটাইটিস ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে বিশ্বে বসবাস করছে প্রায় ২৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ। যা প্রায় ২৬ কোটি। ২০১৫ সালে এ ভাইরাসের সংক্রমণে মারা গেছেন ৮ লাখ ৮৭ হাজার মানুষ। প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ মানুষের রয়েছে হেপাটাইটিস-সি সংক্রমণ। এ অবস্থায় প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ ৯৯ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছেন। ২৮ শে জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। শনিবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ দিনটি পালন করে। তাদের উদ্দেশ্য, এ রোগে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং কিভাবে এ রোগের চিকিৎসা করানো যায়, নির্মূল করা যায়। হেপাটাইটিসে আক্রান্তদের মধ্যে শতকরা ৫ ভাগেরও কম মানুষ জানেন যে তারা এ ভাইরাসে সংক্রমিত। এটি লিভার বা যকৃতের একটি রোগ। এতে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। এ থেকে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সার হতে পারে। বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিসের সবচেয়ে অভিন্ন কারণ হলো এই ভাইরাস। এ ছাড়া এলকোহল, সুনির্দিষ্ট মদ থেকেও এ রোগের সৃষ্টি হতে পারে। প্রধানত ৫ রকম হেপাটাইটিস ভাইরাস আছে। এগুলোকে ইংরেজি এ, বি, সি, ডি এবং ই নামে অভিহিত করা হয়েছে। এগুলো সবটাই লিভারের রোগ সৃষ্টি করতে পারে। এ ভাইরাস বিভিন্ন উপায়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। লাখ লাখ মানুষের দেহে ক্রোনিক আকারে রোগ সৃষ্টির জন্য দায়ী বি এবং সি ভাইরাস। লিভার সিরোসিস ও ক্যান্সার সৃষ্টির জন্য এ দুটি ভাইরাসই বেশি দায়ী। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহণ, অনিরাপদ মেডিকেল প্রাকটিসের কারণে এ ভাইরাস দুটি দ্রুত ছড়ায়। শরীরে এ দুটি ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার অনেক সময় পর্যন্ত, কখনো কখনো অনেক বছর বা কয়েক দশক পর্যন্ত এর কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। শতকরা কমপক্ষে ৬০ ভাগ লিভার ক্যান্সার ধরা পড়ে দেরিতে পরীক্ষা করানোয়। হেপাটাইটিস বি সংক্রমণের লক্ষণ যদি দেখা দেয় তাহলে তা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকতে পারে। এতে ত্বক হলুদ হয় যায়। চোখ হলুদ হয়ে যায় (জন্ডিস), প্রসাব গাঢ় হয়ে যায়। নাকে সর্দি আসে। বমি বমি লাগে। পেটে ব্যথা হয়। হেপাটাইটিস সি’তে সংক্রমিত হওয়ার পর শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ মানুষের শরীরে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। যাদের ক্ষেত্রে এর লক্ষণ দেখা দেয় তাদের জ্বর হয়। অবসাদ, ক্ষুধা মন্দা, নাকে সর্দি, বমি, পেতে পীড়া, ঘন প্রস্রাব দেখা দেয়। পায়খানার রং হয় কালো। জয়েন্টে জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা হয়। হেপাটাইটিস বি-এর একটি টিকা আছে, যা সংক্রমণ প্রতিরোধে শতকরা ৯৫ ভাগ কার্যকর। জটিল রোগ ও লিভার ক্যান্সার চিকিৎসায় তা কার্যকর। হেপাটাইটি সি ভাইরাসের কোনো টিকা বের হয় নি। ভাইরাস বিরোধী ওষুধ ব্যবহার করে শতকরা ৯৫ ভাগ ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া যায়। তবে তা কার্যকর হয় যারা দু’তিন মাসের মধ্যে এ সংক্রমণ ধরতে পেরেছেন তাদের ক্ষেত্রে। এতে লিভার ক্যান্সার ও সিরোসিসের মতো রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।