দর্পণ ডেস্ক: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে যৌনবৈষম্যমূলক ও অপমানজনক অনলাইন প্রচারণার অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হচ্ছে এই সপ্তাহে প্যারিসে।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর লিঙ্গ ও যৌনতা নিয়ে ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট দম্পতির ২৪ বছরের বয়সের পার্থক্য নিয়ে কটূ মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে, আসামিদের দুই বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানা গেছে।
ফরাসি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ও মঙ্গলবার আদালতে হাজির হওয়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, একজন চিত্রশালা মালিক, এবং একজন শিক্ষক।
এই মামলার দুই অভিযুক্ত—স্বঘোষিত সাংবাদিক নাটাশা রে এবং ইন্টারনেট ভাগ্যবিচারক আমান্দিন রোয়া—এর আগে মানহানির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তারা দাবি করেছিলেন যে, ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ আদৌ অস্তিত্ব রাখেন না, বরং তার ভাই জ্যঁ-মিশেল ত্রোজন্যু লিঙ্গ পরিবর্তন করে তার পরিচয় গ্রহণ করেছেন।
তবে পরে আপিল আদালত তাদের মানহানির অভিযোগ থেকে খালাস দেন, যুক্তি দেখিয়ে যে তাদের মন্তব্য আইনি সংজ্ঞায় মানহানি নয়। বর্তমানে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ ও তার ভাই সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন।
ষড়যন্ত্র তত্ত্বের পেছনে প্রেক্ষাপট
২০১৭ সালে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ঘুরে বেড়াচ্ছে—যে ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ আসলে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী।
এই ভিত্তিহীন গুজব সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আরও বিস্তার লাভ করেছে, মূলত ডানপন্থী প্রভাবশালী অনলাইন ব্যক্তিত্ব ক্যান্ডেস ওয়েন্স-এর প্রচারণায়।
গত জুলাইয়ে ম্যাক্রোঁ দম্পতি ওয়েন্সের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, “ওয়েন্স ইচ্ছাকৃতভাবে বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপেক্ষা করে পরিচিত ষড়যন্ত্রবাদীদের বক্তব্য প্রচার করেছেন।”
“অত্যন্ত কষ্টদায়ক” — আইনজীবী
বিবিসির Fame Under Fire পডকাস্টে মামলার আইনজীবী টম ক্লেয়ার বলেন, ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ এই মিথ্যা প্রচারণায় “অত্যন্ত মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত” হয়েছেন এবং এটি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁর জন্যও “একটি বড় মনোযোগ-ভঙ্গকারী বিষয়” হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তার ভাষায়,
“এটা অত্যন্ত কষ্টদায়ক যে কাউকে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য এভাবে ব্যক্তিগত বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে হয়।”
প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ক্যান্ডেস ওয়েন্সের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্তের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল “নিজের সম্মান রক্ষা করা”। তিনি আরও বলেন, ওয়েন্স ইচ্ছাকৃতভাবে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন, যার লক্ষ্য ছিল “ক্ষতি সাধন, রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রচার ও চরম ডানপন্থী নেতাদের সঙ্গে যুক্ত থেকে প্রভাব বিস্তার করা।”
ম্যাক্রোঁ দম্পতির সম্পর্কের শুরু
ব্রিজিত ম্যাক্রোঁ তার বর্তমান স্বামী ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন।
দীর্ঘ সম্পর্কের পর তারা ২০০৭ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন, তখন ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বয়স ছিল ২৯ বছর এবং ব্রিজিত ম্যাক্রোঁর ৫৪ বছর।










