ঢাকা ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে ৫ বাংলাদেশি কাউন্সিলর নির্বাচিত: মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসীদের বড় মাইলফলক

  • আপডেট সময় ০৬:০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

মাজহারুল ইসলাম, ফ্রান্স থেকে: ফ্রান্সের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (পৌরসভা নির্বাচন) সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ প্রজন্ম। গত রোববার (২২ মার্চ) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শেষে বিভিন্ন শহর থেকে ৫ জন বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফরাসি মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচিত ৫ জন প্রতিনিধি

এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন শহর থেকে বিজয়ী প্রতিনিধিরা হলেন:

কৌশিক রাব্বানী খান: স্তা (Stains) শহর থেকে পুনর্নির্বাচিত।

নাহিদুল ইসলাম: সাঁ-দেনি (Saint-Denis) থেকে নির্বাচিত।

ফাহিম মোহাম্মদ: ক্রেতেই (Créteil) শহর থেকে নির্বাচিত।

জুবায়েদ আহমেদ: ইভ্রি-সুর-সেন (Ivry-sur-Seine) থেকে নির্বাচিত।

তানিয়া তনু: গার্জ লে গনেশ (Garges-lès-Gonesse) থেকে নির্বাচিত।

বিজয়ী প্রার্থীদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল

কৌশিক রাব্বানী খান: গত নির্বাচনেও তিনি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। স্তা শহরের মেয়র আজিদিনের আস্থাভাজন কৌশিক ‘ফ্রসে আভেক রাব্বানী’ ও আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ‘অফিওরা’র প্রতিষ্ঠাতা। তার এই ধারাবাহিক জয় কমিউনিটিতে তার শক্তিশালী অবস্থানের প্রমাণ দেয়।

নাহিদুল ইসলাম: বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিস’ (LFI) সমর্থিত প্যানেল থেকে লড়ে তিনি জয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল আবেদীনের পুত্র নাহিদুলের এই বিজয় স্থানীয় কমিউনিটিতে নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে।

ফাহিম মোহাম্মদ (দাবারু ফাহিম): ২৫ বছর বয়সী ফাহিম তরুণ প্রজন্মের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শৈশবের প্রতিকূলতা জয় করে একসময় বিশ্বজুড়ে ‘দাবারু’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ফাহিম বর্তমানে পেশাগতভাবে একজন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট। তিনি সোশ্যালিস্ট পার্টির প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

জুবায়েদ আহমেদ: ফ্রান্স জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক জুবায়েদ আহমেদ বাম ঘরানার ‘ফ্রন্ট পপুলেয়ার’ জোটের প্যানেল থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

তানিয়া তনু: গার্জ লে গনেশ এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মরহুম খালেইক মিয়ার কন্যা তানিয়া তনু। এর আগে শারমিন হক নামের এক বাংলাদেশি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় তানিয়াও নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করলেন।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

এবারের নির্বাচনে মোট ১২ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও কমিউনিটির পরিচিত মুখ এন কে নয়ন এবার ডেপুটি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন, যা স্থানীয়দের কিছুটা হতাশ করেছে। তবুও ৫ জনের এই বিজয় ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির জোরালো প্রতিফলন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে ১০ জন লড়ে মাত্র ১ জন বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা ৫-এ উন্নীত হওয়া প্রমাণ করে যে, স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং এই ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে দেশটির জাতীয় রাজনীতিতেও দেখা যেতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে ৫ বাংলাদেশি কাউন্সিলর নির্বাচিত: মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসীদের বড় মাইলফলক

ফ্রান্সের স্থানীয় নির্বাচনে ৫ বাংলাদেশি কাউন্সিলর নির্বাচিত: মূলধারার রাজনীতিতে প্রবাসীদের বড় মাইলফলক

আপডেট সময় ০৬:০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম, ফ্রান্স থেকে: ফ্রান্সের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে (পৌরসভা নির্বাচন) সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ প্রজন্ম। গত রোববার (২২ মার্চ) অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ শেষে বিভিন্ন শহর থেকে ৫ জন বাংলাদেশি তরুণ-তরুণী কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ফরাসি মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাচিত ৫ জন প্রতিনিধি

এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন শহর থেকে বিজয়ী প্রতিনিধিরা হলেন:

কৌশিক রাব্বানী খান: স্তা (Stains) শহর থেকে পুনর্নির্বাচিত।

নাহিদুল ইসলাম: সাঁ-দেনি (Saint-Denis) থেকে নির্বাচিত।

ফাহিম মোহাম্মদ: ক্রেতেই (Créteil) শহর থেকে নির্বাচিত।

জুবায়েদ আহমেদ: ইভ্রি-সুর-সেন (Ivry-sur-Seine) থেকে নির্বাচিত।

তানিয়া তনু: গার্জ লে গনেশ (Garges-lès-Gonesse) থেকে নির্বাচিত।

বিজয়ী প্রার্থীদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল

কৌশিক রাব্বানী খান: গত নির্বাচনেও তিনি একমাত্র বাংলাদেশি হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। স্তা শহরের মেয়র আজিদিনের আস্থাভাজন কৌশিক ‘ফ্রসে আভেক রাব্বানী’ ও আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান ‘অফিওরা’র প্রতিষ্ঠাতা। তার এই ধারাবাহিক জয় কমিউনিটিতে তার শক্তিশালী অবস্থানের প্রমাণ দেয়।

নাহিদুল ইসলাম: বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তি ‘লা ফ্রান্স ইনসুমিস’ (LFI) সমর্থিত প্যানেল থেকে লড়ে তিনি জয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল আবেদীনের পুত্র নাহিদুলের এই বিজয় স্থানীয় কমিউনিটিতে নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে।

ফাহিম মোহাম্মদ (দাবারু ফাহিম): ২৫ বছর বয়সী ফাহিম তরুণ প্রজন্মের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। শৈশবের প্রতিকূলতা জয় করে একসময় বিশ্বজুড়ে ‘দাবারু’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ফাহিম বর্তমানে পেশাগতভাবে একজন ফাইন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট। তিনি সোশ্যালিস্ট পার্টির প্যানেল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন।

জুবায়েদ আহমেদ: ফ্রান্স জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় এবং বর্তমান ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক জুবায়েদ আহমেদ বাম ঘরানার ‘ফ্রন্ট পপুলেয়ার’ জোটের প্যানেল থেকে প্রথমবারের মতো কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন।

তানিয়া তনু: গার্জ লে গনেশ এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন মরহুম খালেইক মিয়ার কন্যা তানিয়া তনু। এর আগে শারমিন হক নামের এক বাংলাদেশি নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় তানিয়াও নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করলেন।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

এবারের নির্বাচনে মোট ১২ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। যদিও কমিউনিটির পরিচিত মুখ এন কে নয়ন এবার ডেপুটি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন, যা স্থানীয়দের কিছুটা হতাশ করেছে। তবুও ৫ জনের এই বিজয় ফ্রান্সে বাংলাদেশিদের সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তির জোরালো প্রতিফলন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত নির্বাচনে ১০ জন লড়ে মাত্র ১ জন বিজয়ী হয়েছিলেন। এবার সেই সংখ্যা ৫-এ উন্নীত হওয়া প্রমাণ করে যে, স্থানীয় পর্যায়ে বাংলাদেশিদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এবং এই ইতিবাচক প্রভাব ভবিষ্যতে দেশটির জাতীয় রাজনীতিতেও দেখা যেতে পারে।