ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সাংবাদিকদের সম্মানে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে জোর তৎপরতা, মার্চে উদ্বোধন উচ্চশিক্ষায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের এখন শীর্ষ গন্তব্য তুরস্ক সংযমের আয়নায় আত্মার বিচার – মেশকাতুন নাহার অক্ষরের রক্তজবা – মাহবুব শাহজালাল আন্দ্রে বেতেই: মানবিক সমাজবোধের অনন্য উত্তরাধিকারী কারিগরি শিক্ষার প্রসার হোক নির্বাচিত সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ইউকে বাংলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অভিষেক অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের পৌর নির্বাচনে ডেপুটি এবং কাউন্সিলর পদে লড়ছে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ফরাসীরা সত্যিকার অর্থেই দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন

প্রতীকের রাজনীতি: প্রার্থী নয়, প্রতীকই আসল পরিচয়

  • আপডেট সময় ০৪:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০১ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ শাহ আলম : বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রতীকের গুরুত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক ছড়িয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন বললেন— “প্রতীক দেখে ভোট দিন”, তখন সামাজিক মাধ্যমে কিছু মহল বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করল। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই বক্তব্য শতভাগ রাজনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত এবং প্রথাসঙ্গত।

প্রতীকই কেন মুখ্য?

জাতীয় নির্বাচনে প্রতীকই মূল পরিচয়—এটি কোনো নতুন কথা নয়।
প্রার্থী যদি মুখ্য হতেন, তবে দলগুলো কেন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দরজায় এতবার কড়া নাড়ে?
এনসিপির উদাহরণই যথেষ্ট:
প্রথমে “শাপলা”, পরে “শাপলা”, শেষে এসে “শাপলা কলি”—এভাবে প্রতীকের কারণেই তাদের দিন কাটাতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রহর গুনে।

অন্যদিকে, তারেক রহমান নিজে যদি মনোনয়ন দিতেন, তখন কি বলতেন—“মানুষ দেখে ভোট দিন”? নিশ্চয়ই না। সুতরাং তাঁর বক্তব্য ভণ্ডামিমুক্ত; সরল, স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নির্বাচনী মিথ ও প্রতীকের ধর্মীয় রঙ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতীক কেবল ভোটের চিহ্ন নয়—এটি একটি আবেগের ধারক। তাই বিভিন্ন দল বছরের পর বছর প্রতীকের সঙ্গে ‘অলৌকিক’ গল্প জুড়ে ভোটারদের প্রভাবিত করে এসেছে।

জামাত দাড়িপাল্লাকে কখনো “মিজান”, কখনো “আখেরাতের প্রতীক” বানিয়ে ভোটারকে বিভ্রান্ত করেছে।

শেখ হাসিনা নৌকাকে “নুহ নবির নৌকা” বলে নিজের রাজনৈতিক প্রচারণাকে ধর্মীয় সুরে বাঁধতে চেয়েছেন।

এরশাদ লাঙল দেখেছেন উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে।

কিন্তু বিজ্ঞান-প্রযুক্তির যুগে দাড়িপাল্লা দিয়ে কেউ আর ওজন করে না—এটির মাধ্যমে প্রতারণাই বেশি হতো।
নৌকায়ও সবার ওঠার সুযোগ থাকত না; ‘বিশেষ পছন্দের’ মানুষদেরই আশ্রয় মিলত।
লাঙল আজ রঙিন পোস্টারে থাকে, মাঠে চলে ট্রাক্টর।

ধানের শীষ—প্রকৃতির প্রতীক, মানুষের প্রতীক

এই পুরো প্রতীক-রাজনীতির ভিড়েও বিএনপি কখনো ধানের শীষকে ধর্মীয় বা অলৌকিক রূপ দেয়নি। তারা সর্বোচ্চ বলে—
“লাগারে লাগা, ধান লাগা।”
এটি মানুষের জীবনযাপন, কৃষি ও উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত বাস্তব প্রতীক।
এখানে নেই মিথ, নেই অন্ধ আবেগ, নেই ধর্মীয় বিভাজন।

ধান এখনো আমাদের সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে ফাস্ট ফুডে চলে গেলে হয়তো ধান থেকে সরে আসবে—কিন্তু সেই দিন এখনো আসেনি।
নিজে ডায়েট করে দেখেছি—শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয় ভাতেই।
কারণ সত্যি কথা হলো—
মাছে-ভাতে আমরা বাঙালি।

শেষ কথা

যারা তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা আসলে নির্বাচনী বাস্তবতাকে অস্বীকার করছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীকই প্রার্থীকে পরিচিত করে, দলকে চেনায় এবং ভোটারের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে।

এই সত্য বদলায়নি—আগেও নয়, এখনো নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

সাংবাদিকদের সম্মানে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ইফতার মাহফিল

প্রতীকের রাজনীতি: প্রার্থী নয়, প্রতীকই আসল পরিচয়

আপডেট সময় ০৪:২২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

মোহাম্মদ শাহ আলম : বাংলাদেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রতীকের গুরুত্ব নিয়ে নতুন বিতর্ক ছড়িয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যখন বললেন— “প্রতীক দেখে ভোট দিন”, তখন সামাজিক মাধ্যমে কিছু মহল বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করল। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই বক্তব্য শতভাগ রাজনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত এবং প্রথাসঙ্গত।

প্রতীকই কেন মুখ্য?

জাতীয় নির্বাচনে প্রতীকই মূল পরিচয়—এটি কোনো নতুন কথা নয়।
প্রার্থী যদি মুখ্য হতেন, তবে দলগুলো কেন প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দরজায় এতবার কড়া নাড়ে?
এনসিপির উদাহরণই যথেষ্ট:
প্রথমে “শাপলা”, পরে “শাপলা”, শেষে এসে “শাপলা কলি”—এভাবে প্রতীকের কারণেই তাদের দিন কাটাতে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের প্রহর গুনে।

অন্যদিকে, তারেক রহমান নিজে যদি মনোনয়ন দিতেন, তখন কি বলতেন—“মানুষ দেখে ভোট দিন”? নিশ্চয়ই না। সুতরাং তাঁর বক্তব্য ভণ্ডামিমুক্ত; সরল, স্বচ্ছ এবং রাজনৈতিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নির্বাচনী মিথ ও প্রতীকের ধর্মীয় রঙ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে প্রতীক কেবল ভোটের চিহ্ন নয়—এটি একটি আবেগের ধারক। তাই বিভিন্ন দল বছরের পর বছর প্রতীকের সঙ্গে ‘অলৌকিক’ গল্প জুড়ে ভোটারদের প্রভাবিত করে এসেছে।

জামাত দাড়িপাল্লাকে কখনো “মিজান”, কখনো “আখেরাতের প্রতীক” বানিয়ে ভোটারকে বিভ্রান্ত করেছে।

শেখ হাসিনা নৌকাকে “নুহ নবির নৌকা” বলে নিজের রাজনৈতিক প্রচারণাকে ধর্মীয় সুরে বাঁধতে চেয়েছেন।

এরশাদ লাঙল দেখেছেন উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে।

কিন্তু বিজ্ঞান-প্রযুক্তির যুগে দাড়িপাল্লা দিয়ে কেউ আর ওজন করে না—এটির মাধ্যমে প্রতারণাই বেশি হতো।
নৌকায়ও সবার ওঠার সুযোগ থাকত না; ‘বিশেষ পছন্দের’ মানুষদেরই আশ্রয় মিলত।
লাঙল আজ রঙিন পোস্টারে থাকে, মাঠে চলে ট্রাক্টর।

ধানের শীষ—প্রকৃতির প্রতীক, মানুষের প্রতীক

এই পুরো প্রতীক-রাজনীতির ভিড়েও বিএনপি কখনো ধানের শীষকে ধর্মীয় বা অলৌকিক রূপ দেয়নি। তারা সর্বোচ্চ বলে—
“লাগারে লাগা, ধান লাগা।”
এটি মানুষের জীবনযাপন, কৃষি ও উৎপাদনের সাথে সম্পর্কিত বাস্তব প্রতীক।
এখানে নেই মিথ, নেই অন্ধ আবেগ, নেই ধর্মীয় বিভাজন।

ধান এখনো আমাদের সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে ফাস্ট ফুডে চলে গেলে হয়তো ধান থেকে সরে আসবে—কিন্তু সেই দিন এখনো আসেনি।
নিজে ডায়েট করে দেখেছি—শেষ পর্যন্ত ফিরতে হয় ভাতেই।
কারণ সত্যি কথা হলো—
মাছে-ভাতে আমরা বাঙালি।

শেষ কথা

যারা তারেক রহমানের বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তারা আসলে নির্বাচনী বাস্তবতাকে অস্বীকার করছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতীকই প্রার্থীকে পরিচিত করে, দলকে চেনায় এবং ভোটারের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করে।

এই সত্য বদলায়নি—আগেও নয়, এখনো নয়।