ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শহীদ হাদি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নগরীতে পদযাত্রা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্কিত সাফল্য অর্জন সম্ভব- ব্যারিস্টার এম এ সালাম সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন :  সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সাথে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও ফ্রান্স দর্পণ পরিবার মত বিনিময় বিদায়ী শিক্ষকদের সংবর্ধনা ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান আপোষহীন নেত্রীর চির বিদায় : শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি এনসিপি থেকে তাসনিম জারার পদত্যাগ, নির্বাচন নিয়ে নতুন ঘোষণা

নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

  • আপডেট সময় ০৯:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯
  • ১২৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ইতোমধ্যেই একটি ‘ভোটিং ব্লক’ গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় প্রবাসীরা। এই ব্লক সেসব প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণায় সহায়তা দেবে যারা বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস (বিএপিপি)। এমন এক সময়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করলো যখন নিউইয়র্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থানেও রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক রাজনৈতিক পদ-পদবীর জন্য লড়াই করছেন।

বিএপিপি বলছে, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিজ কমিউনিটির মানুষদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সজাগ করে তোলা, নতুন ভোটারদের নিবন্ধন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার বাড়ানো। তাদের ফোকাস থাকবে ইমিগ্রেশন ও আবাসনের মতো ইস্যু যা কমিউনিটিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই উদ্যোগে তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়া মিলছে তা উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। অন্যান্য প্রগতিশীল সংস্থাগুলো থেকেও ইতিবাচক বার্তা পাচ্ছেন তারা।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক খ্যাতনামা মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট লিন্ডা সারসৌর। তিনি বলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান কমিউনিটিকে একটি শক্তি হিসাবে গণ্য করা যায়।

২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ২০২০ সালের নির্বাচনেও নিজ দলে তাকে একজন শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বার্নি স্যান্ডার্স-এর সমর্থক একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি-আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস-এর পক্ষে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বার্নি স্যান্ডার্স যে ধরনের রাজনৈতিক বিপ্লবের কথা বলে আসছেন; এই উদ্যোগ তেমনই একটি পদক্ষেপ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অভিবাসী জনসংখ্যা নিউইয়র্কের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল সম্প্রদায়। এই শহরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের বাসস্থান।

ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি বরাবরই দেশটির ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে তরুণ প্রজন্ম দলটির প্রগতিশীল অংশটির দিকেও ঝুঁকছে।

এই সমর্থনের বিষয়টি গত বছর বেশ লক্ষ্যণীয় হয়। তখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ-এর প্রতি ব্যাপকভাবে সমর্থন ব্যক্ত করে।

তার বিজয় দৃশ্যত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্য থেকে আরও কয়েকজনকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনুপ্রাণিত করেছে। এদের একজন শাহানা হানিফ। নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

শাহানা হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নিই ইয়র্কের সর্বত্রই বাংলাদেশিরা রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মূলত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরাই ছিল এ নির্বাচনের নিয়ামক শক্তি।

শাহানা হানিফ বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস (বিএপিপি) আমাদের নির্বাচনি শক্তি এগিয়ে নিতে শহরজুড়ে বাংলাদেশিদের একত্রিত করছে।

বিএপিপি আপাতত কুইন্স, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের মতো স্থানগুলোতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেসব এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক উপস্থিতি রয়েছে। এ উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করতে পারে।

উৎস : বাংলা ট্রিবিউন

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

Priority Seats: But Where Is Humanity?

নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

আপডেট সময় ০৯:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ইতোমধ্যেই একটি ‘ভোটিং ব্লক’ গঠনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় প্রবাসীরা। এই ব্লক সেসব প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারণায় সহায়তা দেবে যারা বাংলাদেশি কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই উদ্যোগের নাম দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশি-আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস (বিএপিপি)। এমন এক সময়ে সংগঠনটি যাত্রা শুরু করলো যখন নিউইয়র্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থানেও রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক রাজনৈতিক পদ-পদবীর জন্য লড়াই করছেন।

বিএপিপি বলছে, তাদের লক্ষ্য হচ্ছে নিজ কমিউনিটির মানুষদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সজাগ করে তোলা, নতুন ভোটারদের নিবন্ধন এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার বাড়ানো। তাদের ফোকাস থাকবে ইমিগ্রেশন ও আবাসনের মতো ইস্যু যা কমিউনিটিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই উদ্যোগে তাৎক্ষণিক যে প্রতিক্রিয়া মিলছে তা উৎসাহব্যঞ্জক হিসেবেই প্রতীয়মান হচ্ছে। অন্যান্য প্রগতিশীল সংস্থাগুলো থেকেও ইতিবাচক বার্তা পাচ্ছেন তারা।

টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে এ নিয়ে কথা বলেছেন নিউ ইয়র্কভিত্তিক খ্যাতনামা মুসলিম অ্যাক্টিভিস্ট লিন্ডা সারসৌর। তিনি বলেন, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান কমিউনিটিকে একটি শক্তি হিসাবে গণ্য করা যায়।

২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একজন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ২০২০ সালের নির্বাচনেও নিজ দলে তাকে একজন শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বার্নি স্যান্ডার্স-এর সমর্থক একটি গ্রুপের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশি-আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস-এর পক্ষে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বার্নি স্যান্ডার্স যে ধরনের রাজনৈতিক বিপ্লবের কথা বলে আসছেন; এই উদ্যোগ তেমনই একটি পদক্ষেপ।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অভিবাসী জনসংখ্যা নিউইয়র্কের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল সম্প্রদায়। এই শহরেই যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটির সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষের বাসস্থান।

ঐতিহ্যগতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি বরাবরই দেশটির ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে তরুণ প্রজন্ম দলটির প্রগতিশীল অংশটির দিকেও ঝুঁকছে।

এই সমর্থনের বিষয়টি গত বছর বেশ লক্ষ্যণীয় হয়। তখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও কর্টেজ-এর প্রতি ব্যাপকভাবে সমর্থন ব্যক্ত করে।

তার বিজয় দৃশ্যত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্য থেকে আরও কয়েকজনকে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে অনুপ্রাণিত করেছে। এদের একজন শাহানা হানিফ। নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি।

শাহানা হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নিই ইয়র্কের সর্বত্রই বাংলাদেশিরা রয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মূলত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরাই ছিল এ নির্বাচনের নিয়ামক শক্তি।

শাহানা হানিফ বলেন, বাংলাদেশি-আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস (বিএপিপি) আমাদের নির্বাচনি শক্তি এগিয়ে নিতে শহরজুড়ে বাংলাদেশিদের একত্রিত করছে।

বিএপিপি আপাতত কুইন্স, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের মতো স্থানগুলোতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যেসব এলাকায় বাংলাদেশি কমিউনিটির বিপুল সংখ্যক উপস্থিতি রয়েছে। এ উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঞ্চলেও বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করতে পারে।

উৎস : বাংলা ট্রিবিউন