ঢাকা ০১:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট পরবর্তী নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার সম্ভাবনা

  • আপডেট সময় ০৮:০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮
  • ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ বা ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যে অ-ইউরোপীয় দেশ থেকে কম দক্ষ জনশক্তি যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হচ্ছে। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন এক অভিবাসন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এতে বাংলাদেশিরাও সুযোগ পাবেন। ফলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের পরিচালিত কারি শিল্পে নতুন প্রাণ ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনার ‌আওতায় কৃষি, স্যোশাল কেয়ার ও রেস্টুরেন্টসহ কিছু সুনির্দিষ্ট খাতে কম দক্ষ জনশক্তি আনার রূপরেখা চূড়ান্ত হবে।

গত সপ্তাহে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে নতুন ইমিগ্রেশন নীতির প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, কম দক্ষ জনশক্তি ব্রিটেনে আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও রুট থাকা কাঙ্ক্ষিত নয়। হোম অফিসের একটি সূত্র জানায়, টিয়ার-২ টাইপ ভিসার ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ ও পরিধি বাড়াবার পরিকল্পনাও রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের।

এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে চূড়ান্তভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না বলে সম্মত হয়েছে ব্রিটিশ কেবিনেট। ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য প্রচলিত অভিবাসন নীতির আওতায় পড়বেন। মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটি-এমএসি’র সুপারিশকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিরোধী দল লেবার পার্টিরও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী মঙ্গলবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ড গত পাঁচ বছর ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কাছে পোষ্ট ব্রেক্সিট ইমিগ্রেশন পরিকল্পনার জন্য ক্যাম্পেইন করছে। কর্মীদের ব্রিটেনে আসার পথ উন্মুক্ত করতে এটা করা হয়েছে। আজকের এ সিদ্ধান্ত ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের পরিচালিত কারি শিল্পে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ব্রিটেনে প্রতিদিন বহু রেস্টুরেন্ট বন্ধ হচ্ছে দক্ষ কর্মীর অভাবে।

উল্লেখ্য, ব্রিটেনে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শেফসহ জনশক্তি আমদানির বিষয়ে একটি ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।

লন্ডনের হ্যামলেটস সলিসিটরস এর অন্যতম কর্নধার সলিসিটর বিপ্লব কুমার পোদ্দার বলেন, ‘নতুন ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ থেকে প্রস্তাবিত সেক্টরে জনশক্তি ব্রিটেনে আসার পথ সুগম হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে তার জন্য ব্রেক্সিটের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পর্ন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বসন্ত উৎসব – বিপুল চন্দ্র রায়

যুক্তরাজ্যের ব্রেক্সিট পরবর্তী নতুন অভিবাসন পরিকল্পনায় বাংলাদেশ থেকে কর্মী আনার সম্ভাবনা

আপডেট সময় ০৮:০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগ বা ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যে অ-ইউরোপীয় দেশ থেকে কম দক্ষ জনশক্তি যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হচ্ছে। ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পর যুক্তরাজ্যের জন্য নতুন এক অভিবাসন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। এতে বাংলাদেশিরাও সুযোগ পাবেন। ফলে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশিদের পরিচালিত কারি শিল্পে নতুন প্রাণ ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনার ‌আওতায় কৃষি, স্যোশাল কেয়ার ও রেস্টুরেন্টসহ কিছু সুনির্দিষ্ট খাতে কম দক্ষ জনশক্তি আনার রূপরেখা চূড়ান্ত হবে।

গত সপ্তাহে ইন্ডিপেন্ডেন্ট মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে নতুন ইমিগ্রেশন নীতির প্রস্তাব করে বলা হয়েছে, কম দক্ষ জনশক্তি ব্রিটেনে আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনও রুট থাকা কাঙ্ক্ষিত নয়। হোম অফিসের একটি সূত্র জানায়, টিয়ার-২ টাইপ ভিসার ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ ও পরিধি বাড়াবার পরিকল্পনাও রয়েছে ব্রিটিশ সরকারের।

এরই মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে চূড়ান্তভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকদের অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনও বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না বলে সম্মত হয়েছে ব্রিটিশ কেবিনেট। ইইউভুক্ত দেশের নাগরিকরা বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদের জন্য প্রচলিত অভিবাসন নীতির আওতায় পড়বেন। মাইগ্রেশন অ্যাডভাইজরি কমিটি-এমএসি’র সুপারিশকৃত নীতিমালা অনুসরণ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিরোধী দল লেবার পার্টিরও পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ডের প্রতিষ্ঠাতা এনাম আলী মঙ্গলবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ব্রিটিশ কারি এওয়ার্ড গত পাঁচ বছর ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে কাছে পোষ্ট ব্রেক্সিট ইমিগ্রেশন পরিকল্পনার জন্য ক্যাম্পেইন করছে। কর্মীদের ব্রিটেনে আসার পথ উন্মুক্ত করতে এটা করা হয়েছে। আজকের এ সিদ্ধান্ত ব্রিটেনে বাংলাদেশিদের পরিচালিত কারি শিল্পে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। ব্রিটেনে প্রতিদিন বহু রেস্টুরেন্ট বন্ধ হচ্ছে দক্ষ কর্মীর অভাবে।

উল্লেখ্য, ব্রিটেনে রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ থেকে দক্ষ শেফসহ জনশক্তি আমদানির বিষয়ে একটি ব্যবসাবান্ধব নীতিমালার জন্য ব্রিটিশ সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।

লন্ডনের হ্যামলেটস সলিসিটরস এর অন্যতম কর্নধার সলিসিটর বিপ্লব কুমার পোদ্দার বলেন, ‘নতুন ইমিগ্রেশন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ থেকে প্রস্তাবিত সেক্টরে জনশক্তি ব্রিটেনে আসার পথ সুগম হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তবে তার জন্য ব্রেক্সিটের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন পর্ন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’
সূত্রঃ বাংলা ট্রিবিউন