ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
যুদ্ধে নিহত সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা: উৎকর্ষের পথে যাত্রা শিক্ষাপ্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের নেতৃত্ব: শিক্ষারগুণগত মান উন্নয়নে বিবেচ্য সুর নরম করলেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চান না লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ চায় ফ্রান্স ‘কালো বৃষ্টি’তে ছেয়ে গেছে ইরানের আকাশ প্যারিসে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেছে সলিডারিতে আজি ফ্রান্স রিফর্ম ইউকের বহু সদস্য চান বিদেশে জন্ম নেওয়া অশ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশরা যুক্তরাজ্য ছাড়ুক হাসনাত আরিয়ান খান-এর মায়ের মৃত্যুতে ফ্রান্স দর্পণ সম্পাদকের শোক আমাতে তোমার অনুভূতি- রকিবুল ইসলাম
১৭ বছর পর দেশের মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান

আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান

  • আপডেট সময় ১০:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (গতকাল) বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

দেশে ফেরার পর ঢাকার পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, “সবাই মিলে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সময় এসেছে।” যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তব্যের অনুকরণে তিনি বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি।”

প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। পরে আবার মাইকে ফিরে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন—উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য কান্ট্রি। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।”

তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান ও তাঁর দুই কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরা। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। এ সময় তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।

বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রথমেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তারেক রহমান। ভিআইপি গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। এরপর গাড়িতে ওঠার আগে নিজের জুতা খুলে মাতৃভূমির মাটিতে স্পর্শ করেন। পরে বুলেটপ্রুফ বাসে করে নেতাদের সঙ্গে পূর্বাচলের সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।

গণসংবর্ধনার মঞ্চে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রত্যাশা করে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হলে সেই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব।”

তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদ থাকবে।

বক্তব্যে সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকেই আগামী দিনে দেশ গঠনের দায়িত্ব নিতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি সকল রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আবারও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। জনগণের সহযোগিতা পেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

যুদ্ধে নিহত সেনাদের জানাজায় লাখো ইরানির ঢল

১৭ বছর পর দেশের মাটি ছুঁলেন তারেক রহমান

আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান

আপডেট সময় ১০:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (গতকাল) বেলা ১১টা ৪৩ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।

দেশে ফেরার পর ঢাকার পূর্বাচলে জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত ঐতিহাসিক গণসংবর্ধনায় লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি বলেন, “সবাই মিলে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার সময় এসেছে।” যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের বক্তব্যের অনুকরণে তিনি বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অব মাই কান্ট্রি।”

প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। পরে আবার মাইকে ফিরে তিনি বলেন, “মনে রাখবেন—উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান ফর দ্য পিপল অ্যান্ড ফর দ্য কান্ট্রি। ইনশাআল্লাহ আমরা সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব।”

তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে ফেরেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমান ও তাঁর দুই কন্যাসহ পরিবারের সদস্যরা। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের শীর্ষ নেতারা। এ সময় তারেক রহমানের শাশুড়ি সৈয়দা ইকবাল মান্দ বানু তাকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন।

বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রথমেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তারেক রহমান। ভিআইপি গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি দলের নেতাদের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময় করেন। এরপর গাড়িতে ওঠার আগে নিজের জুতা খুলে মাতৃভূমির মাটিতে স্পর্শ করেন। পরে বুলেটপ্রুফ বাসে করে নেতাদের সঙ্গে পূর্বাচলের সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।

গণসংবর্ধনার মঞ্চে বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “আজ বাংলাদেশের মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার ও ন্যায্যতার প্রত্যাশা করে। সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধ হলে সেই প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব।”

তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, পাহাড়-সমতল, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে হবে, যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ প্রত্যেক নাগরিক নিরাপদ থাকবে।

বক্তব্যে সাম্প্রতিক আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে হলে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মকেই আগামী দিনে দেশ গঠনের দায়িত্ব নিতে হবে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি সকল রাজনৈতিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি আবারও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপির। জনগণের সহযোগিতা পেলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।