স্বর্ণমুদ্রা ঝলসে ওঠে রাজপথের শীর্ষ আলোয়,
তাম্রমুদ্রা পড়ে থাকে ধুলো জমা পথের ঢালোয়।
দু’টিই গড়া আগুনে, একই দহন, একই ঢালাই,
তবু একটির জন্য মেলা বসে, অন্যটি অবহেলায় ঠাঁই।
স্বর্ণের ঝংকারে খুলে যায় অগণিত দ্বারের কপাট,
তাম্রের স্পর্শে নড়ে না কোনো বন্ধ সম্ভ্রমের আঘাট।
একটি হাতে হাতে ঘুরে ক্ষমতার উষ্ণ পরশে,
অন্যটি হারায় নিঃশব্দে সময়ের দুখের নিঃশ্বাসে।
দু’টিরই ওজন সমান, একই ইতিহাসের রেখা,
তবু রঙের প্রলেপে বদলে যায় মূল্যবোধের লেখা।
স্বর্ণমুদ্রা উঠে যায় সিংহাসনের অলঙ্কার হয়ে,
তাম্রমুদ্রা মিশে থাকে জনতার নীরব ক্ষয়ে।
একটির নামে লেখা হয় কীর্তির দীপ্ত অধ্যায়,
অন্যটির কথা চাপা পড়ে বিস্মৃতির অন্ধকার ছায়ায়।
তবু গভীর খনিতে, সময়ের অদৃশ্য বিচারকালে,
তাম্রমুদ্রাই টিকে থাকে মাটির চিরন্তন জ্বালে।
কারণ স্বর্ণ ক্ষণিক জৌলুস—অবস্থানের উঁচু সিঁড়ি,
তাম্রের বুকে থাকে ইতিহাস—নির্ভীক, নির্লোভ কুঁড়ি।
শেষে সব আলো নিভে গেলে, সব পরিচয় গেলে ঝরে,
ধাতুর সত্যই জাগে—সমতার নির্মম সত্যের নীড়ে।


















