ঢাকা ০৯:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আমাতে তোমার অনুভূতি- রকিবুল ইসলাম ভাষাপ্রকৌশল ও কালচারাল হেজিমনি: শব্দের আড়ালে ক্ষমতার রাজনীতি ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অভিষেক ও এওয়ার্ড বিতরন অনুষ্ঠান সম্পন্ন পরিমিতির প্রকোষ্ঠে নির্বাসিত অরণ্য – মেশকাতুন নাহার আধিপত্যবাদের নগ্নরূপ: আক্রান্ত ইরান ও সভ্যতার সংকট নিদ্রিত শুদ্ধতার প্রান্তরে অশুদ্ধতার কর্ণভেদী উল্লাস শেরপুরে অসহায় পরিবারের জন্য বসতঘর নির্মাণ ও হস্তান্তর করলো ফ্রান্স ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন সাফ এক বছরে রেকর্ড সংখ্যক আমেরিকান ব্রিটিশ নাগরিকত্ব আবেদন করেছেন সাংবাদিকদের সম্মানে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে জোর তৎপরতা, মার্চে উদ্বোধন

আপোষহীন নেত্রীর চির বিদায় : শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি

  • আপডেট সময় ১০:২২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৭২ বার পড়া হয়েছে

গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘদিনের আশা ও আস্থার প্রতীক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ ৪৩ বছরের আপসহীন ও সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের অবসানে জাতি হারালো এক প্রভাবশালী ও দৃঢ়চেতা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে।

লাজুক গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনীতিক—বেগম খালেদা জিয়ার এই উত্তরণ ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য অধ্যায়। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্যাতন ও বৈরিতার জবাবও তিনি দিয়েছেন শালীনতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষায়।

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু রাজনীতিতেই নয়, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার নেতৃত্বে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়। এ কারণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন গণমুখী রাজনীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।

এভারকেয়ার হাসপাতালে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের ৩৭ দিনের টানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। শেষ সময়ে তার বড় ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গভীর শোক জানিয়েছে। সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুতে বিএনপি সাত দিনের দলীয় শোক ঘোষণা করেছে। গুলশানের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে শোক বই, যেখানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ২৮টি দেশের কূটনীতিক স্বাক্ষর করেছেন। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলই শোক প্রকাশ করেছে।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশান ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। চোখে অশ্রু, হাতে দোয়া—নীরবতা ও আবেগে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

আমাতে তোমার অনুভূতি- রকিবুল ইসলাম

আপোষহীন নেত্রীর চির বিদায় : শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি

আপডেট সময় ১০:২২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

গণতন্ত্রকামী মানুষের দীর্ঘদিনের আশা ও আস্থার প্রতীক, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। ৩০ ডিসেম্বর ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ ৪৩ বছরের আপসহীন ও সংগ্রামী রাজনৈতিক জীবনের অবসানে জাতি হারালো এক প্রভাবশালী ও দৃঢ়চেতা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে।

লাজুক গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনীতিক—বেগম খালেদা জিয়ার এই উত্তরণ ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য অধ্যায়। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে তিনি কখনো আপস করেননি। স্বৈরশাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিটি আন্দোলনে তিনি ছিলেন অগ্রভাগে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নির্যাতন ও বৈরিতার জবাবও তিনি দিয়েছেন শালীনতা ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক ভাষায়।

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু রাজনীতিতেই নয়, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তার নেতৃত্বে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়। এ কারণেই তিনি হয়ে উঠেছিলেন গণমুখী রাজনীতির এক উজ্জ্বল প্রতীক।

এভারকেয়ার হাসপাতালে দেশি-বিদেশি চিকিৎসকদের ৩৭ দিনের টানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো যায়নি। শেষ সময়ে তার বড় ছেলে তারেক রহমান, পুত্রবধূ জুবাইদা রহমান, নাতনি জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শোক প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গভীর শোক জানিয়েছে। সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে এবং আজ বুধবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা আজ দুপুর ২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হবে। পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে দাফন করা হবে।

তার মৃত্যুতে বিএনপি সাত দিনের দলীয় শোক ঘোষণা করেছে। গুলশানের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে শোক বই, যেখানে ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও ২৮টি দেশের কূটনীতিক স্বাক্ষর করেছেন। জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ প্রায় সব রাজনৈতিক দলই শোক প্রকাশ করেছে।

খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল, গুলশান ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করেন নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। চোখে অশ্রু, হাতে দোয়া—নীরবতা ও আবেগে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।