ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ইতালিতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল রোমে সিলেট স্পোর্টিং ক্লাব ইতালির জার্সি উন্মোচন ফ্রান্সের তুলুজে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন সর্বোচ্চ সৌদি আরব, দ্বিতীয় যুক্তরাজ্য, কমেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ নিয়ে সুখবর সাংবাদিক বকসি ইকবাল আহমেদ এর সম্মানে ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রীতিসভা গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র সম্মেলন ২০২৬ লন্ডনের ইস্ট এন্ডে বাঙালিদের ফুটবল ঐতিহ্যের ৫০ বছরেরইতিহাস সংরক্ষণে নতুন প্রকল্প প্রবাসীদের ভালোবাসা নিয়ে রোম থেকে সুইডেনের পথে জার্মানির ট্রেন স্টেশনে বিস্ফোরণে আহত ২, বন্ধ স্টেশন

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ

  • আপডেট সময় ০৯:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১৩ বার পড়া হয়েছে

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না—বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব দেবে জনগণ, ওয়েলস আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সবায় এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা ।

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-কে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ। 

এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রবিরোধী ও ইতিহাসবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা  মোহাম্মদ  মকিস মনসুর এবং  ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন ছাত্রনেতা আব্দুল মালিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যা ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে পরবর্তীতে কথিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা হয়েছে, যা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক বহুমত এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দেয় এবং গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নির্ভর করে জনগণের সমর্থনের ওপর। জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কোনো সংগঠনকে দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা বা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। বরং এসব পদক্ষেপ সমাজে অস্থিরতা, বিভাজন এবং অনাস্থা সৃষ্টি করে।
নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে উল্লেখ করেন, দলটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের আমলে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ অধ্যাদেশের আওতায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দেয়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করলেও, সেই দমন-পীড়ন বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক হামলা ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েও দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না—বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব দেবে জনগণ বলে উল্লেখ করে
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা গণমানুষের সংগঠন। এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে যার স্থান—কোনো কাগুজে আইনে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের নাম, মানচিত্র, স্বাধীনতা, সংবিধান—এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এগুলো এক দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ফল, যেখানে নেতৃত্ব, ত্যাগ আর সংগ্রাম মিলেই রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে বলে অভিমত ব্যাক্ত করে 

বিবৃতিতে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় সব বাধা অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ইতালিতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ

আপডেট সময় ০৯:৩৬:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না—বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব দেবে জনগণ, ওয়েলস আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সবায় এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা ।

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-কে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ। 

এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রবিরোধী ও ইতিহাসবিরোধী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ওয়েলস আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক ছাত্রনেতা  মোহাম্মদ  মকিস মনসুর এবং  ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন ছাত্রনেতা আব্দুল মালিকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় সংসদকে কলঙ্কিত করা হয়েছে, যা ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে পরবর্তীতে কথিত জাতীয় সংসদের মাধ্যমে আইনে পরিণত করা হয়েছে, যা কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, রাজনৈতিক বহুমত এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দেয় এবং গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব নির্ভর করে জনগণের সমর্থনের ওপর। জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া কোনো সংগঠনকে দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা বা আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে নির্মূল করা সম্ভব নয়। বরং এসব পদক্ষেপ সমাজে অস্থিরতা, বিভাজন এবং অনাস্থা সৃষ্টি করে।
নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের ইতিহাস তুলে ধরে উল্লেখ করেন, দলটি তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রায় একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছে। ১৯৫৮ সালে সামরিক শাসক আইয়ুব খানের আমলে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ অধ্যাদেশের আওতায় আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হয়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফার মাধ্যমে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জনগণ আওয়ামী লীগের প্রতি নিরঙ্কুশ সমর্থন দেয়।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রদ্রোহী ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করলেও, সেই দমন-পীড়ন বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। একইভাবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক হামলা ও ষড়যন্ত্রের মধ্য দিয়েও দলটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে।

ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না—বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব দেবে জনগণ বলে উল্লেখ করে
নেতৃবৃন্দ বলেন, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দল নয়, এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা গণমানুষের সংগঠন। এদেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে যার স্থান—কোনো কাগুজে আইনে তা মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের নাম, মানচিত্র, স্বাধীনতা, সংবিধান—এসব কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা না। এগুলো এক দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের ফল, যেখানে নেতৃত্ব, ত্যাগ আর সংগ্রাম মিলেই রাষ্ট্র গঠিত হয়েছে বলে অভিমত ব্যাক্ত করে 

বিবৃতিতে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতায় সব বাধা অতিক্রম করে আওয়ামী লীগ আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। একই সঙ্গে তারা গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।