এক প্রেমরাষ্ট্র গড়ে ওঠে অনুভূতির নামে,
সেখানে ক্ষমতা বসে থাকে ভালোবাসার ফ্রেমে।
শাসন চলে হাসিমুখে, আদেশ আসে নরমে,
নরম শব্দের আড়ালেতে স্বৈরাচারই কর্মে।
রাষ্ট্রপ্রধান প্রেমিক বটে, আইন নিজেই লেখে,
যা সে বলে সেটাই সত্য—বাকিটা সে মুছে রাখে।
সংবিধান তার খুবই ছোট, একটিমাত্র ধারা—
ক্ষমতাই যে ভালোবাসা, প্রশ্ন মানে হারার সারা।
নাগরিক আছে, অধিকার নেই—থাকে শুধু দায়,
মতামত দেয় অনুমতিতে, সীমার ভেতর চাই।
নিজস্ব চিন্তা উচ্চারণে রাষ্ট্রদ্রোহ গোনা,
স্বাধীনতার সংজ্ঞাটুকু সন্দেহে ভেজানো সোনা।
“ভালোবাসা মানে অধিকার”—ঘোষণা চলে নিত্য,
সম্মতি সেখানে অপরাধ, ‘না’ শব্দটি অসত্য।
কখনো কবি হয়ে শাসক ছন্দে রাগ ঝাড়ে,
সমস্যার সব উৎস খুঁজে দুর্বল কণ্ঠে পাড়ে।
কখনো দার্শনিক সেজে বক্তৃতা দেয় ভারী,
স্বাধীনতা নাকি বিলাস, সীমাবদ্ধতাই সারি।
এইভাবে রাষ্ট্র চলে বেশ শান্ত আর গম্ভীর,
ভেতরে ভেতরে শুকিয়ে যায় অন্তর আর শরীর।
হঠাৎ একদিন নাগরিক পাঠ বদলায় ধীরে,
রাষ্ট্র নয়—জীবন পড়তে শেখে নিজের নীড়ে।
দেখে সে মানুষ জন্মেছে, শাসনের জন্য নয়,
ভালোবাসা মানে শৃঙ্খল—এই বোধে জাগে ভয়।
কোনো বিদ্রোহ, কোনো মিছিল, কোনো শব্দের ঝড়—
শুধু নীরব পদত্যাগে ভাঙে ক্ষমতার ঘর।
স্বৈরশাসক রয়ে গেল, সিংহাসনও তাই,
রাষ্ট্র আছে—নাগরিক নেই, ইতিহাস শুধু ছাই।
আর যে বেরিয়ে গেল নীরব সত্য জেনে,
সে এখন স্বাধীন সত্তা—নিজস্ব সীমা বুনে।
কোনো প্রেমরাষ্ট্র নয়, কোনো শাসনজাল নয়,
সে এখন স্বাধীন জীবন—সম্পূর্ণ নির্ভয়।

















