ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শহীদ হাদি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নগরীতে পদযাত্রা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্কিত সাফল্য অর্জন সম্ভব- ব্যারিস্টার এম এ সালাম সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন :  সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সাথে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও ফ্রান্স দর্পণ পরিবার মত বিনিময় বিদায়ী শিক্ষকদের সংবর্ধনা ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান আপোষহীন নেত্রীর চির বিদায় : শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি এনসিপি থেকে তাসনিম জারার পদত্যাগ, নির্বাচন নিয়ে নতুন ঘোষণা

দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ায় ৩ খুন, ধরা পড়েনি ঘাতক

  • আপডেট সময় ১০:১৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অগাস্ট ২০১৮
  • ৫২৭ বার পড়া হয়েছে

আশরাফুল ইসলাম ইমরান, দক্ষিণ সুরমা থেকে :নগরীর দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ায় বাথরুম থেকে উদ্ধার হওয়া ৩টি লাশের হত্যাকারী হাসান মুন্সি বলে মনে করছে পুলিশ। হাসান মুন্সি নিহত শিউলী বেগমের স্বামী এবং মীম ও তাসনিমের পিতা। হাসান মুন্সির হাতেই খুন হয়েছে তার স্ত্রী ও দুই কন্যা। ঘাতক হাসান মুন্সির বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর থানার কমলাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নজরুল মুন্সি। পলতক থাকা হাসান মুন্সিকে গ্রেফতার করা না পর্যন্ত খুনের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
এদিকে এই খুনের মিশনে একজন না, একাধিক অংশ নিয়েছে তাও জানা সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ মনে করছেন একজনের পক্ষে ৩ জনকে ঠান্ডমাথায় এক সাথে খুন করা সম্ভব নয়। উদ্ধার হওয়া ৩টি লাশের মধ্যে একজনের চোখ ছিল ওড়ানা দিয়ে বাঁধা। আরেকজনের চোখে ছিল আঘাতের চিহ্ন। একটি রুমে ৩ জনকে একজনের দ্বারা খুন করা কিভাবে সম্ভব বলছেন সুধীমহল। তবে পলাতক হাসান মুন্সিকে গ্রেফতার করতে পারলেই খুনের সকল জট খুলে যাবে। তাকে গ্রেফতারের জন্য ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা যায়, সেদিকে এগুচ্ছে পুলিশ।
অপরদিকে ঝালোপাড়ার স্বপ্ননীড় আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের টিনসেটের একতালা বিশিষ্ট ৮ ইউনিটের বাসার কেয়ারটেকার ঝালোপাড়ার আলফত আলীর ছেলে এরশাদ (৪০)কে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এরশাদের কাছ থেকেই নিহত ৩ জনের পরিচয় সনাক্ত করে পুলিশ। ঘাতক হাসান মুন্সির সাথে কেয়ারটেকার এরশাদের ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিচিত।

এরশাদের সাথে সখ্যতার সুবাধে হাসান মুন্সি স্ত্রী ও দু’কন্যাকে নিয়ে তার বাসায় বেড়াতে আসে। এরশাদ তার ভাড়া বাসার পাশের রুমে তাদেরকে থাকতে দেয়। কয়েক দিন অবস্থানের পর হাসান ঐ বাসার একজনের হাতে চাবি দিয়ে চলে যায়। এরপর উক্ত রুম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে লাশ ৩টি উদ্ধার করে।
গতকাল ৩১ জুলাই মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে নিহত ৩ জনের লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিউলী বেগমের ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই সোমবার দুপুর ১২টায় দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ার স্বপ্ননীড় আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের একটি বাসার তালা ভেঙে বাথরুম থেকে তিনটি গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছেন শিউলী বেগম (৩৫), তার মেয়ে মীম (১৫) ও তাসনিম (১৩)।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘরের তাল ভেঙ্গে বাথরুমের ভেতরে এক মহিলা ও দুই কিশোরীর মরদেহ দেখতে পায়। এদের মধ্যে একজনের চোখ ওড়না দিয়ে বাধা ছিলো। দুপুর ১২টায় লাশ ৩টি উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
গত ১ জুন তারিখে মকসুদ মিয়ার কাছ থেকে কেয়ারটেকার এরশাদ বাসার একটি ইউনিট ভাড়া নেয়। সে তার স্ত্রী চানতারা বেগম ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছে। গত সপ্তাহে কেয়ারটেকার এরশাদ তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বাসার অপর অংশে পুরুষ সহ নিহতদেরকে থাকতে দেয়। পাশর্^বর্তী বাসিন্দারা জানান নিহতদের ঘরের দরজা সময় বন্ধ থাকত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

Priority Seats: But Where Is Humanity?

দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ায় ৩ খুন, ধরা পড়েনি ঘাতক

আপডেট সময় ১০:১৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ অগাস্ট ২০১৮

আশরাফুল ইসলাম ইমরান, দক্ষিণ সুরমা থেকে :নগরীর দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ায় বাথরুম থেকে উদ্ধার হওয়া ৩টি লাশের হত্যাকারী হাসান মুন্সি বলে মনে করছে পুলিশ। হাসান মুন্সি নিহত শিউলী বেগমের স্বামী এবং মীম ও তাসনিমের পিতা। হাসান মুন্সির হাতেই খুন হয়েছে তার স্ত্রী ও দুই কন্যা। ঘাতক হাসান মুন্সির বাড়ী গোপালগঞ্জ জেলার মকসুদপুর থানার কমলাপুর গ্রামে। তার বাবার নাম নজরুল মুন্সি। পলতক থাকা হাসান মুন্সিকে গ্রেফতার করা না পর্যন্ত খুনের রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ।
এদিকে এই খুনের মিশনে একজন না, একাধিক অংশ নিয়েছে তাও জানা সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কেউ মনে করছেন একজনের পক্ষে ৩ জনকে ঠান্ডমাথায় এক সাথে খুন করা সম্ভব নয়। উদ্ধার হওয়া ৩টি লাশের মধ্যে একজনের চোখ ছিল ওড়ানা দিয়ে বাঁধা। আরেকজনের চোখে ছিল আঘাতের চিহ্ন। একটি রুমে ৩ জনকে একজনের দ্বারা খুন করা কিভাবে সম্ভব বলছেন সুধীমহল। তবে পলাতক হাসান মুন্সিকে গ্রেফতার করতে পারলেই খুনের সকল জট খুলে যাবে। তাকে গ্রেফতারের জন্য ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ। যত দ্রুত সম্ভব তাকে গ্রেফতার করা যায়, সেদিকে এগুচ্ছে পুলিশ।
অপরদিকে ঝালোপাড়ার স্বপ্ননীড় আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের টিনসেটের একতালা বিশিষ্ট ৮ ইউনিটের বাসার কেয়ারটেকার ঝালোপাড়ার আলফত আলীর ছেলে এরশাদ (৪০)কে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়েছে। এরশাদের কাছ থেকেই নিহত ৩ জনের পরিচয় সনাক্ত করে পুলিশ। ঘাতক হাসান মুন্সির সাথে কেয়ারটেকার এরশাদের ভাড়াটিয়া হিসেবে পরিচিত।

এরশাদের সাথে সখ্যতার সুবাধে হাসান মুন্সি স্ত্রী ও দু’কন্যাকে নিয়ে তার বাসায় বেড়াতে আসে। এরশাদ তার ভাড়া বাসার পাশের রুমে তাদেরকে থাকতে দেয়। কয়েক দিন অবস্থানের পর হাসান ঐ বাসার একজনের হাতে চাবি দিয়ে চলে যায়। এরপর উক্ত রুম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশকে খবর দেয় এলাকাবাসী। পরে পুলিশ এসে লাশ ৩টি উদ্ধার করে।
গতকাল ৩১ জুলাই মঙ্গলবার ময়না তদন্ত শেষে নিহত ৩ জনের লাশ ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিউলী বেগমের ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুলাই সোমবার দুপুর ১২টায় দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়ার স্বপ্ননীড় আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের একটি বাসার তালা ভেঙে বাথরুম থেকে তিনটি গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হচ্ছেন শিউলী বেগম (৩৫), তার মেয়ে মীম (১৫) ও তাসনিম (১৩)।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঘরের তাল ভেঙ্গে বাথরুমের ভেতরে এক মহিলা ও দুই কিশোরীর মরদেহ দেখতে পায়। এদের মধ্যে একজনের চোখ ওড়না দিয়ে বাধা ছিলো। দুপুর ১২টায় লাশ ৩টি উদ্ধার করে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
গত ১ জুন তারিখে মকসুদ মিয়ার কাছ থেকে কেয়ারটেকার এরশাদ বাসার একটি ইউনিট ভাড়া নেয়। সে তার স্ত্রী চানতারা বেগম ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছে। গত সপ্তাহে কেয়ারটেকার এরশাদ তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বাসার অপর অংশে পুরুষ সহ নিহতদেরকে থাকতে দেয়। পাশর্^বর্তী বাসিন্দারা জানান নিহতদের ঘরের দরজা সময় বন্ধ থাকত।