ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ধাতব দ্বৈততার মূল্য-ভ্রান্তি মেশকাতুন নাহার গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় নারীর পিছিয়ে থাকা: একঅদৃশ্য সংকট অহংকারের অদৃশ্য ভুঁড়ি ও নিঃসঙ্গতার নীরব জ্যামিতি ব্রেক্সিট-পরবর্তী নিয়মে কিছু ক্ষেত্রে ইইউ নাগরিকদের আবাসিক অধিকার বাতিল শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ নবকন্ঠ ক্ষুদে ফুটবল টুর্নামেন্টে ফ্রান্স টাইগারকে হারিয়ে ফ্রান্স লায়ন বিজয়ী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফার আলোচনা ‘ইতিবাচক’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ  নিয়ে এরদোয়ানের সঙ্গে ম্যাক্রোঁর আলোচনা বাংলাদেশিদের ভিসা নিয়ে ভিসা নিয়ে ইউরোপের ১৩ দেশের যৌথ নির্দেশনা ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে ‌‘বাস্তবায়নযোগ্য’ বললেন ট্রাম্প

গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় নারীর পিছিয়ে থাকা: একঅদৃশ্য সংকট

  • আপডেট সময় ০৯:১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ড. মো: বিল্লাল হোসেন : বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন, প্রযুক্তিঅর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগণিত ভিত্তিক শিক্ষাএই ক্ষেত্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে বলাহয় STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) Education.কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো,বিশ্বব্যাপী নারীদেরঅংশগ্রহণ এখনো এই ক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমএকবিংশশতাব্দীর এই সময়েও গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় নারীদের পিছিয়ে থাকাশিক্ষাব্যবস্থার এক অদৃশ্য সংকটই বলা যায়

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিবেদনে দেখা যায় যে বিশ্বে STEM বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩৫%। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও কমযেমনকৃত্রিমবুদ্ধিমত্তাডেটা সায়েন্স এইসব খাতে নারীর অংশ মাত্র ২৬%, প্রকৌশলে প্রায় ১৫%, আর ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে মাত্র ১২%। গবেষণাআরও দেখায় বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে নারীর অংশ প্রায় ৩৩%। অর্থ্যাশিক্ষা ব্যবস্থায় মেয়েরা সাধারণ শিক্ষায় এগিয়ে থাকলেও গণিতবিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয়ে তাদের উপস্থিতি এখনও সীমিত

গবেষণায় দেখা গেছে যে গণিত দক্ষতায় মেয়েরা প্রায়শই ছেলেদের সমানবা কখনো বেশি ভালো ফলাফল করলেও  আত্মবিশ্বাসের অভাবেঅনেক শিক্ষার্থী গণিতকে কঠিন বাছেলেদের বিষয়হিসেবে মনে করে।ফলে STEM বিষয়গুলোতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ কমদেখা যায়সামাজিকসাংস্কৃতিক ধ্যানধারণার কারনে অনেক সমাজেএখনও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বা প্রকৌশলকে পুরুষপ্রধান পেশা হিসেবে দেখাহয়এই ধরনের সামাজিক ধারণা ছোটবেলা থেকেই মেয়েদেরমানসিকতায় প্রভাব ফেলেপরিবার, শিক্ষক বা সমাজ নিজেদেরঅজান্তেই মেয়েদের প্রকৌশল বা প্রযুক্তি বিষয়ে কম উৎসাহ দেয়

পাঠ্যবইশিক্ষাব্যবস্থায় একধরনের  লুকানো পক্ষপাত থাকে যেমনপাঠ্যক্রমশ্রেণিকক্ষের উপস্থাপনায় প্রায়শই পুরুষ বিজ্ঞানীউদ্ভাবকদের উদাহরণ বেশি থাকেফলে মেয়েরা নিজেদের জন্য রোলমডেল কম খুঁজে পায়গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় মেয়েদের পিছিয়ে থাকাকেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয় এটি শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগতসংকটও। STEM বিষয়ে নারী শিক্ষকগবেষকের সংখ্যা কম হওয়ায়মেয়েরা অনুপ্রেরণার উৎস কম পায়যখন শিক্ষার্থীরা তাদের মতোকাউকে সফল হতে দেখে না, তখন সেই ক্ষেত্রের প্রতি আগ্রহও কমে যায়

সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে  শৈশব থেকেই শিশুদের গণিতবিজ্ঞানভীতিদূর করা, প্রাথমিক স্তর থেকেই অনুসন্ধানভিত্তিকআনন্দময় গণিত-বিজ্ঞান শিক্ষা চালু করা, গণিতকে কঠিন নয় বরং সমস্যা সমাধানেরআনন্দ হিসেবে উপস্থাপন করা জরুরিনারী রোল মডেল তৈরি করাএবং মেয়েদের সামনে সফল নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলীপ্রযুক্তিবিদদেরউদাহরণ তুলে ধরতে হবেএতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বেমেয়েদেরজন্য STEM বিষয়ে বৃত্তি, গবেষণা অনুদান, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণমেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজনশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমেশ্রেণিকক্ষে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা জরুরিশিক্ষক যদি মেয়েদেরসমানভাবে উৎসাহ দেন, তাহলে অংশগ্রহণও বাড়বে

বিশ্বের কিছু কিছু দেশে STEM শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণতুলনামূলকভাবে বেশিএর প্রধান কারণ হলোসুশৃঙ্খল শিক্ষা নীতি, লিঙ্গসমতার সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি শিক্ষায় সরকারি উৎসাহযেমনরোমানিয়া, পোল্যান্ড, গ্রিস, ইতালি।  রোমানিয়ায় STEM গ্র্যাজুয়েটদেরমধ্যে নারীর হার প্রায় ৪২.৫%। দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এমনকি কিছু উন্নত দেশেও নারীরা গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় পিছিয়ে তথাSTEM শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমএই পিছিয়েথাকার প্রধান কারণ হলো সামাজিক ধারণা অর্থাবিজ্ঞানপ্রকৌশলকেপুরুষের পেশাহিসেবে দেখা হয়গণিতভীতিআত্মবিশ্বাসের অভাব, রোল মডেলের অভাব, নারী বিজ্ঞানীর সংখ্যাকম হওয়ায় অনুপ্রেরণা কম

বাংলাদেশে মেয়েদের সাধারণ শিক্ষায় অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যস্কুলকলেজে মেয়েদের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের সমান বা বেশিতবেSTEM বিষয়ে এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যেমনমাধ্যমিক পর্যায়েবিজ্ঞান বিভাগে মেয়েদের সংখ্যা তুলনামূলক কমবিজ্ঞান গবেষণাপ্রতিষ্ঠানপ্রযুক্তি খাতে নারী গবেষকের সংখ্যা কম।  গণিতবিজ্ঞানশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের বৈষম্য একটি বৈশ্বিক বাস্তবতাকোথাওনীতিসামাজিক সহায়তার কারণে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, আবারকোথাও সামাজিক মানসিকতাশিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেতারা পিছিয়ে পড়ছেতাই ভবিষ্যতের শিক্ষা পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণশৈশব থেকেই গণিতভীতি দূর করা, নারী বিজ্ঞানীররোল মডেল তুলে ধরা, মেয়েদের জন্য প্রযুক্তিগবেষণা সুযোগ বৃদ্ধিকরা।তবে ইতিবাচক দিক হলো এসব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দ্রুতবাড়ছে

গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় মেয়েদের পিছিয়ে থাকা কেবল একটিপরিসংখ্যানগত সমস্যা নয়, এটি সমাজের ভবিষ্যউন্নয়নের সঙ্গেওগভীরভাবে জড়িতআধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞানপ্রযুক্তি মানবসভ্যতারঅগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।  অতএব, গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায়মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো কেবল নারী উন্নয়নের বিষয়ই নয় বরং এটিটেকসই উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনেরঅপরিহার্য শর্তএই অদৃশ্য সংকট চিহ্নিত করে শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকরপদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই। 

লেখক : উপাধ্যক্ষ, মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাঁচপুর, সোনারগাঁও, নারায়নগঞ্ ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ধাতব দ্বৈততার মূল্য-ভ্রান্তি মেশকাতুন নাহার

গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় নারীর পিছিয়ে থাকা: একঅদৃশ্য সংকট

আপডেট সময় ০৯:১২:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ড. মো: বিল্লাল হোসেন : বর্তমান বিশ্বে উন্নয়ন, প্রযুক্তিঅর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগণিত ভিত্তিক শিক্ষাএই ক্ষেত্রগুলোকে সম্মিলিতভাবে বলাহয় STEM (Science, Technology, Engineering, Mathematics) Education.কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো,বিশ্বব্যাপী নারীদেরঅংশগ্রহণ এখনো এই ক্ষেত্রগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমএকবিংশশতাব্দীর এই সময়েও গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় নারীদের পিছিয়ে থাকাশিক্ষাব্যবস্থার এক অদৃশ্য সংকটই বলা যায়

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিবেদনে দেখা যায় যে বিশ্বে STEM বিষয়ে স্নাতক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র প্রায় ৩৫%। প্রযুক্তিনির্ভর কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও কমযেমনকৃত্রিমবুদ্ধিমত্তাডেটা সায়েন্স এইসব খাতে নারীর অংশ মাত্র ২৬%, প্রকৌশলে প্রায় ১৫%, আর ক্লাউড কম্পিউটিংয়ে মাত্র ১২%। গবেষণাআরও দেখায় বিশ্বব্যাপী গবেষকদের মধ্যে নারীর অংশ প্রায় ৩৩%। অর্থ্যাশিক্ষা ব্যবস্থায় মেয়েরা সাধারণ শিক্ষায় এগিয়ে থাকলেও গণিতবিজ্ঞান ভিত্তিক বিষয়ে তাদের উপস্থিতি এখনও সীমিত

গবেষণায় দেখা গেছে যে গণিত দক্ষতায় মেয়েরা প্রায়শই ছেলেদের সমানবা কখনো বেশি ভালো ফলাফল করলেও  আত্মবিশ্বাসের অভাবেঅনেক শিক্ষার্থী গণিতকে কঠিন বাছেলেদের বিষয়হিসেবে মনে করে।ফলে STEM বিষয়গুলোতে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ কমদেখা যায়সামাজিকসাংস্কৃতিক ধ্যানধারণার কারনে অনেক সমাজেএখনও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বা প্রকৌশলকে পুরুষপ্রধান পেশা হিসেবে দেখাহয়এই ধরনের সামাজিক ধারণা ছোটবেলা থেকেই মেয়েদেরমানসিকতায় প্রভাব ফেলেপরিবার, শিক্ষক বা সমাজ নিজেদেরঅজান্তেই মেয়েদের প্রকৌশল বা প্রযুক্তি বিষয়ে কম উৎসাহ দেয়

পাঠ্যবইশিক্ষাব্যবস্থায় একধরনের  লুকানো পক্ষপাত থাকে যেমনপাঠ্যক্রমশ্রেণিকক্ষের উপস্থাপনায় প্রায়শই পুরুষ বিজ্ঞানীউদ্ভাবকদের উদাহরণ বেশি থাকেফলে মেয়েরা নিজেদের জন্য রোলমডেল কম খুঁজে পায়গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় মেয়েদের পিছিয়ে থাকাকেবল একটি সামাজিক সমস্যা নয় এটি শিক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগতসংকটও। STEM বিষয়ে নারী শিক্ষকগবেষকের সংখ্যা কম হওয়ায়মেয়েরা অনুপ্রেরণার উৎস কম পায়যখন শিক্ষার্থীরা তাদের মতোকাউকে সফল হতে দেখে না, তখন সেই ক্ষেত্রের প্রতি আগ্রহও কমে যায়

সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে  শৈশব থেকেই শিশুদের গণিতবিজ্ঞানভীতিদূর করা, প্রাথমিক স্তর থেকেই অনুসন্ধানভিত্তিকআনন্দময় গণিত-বিজ্ঞান শিক্ষা চালু করা, গণিতকে কঠিন নয় বরং সমস্যা সমাধানেরআনন্দ হিসেবে উপস্থাপন করা জরুরিনারী রোল মডেল তৈরি করাএবং মেয়েদের সামনে সফল নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলীপ্রযুক্তিবিদদেরউদাহরণ তুলে ধরতে হবেএতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বেমেয়েদেরজন্য STEM বিষয়ে বৃত্তি, গবেষণা অনুদান, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণমেন্টরশিপ প্রোগ্রাম চালু করা প্রয়োজনশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমেশ্রেণিকক্ষে লিঙ্গসমতা নিশ্চিত করা জরুরিশিক্ষক যদি মেয়েদেরসমানভাবে উৎসাহ দেন, তাহলে অংশগ্রহণও বাড়বে

বিশ্বের কিছু কিছু দেশে STEM শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণতুলনামূলকভাবে বেশিএর প্রধান কারণ হলোসুশৃঙ্খল শিক্ষা নীতি, লিঙ্গসমতার সংস্কৃতি এবং প্রযুক্তি শিক্ষায় সরকারি উৎসাহযেমনরোমানিয়া, পোল্যান্ড, গ্রিস, ইতালি।  রোমানিয়ায় STEM গ্র্যাজুয়েটদেরমধ্যে নারীর হার প্রায় ৪২.৫%। দক্ষিণ এশিয়া, পূর্ব এশিয়া এবং এমনকি কিছু উন্নত দেশেও নারীরা গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় পিছিয়ে তথাSTEM শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমএই পিছিয়েথাকার প্রধান কারণ হলো সামাজিক ধারণা অর্থাবিজ্ঞানপ্রকৌশলকেপুরুষের পেশাহিসেবে দেখা হয়গণিতভীতিআত্মবিশ্বাসের অভাব, রোল মডেলের অভাব, নারী বিজ্ঞানীর সংখ্যাকম হওয়ায় অনুপ্রেরণা কম

বাংলাদেশে মেয়েদের সাধারণ শিক্ষায় অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যস্কুলকলেজে মেয়েদের উপস্থিতি অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের সমান বা বেশিতবেSTEM বিষয়ে এখনও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে যেমনমাধ্যমিক পর্যায়েবিজ্ঞান বিভাগে মেয়েদের সংখ্যা তুলনামূলক কমবিজ্ঞান গবেষণাপ্রতিষ্ঠানপ্রযুক্তি খাতে নারী গবেষকের সংখ্যা কম।  গণিতবিজ্ঞানশিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণের বৈষম্য একটি বৈশ্বিক বাস্তবতাকোথাওনীতিসামাজিক সহায়তার কারণে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, আবারকোথাও সামাজিক মানসিকতাশিক্ষাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণেতারা পিছিয়ে পড়ছেতাই ভবিষ্যতের শিক্ষা পরিকল্পনায় তিনটি বিষয়অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণশৈশব থেকেই গণিতভীতি দূর করা, নারী বিজ্ঞানীররোল মডেল তুলে ধরা, মেয়েদের জন্য প্রযুক্তিগবেষণা সুযোগ বৃদ্ধিকরা।তবে ইতিবাচক দিক হলো এসব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ দ্রুতবাড়ছে

গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায় মেয়েদের পিছিয়ে থাকা কেবল একটিপরিসংখ্যানগত সমস্যা নয়, এটি সমাজের ভবিষ্যউন্নয়নের সঙ্গেওগভীরভাবে জড়িতআধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞানপ্রযুক্তি মানবসভ্যতারঅগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।  অতএব, গণিতবিজ্ঞান শিক্ষায়মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানো কেবল নারী উন্নয়নের বিষয়ই নয় বরং এটিটেকসই উন্নয়ন, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনেরঅপরিহার্য শর্তএই অদৃশ্য সংকট চিহ্নিত করে শিক্ষাব্যবস্থায় কার্যকরপদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনই। 

লেখক : উপাধ্যক্ষ, মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, কাঁচপুর, সোনারগাঁও, নারায়নগঞ্ ।