আমি হাসতাম,তুমি হাসতে বলে।
আমি কাঁদতাম,তুমি কাঁদতে বলে।
আমি মুঠো মুঠো দুঃখ কুড়াতাম,তুমি দুঃখিত ছিলে বলে।
আমি সুখ অন্বেষণ করতাম,তুমি সুখী ছিলে বলে।
অভিমানী নেত্র তোমার অশ্রুসিক্ত হলে
অশ্রুসজল হত আমারও দুই নয়ন।
অবসাদগ্রস্থ হলে তুমি লাগত না ভাল কিছুই আমার।
হতাশায় নিমজ্জিত হলে তুমি চরম হতাশায় যেত ডুবে আমারও মনন।
ব্যথিত হলে তুমি হতাম ব্যথিত আমিও।
একাকী কখনো থাকলে তুমি একা হয়ে যেতাম আমিও।
শীতের প্রভাতে রৌদ্রস্নান তোমার ভীষণ প্রিয়!
আমার নিকট তা কিভাবে হবে অপ্রিয়?
শিশির ভেজা দূর্বা ঘাসের উপর হাঁটতে তুমি নগ্ন পায়ে।
আমিও তাই পদযুগলকে নাঙ্গা করে ফেলি সবুজ ঘাস দেখলে।
পাখির কূজন শুনতে তুমি যেতে ব্যকুল ছিলে বন মাঝে।
তারই পথ ধরে এখনো আমি ছুটে যাই সেখানে।
ঝর্ণার গান শুনতে চাইতে বলে
আমিও তার ব্যতিক্রম হইনি কভু তা ভুলে।
তটিনী-র ডাকে ছুটে যেতে বলে
আমিও থাকি সতত তার ধারে দাড়িয়ে।
সমুদ্রের তর্জন-গর্জনে ভীষণ ভীত ছিলে বলে আমিও যাইনি কভু হেথা,হাটিনি তার কূল ঘেষে।
বরষায় ভিজতে বলে আমিও ভিজে যাই শাওয়ার হতে কৃত্রিম বরষার ফোয়ারা ছুটিয়ে।
গুনগুন করে আনমনে গাইতে বলে
আমিও অকস্মাৎ গেয়ে উঠি তোমার মত করে।
পুরুষ মানুষের শব্দ করে কাঁদতে মানা,
অথচ,দুঃখিত হলে তুমি কেঁদে ওঠ শব্দ করে।
তাইতো,আমিও তোমার মতন কেঁদে উঠি
সশব্দে কোন বাঁধা না মেনে।
পার্থক্য রইল শুধু দিনশেষে তোমার-আমার মিলনের!
তুমি এখন গেয়ে যাও জীবনের জয়গান,
আমি এখন গাই,বাজাই শুধু বেদনার ঝংকার!!








