দর্পণ ডেস্ক
হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার ৩৫টি দেশের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করেছে যুক্তরাজ্য। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সংকট নিরসনের দায়ভার অন্যান্য দেশের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পর ব্রিটেন এই উদ্যোগ নিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, লন্ডনের সময় দুপুরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপারের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ প্রায় ৩৫টি দেশ অংশ নেবে। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিত থাকার কথা নেই।
বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি ‘স্বাভাবিকভাবেই’ খুলে যেতে পারে। তিনি বলেন, যারা এই জলপথের ওপর নির্ভরশীল, এটি সচল রাখার দায়িত্বও তাদেরই। ট্রাম্প অন্য দেশগুলোকে দেরিতে হলেও ‘সাহস’ সঞ্চয় করে প্রণালিটি দখল করে নিজেদের ব্যবহারের জন্য রক্ষা করার আহ্বান জানান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর এই পথ বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় সচল করার পরিকল্পনায় দুটি প্রধান ধাপ থাকতে পারে। প্রথমত, জলপথটিকে মাইনমুক্ত করা। দ্বিতীয়ত, এই পথ দিয়ে চলাচলকারী তেলের ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা প্রদান করা।
ট্রাম্পের যুদ্ধ হয়তো শেষ হবে, কিন্তু মূল্য দিতে হবে গোটা বিশ্বকেট্রাম্পের যুদ্ধ হয়তো শেষ হবে, কিন্তু মূল্য দিতে হবে গোটা বিশ্বকে
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বুধবার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর এই অঞ্চলে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে ‘সব ধরনের কার্যকর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ মূল্যায়ন করবে এই বৈঠক। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রণালিটি সচল করা ‘সহজ হবে না’ এবং এর জন্য সামরিক শক্তি ও কূটনৈতিক তৎপরতার এক ‘সম্মিলিত ফ্রন্ট’ প্রয়োজন।
শুরুতে ইউরোপীয় দেশগুলো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ভয়ে ট্রাম্পের সামরিক সহায়তার আহ্বানে সাড়া না দিলেও বিশ্ব অর্থনীতির ওপর জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব বিবেচনা করে তারা এখন এই জোটে অংশ নিতে আগ্রহী হয়েছে। আজকের এই প্রাথমিক আলোচনার পর আগামী দিনগুলোতে সামরিক পরিকল্পনাবিদদের নিয়ে আরও বিস্তারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।











