যদি কোনো অনিবার্য প্রলয়ের ন্যায়
হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে যায়
আমার অন্তঃস্থলে প্রজ্বলিত শেষ দীপশিখাটি,
তবে অনুশোচনার কুয়াশাচ্ছন্ন প্রান্তরে
আমার নামের কোনো প্রতিধ্বনি খুঁজো না।
ভাবনার অস্থির প্রহরে নিজেকে বলো না—
“আরও কিছু সাধ্য ছিল,
আরও একটুখানি নিকটে এসে
স্পর্শের সেতু রচনা করা যেত।”
সম্ভবত কোনো নিঃসঙ্গ রজনীতে
তোমার স্মৃতির দ্বারে আঘাত হানবে এক অনুচ্চারিত প্রশ্ন—
আমার অশ্রুর নোনা স্রোতে
তোমার অন্তরের কোনো শিলাস্তর কি কখনো দ্রবীভূত হয়েছিল?
হয়তো অনুভব হবে,
তোমার একটিমাত্র কঠোর উচ্চারণ
আমার আকাশে নামিয়ে এনেছিল ঘন অন্ধকারের মেঘমালা;
তোমার অবহেলার শীতল ছায়ায়
একটি অঙ্কুরিত স্বপ্ন
অকালেই হারিয়েছিল তার সূর্যালোকের অধিকার।
তখন নিজেকে অপরাধের ভারে নত কোরো না
মানুষের চেতনা তো কখনোই পূর্বাহ্নে জানে না
কোন শব্দটি কার অন্তর্জগতে
চূড়ান্ত শলাকার ন্যায় বিদ্ধ হয়ে থাকবে।
তবু যদি বিবেকের নির্জন দর্পণে
আমার অবয়ব কোনোদিন প্রতিফলিত হয়,
নিজেকে কেবল একবার জিজ্ঞাসা কোরো—
“আমি কি তার পথের অনিবার্য কণ্টক ছিলাম,
যখন সে প্রস্ফুটিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায়
ফুল হয়ে উঠতে চেয়েছিল?”
কারণ মৃত্যু সর্বদা
শুধু শ্বাসের চূড়ান্ত নির্বাপণ নয়;
তার অন্তরালে রয়ে যায়
অসংখ্য অনুচ্চারিত দীর্ঘনিঃশ্বাস,
অসমাপ্ত ক্ষমার ভার,
এবং কারও হৃদয়ের অদৃশ্য দায়ভার।
অতএব আমি না থাকলে
শোকের প্রদীপ দীর্ঘকাল প্রজ্বলিত রেখো না;
বরং জীবিত অবস্থাতেই
মানবহৃদয়ের কঠিন প্রান্তগুলোকে কোমল করো
কারণ চূড়ান্ত বিদায়ের পর
অনুতাপ উচ্চারণ করলেও
কিছু কিছু দ্বার আর কখনো উন্মুক্ত হয় না।















