ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিজের জমিতে বেড়া দেয়ার অপরাধে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশীকে খুন করল বিএসএফ

  • আপডেট সময় ০৫:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০
  • ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড় সদর উপজেলার রতনীবাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে গুরুত্বর আহত শিক্ষার্থী শিমন রায় (১৭) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রাত সাড়ে আটটায় সে মারা যায়। তার সঙ্গে যাওয়া প্রতিবেশি যুবক রাজ্জাকুল ইসলাম মুঠোফোনে রাত নয়টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সে এবার এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে রতনীবাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্তের গ্রামের পরেশ চন্দ্র রায় ছেলে শিমুন রায়সহ ৭৬২ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছে বাংলাদেশি এলাকায় নিজেদের পাটক্ষেত নেটের জাল দিয়ে ঘেরা দিচ্ছিল। বেলা তিনটার দিকে ভারতের সাকাতি সীমান্ত ফাঁড়ির একদল বিএসএফ সদস্য ঘটনাস্থল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে বেড়া দিতে নিষেধ করে।  এ সময় শিমুন রায় নিজের জমিতে বেড়া দিচ্ছে বলে জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক বেধে যায়। এক পর্যায়ে এক বিএসএফ সদস্য শিমুনকে খুব কাছে থেকে পেটের মধ্যে গুলি করে চলে যায়।

গুলি পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। শিমুনের ভুড়ি বেরিয়ে গেছে। এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে নেয়া হয়।
শিমনের বাবা পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি বেলা তিনটার দিকে ছেলেসহ নিজেদের পাট ক্ষেতে জালের বেড়া দিচ্ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর বিএসএফ সদস্যরা পাট ক্ষেতে জালের বেড়া দিতে নিষেধ করে। আমার ছেলে বলে নিজের জমিতে বেড়া দিচ্ছি। এ সময় একজন সদস্য লাঠি নিয়ে তাঁর কাছে আসে। এমন সময় এক বিএসএফ সদস্য তাকে খুব কাছ থেকে পেটের মধ্যে গুলি করে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎস তোফায়েল আহমদ জানান, একটি গুলি পেট দিয়ে ঢুকে পিট দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এতে তাঁর শরীরের নাড়ী ভুড়ি বেরিয়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা গুরুত্বর ছিল।
বিজিবির নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল মামুনুল হক জানান, আমরা খবর পেয়ে বিএসফের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়ে পতাকা বৈঠকের আহবান জানানো হয় কিন্তু বিএসএফ সাড়া দেয়নি। আসলে ঘটনাটি কি ঘটেছে তা পতাকা বৈঠকের পর প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। তখন আপনাদের প্রকৃত ঘটনা জানানো যাবে।

মানব জমিন সূত্রে

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বসন্ত উৎসব – বিপুল চন্দ্র রায়

নিজের জমিতে বেড়া দেয়ার অপরাধে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশীকে খুন করল বিএসএফ

আপডেট সময় ০৫:৩৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

পঞ্চগড় সদর উপজেলার রতনীবাড়ি প্রধানপাড়া সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে গুরুত্বর আহত শিক্ষার্থী শিমন রায় (১৭) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রাত সাড়ে আটটায় সে মারা যায়। তার সঙ্গে যাওয়া প্রতিবেশি যুবক রাজ্জাকুল ইসলাম মুঠোফোনে রাত নয়টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সে এবার এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা দিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেলে রতনীবাড়ী প্রধানপাড়া সীমান্তের গ্রামের পরেশ চন্দ্র রায় ছেলে শিমুন রায়সহ ৭৬২ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের কাছে বাংলাদেশি এলাকায় নিজেদের পাটক্ষেত নেটের জাল দিয়ে ঘেরা দিচ্ছিল। বেলা তিনটার দিকে ভারতের সাকাতি সীমান্ত ফাঁড়ির একদল বিএসএফ সদস্য ঘটনাস্থল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে এসে বেড়া দিতে নিষেধ করে।  এ সময় শিমুন রায় নিজের জমিতে বেড়া দিচ্ছে বলে জানান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে তর্ক বেধে যায়। এক পর্যায়ে এক বিএসএফ সদস্য শিমুনকে খুব কাছে থেকে পেটের মধ্যে গুলি করে চলে যায়।

গুলি পেট দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। শিমুনের ভুড়ি বেরিয়ে গেছে। এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে পঞ্চগড় হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় রংপুর মেডিকেলে নেয়া হয়।
শিমনের বাবা পরেশ চন্দ্র রায় বলেন, আমি বেলা তিনটার দিকে ছেলেসহ নিজেদের পাট ক্ষেতে জালের বেড়া দিচ্ছিলাম। এর কিছুক্ষণ পর বিএসএফ সদস্যরা পাট ক্ষেতে জালের বেড়া দিতে নিষেধ করে। আমার ছেলে বলে নিজের জমিতে বেড়া দিচ্ছি। এ সময় একজন সদস্য লাঠি নিয়ে তাঁর কাছে আসে। এমন সময় এক বিএসএফ সদস্য তাকে খুব কাছ থেকে পেটের মধ্যে গুলি করে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎস তোফায়েল আহমদ জানান, একটি গুলি পেট দিয়ে ঢুকে পিট দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এতে তাঁর শরীরের নাড়ী ভুড়ি বেরিয়ে গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা গুরুত্বর ছিল।
বিজিবির নীলফামারী ৫৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল মামুনুল হক জানান, আমরা খবর পেয়ে বিএসফের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করছি। এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রতিবাদ পত্র পাঠিয়ে পতাকা বৈঠকের আহবান জানানো হয় কিন্তু বিএসএফ সাড়া দেয়নি। আসলে ঘটনাটি কি ঘটেছে তা পতাকা বৈঠকের পর প্রকৃত তথ্য জানা যাবে। তখন আপনাদের প্রকৃত ঘটনা জানানো যাবে।

মানব জমিন সূত্রে