ঢাকা ১১:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শহীদ হাদি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নগরীতে পদযাত্রা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্কিত সাফল্য অর্জন সম্ভব- ব্যারিস্টার এম এ সালাম সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন :  সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সাথে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও ফ্রান্স দর্পণ পরিবার মত বিনিময় বিদায়ী শিক্ষকদের সংবর্ধনা ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান আপোষহীন নেত্রীর চির বিদায় : শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি এনসিপি থেকে তাসনিম জারার পদত্যাগ, নির্বাচন নিয়ে নতুন ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনি প্রচারণায় কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠছে অভিবাসন

  • আপডেট সময় ০৭:৪২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯
  • ২৫৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনি প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠছে অভিবাসন। বিশেষ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলো। এ পরিকল্পনার মূলে রয়েছে যুক্তরাজ্যমুখী অভিবাসনের স্রোত কিভাবে সামাল দেওয়া যায়; তা নির্ধারণ করা।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভি পার্টি সামগ্রিকভাবে অভিবাসী কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশসহ সব দেশের নাগরিকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মতো পয়েন্ট ভিত্তিক অভিবাসন নীতি চালুর পরিকল্পনার কথা বলছে দলটি। অন্যদিকে বিরোধী দল লেবার পার্টি বলছে, গত সেপ্টেম্বরে দলীয় সম্মেলনে অভিবাসী সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বর্তমানে প্রচলিত ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবাধ চলাচলের মতো একটি নীতি গ্রহণ করা হবে। যার ব্যাপ্তি ইইউ-এর গন্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর নাগরিকেরাও পাবে।

লেবার পার্টির এই প্রস্তাবের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। কড়া ভাষায় লেখা ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এর ফলে যুক্তরাজ্যের দিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দলে দলে মানুষ ছুটে আসবে। লেবার পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়ান অ্যাবোটকে লেখা চিঠিতে প্যাটেল লেখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সম্মেলনে পাস হওয়া নীতি নিয়ে আমার গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এর ফলে আমাদের সরকারি সেবার ওপর বিপুল আসতে পারে। ওই নীতি পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রের নীতি বিরুদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রীতি প্যাটেলের চিঠি ইস্যুতে টুইটারে মন্তব্য করেছেন ডায়ান অ্যাবোট। তিনি বলেন লেবার পার্টি অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিশীল। রক্ষণশীলরা ইইউ-এর ৩০ লাখ মানুষের কাছ থেকে সেই অধিকার কেড়ে নেবে। আমরা তা বজায় রাখবো। তিনি বলেন, রক্ষণশীলরা পরিবার ভেঙে দেবে আর আমরা তা জোড়া লাগাবো।

ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সব প্রচারণাতেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো অভিবাসন ও দেশটিতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ইস্যুটি। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের সময়েও অন্যতম বড় ফ্যাক্টর ছিলো এই ইস্যু। পূর্বের রক্ষণশীল থেরেসা মে সরকার মোট অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয় তবে কয়েক বছরেও তা পূরণ করতে পারেনি তারা। তবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আমলে ওই নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে দলটি।

এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল রক্ষণশীল দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সামগ্রিকভাবে আমরা অভিবাসীর সংখ্যা কমালেও বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকের মতো অতি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য আমরা আরও বেশি উদার ও নমনীয় হবো। মানুষ যদি রক্ষণশীল দলকে ভোট দেয় আর আমরা একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে ইইউ ছাড়তে পারি তাহলেই কেবল এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

রক্ষণশীল দল বলছে, আগামী মাসের নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে তারা অভিবাসীদের জন্য পয়েন্ট ভিত্তিক নিয়ম চালু করবে। ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দক্ষতার ভিত্তিতে এসব পয়েন্ট নির্ধারিত হবে। এর মাধ্যমে তারা সারা বিশ্ব থেকে সবচেয়ে মেধাবী ও যোগ্যদের নিজ দেশে প্রবেশের সুযোগ দিতে চায় তারা।

লেবার পার্টির ডায়ান অ্যাবোট একে রক্ষণশীল দলের আরেকটি ‘ফেইক নিউজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সমাজের ক্ষতি হয়েছে সরকারি সেবা কমানোয় ইইউ নাগরিকেরা কাজের জন্য আসায় নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

Priority Seats: But Where Is Humanity?

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনি প্রচারণায় কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠছে অভিবাসন

আপডেট সময় ০৭:৪২:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯

যুক্তরাজ্যের নির্বাচনি প্রচারণায় রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠছে অভিবাসন। বিশেষ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে প্রধান রাজনৈতিক শিবিরগুলো। এ পরিকল্পনার মূলে রয়েছে যুক্তরাজ্যমুখী অভিবাসনের স্রোত কিভাবে সামাল দেওয়া যায়; তা নির্ধারণ করা।

ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভি পার্টি সামগ্রিকভাবে অভিবাসী কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশসহ সব দেশের নাগরিকদের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মতো পয়েন্ট ভিত্তিক অভিবাসন নীতি চালুর পরিকল্পনার কথা বলছে দলটি। অন্যদিকে বিরোধী দল লেবার পার্টি বলছে, গত সেপ্টেম্বরে দলীয় সম্মেলনে অভিবাসী সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ওই প্রস্তাবে বর্তমানে প্রচলিত ইউরোপীয় ইউনিয়নে অবাধ চলাচলের মতো একটি নীতি গ্রহণ করা হবে। যার ব্যাপ্তি ইইউ-এর গন্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর নাগরিকেরাও পাবে।

লেবার পার্টির এই প্রস্তাবের ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছেন ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল। কড়া ভাষায় লেখা ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এর ফলে যুক্তরাজ্যের দিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে দলে দলে মানুষ ছুটে আসবে। লেবার পার্টির ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডায়ান অ্যাবোটকে লেখা চিঠিতে প্যাটেল লেখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আপনাদের সম্মেলনে পাস হওয়া নীতি নিয়ে আমার গভীর উদ্বেগ রয়েছে। এর ফলে আমাদের সরকারি সেবার ওপর বিপুল আসতে পারে। ওই নীতি পশ্চিমা ধাঁচের গণতন্ত্রের নীতি বিরুদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রীতি প্যাটেলের চিঠি ইস্যুতে টুইটারে মন্তব্য করেছেন ডায়ান অ্যাবোট। তিনি বলেন লেবার পার্টি অবাধ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা ও সম্প্রসারণে প্রতিশ্রুতিশীল। রক্ষণশীলরা ইইউ-এর ৩০ লাখ মানুষের কাছ থেকে সেই অধিকার কেড়ে নেবে। আমরা তা বজায় রাখবো। তিনি বলেন, রক্ষণশীলরা পরিবার ভেঙে দেবে আর আমরা তা জোড়া লাগাবো।

ব্রিটেনে সাম্প্রতিক সব প্রচারণাতেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলো অভিবাসন ও দেশটিতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুকদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ইস্যুটি। ২০১৬ সালে ব্রেক্সিট গণভোটের সময়েও অন্যতম বড় ফ্যাক্টর ছিলো এই ইস্যু। পূর্বের রক্ষণশীল থেরেসা মে সরকার মোট অভিবাসীর সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেয় তবে কয়েক বছরেও তা পূরণ করতে পারেনি তারা। তবে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আমলে ওই নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে দলটি।

এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রীতি প্যাটেল রক্ষণশীল দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, সামগ্রিকভাবে আমরা অভিবাসীর সংখ্যা কমালেও বিজ্ঞানী ও চিকিৎসকের মতো অতি দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য আমরা আরও বেশি উদার ও নমনীয় হবো। মানুষ যদি রক্ষণশীল দলকে ভোট দেয় আর আমরা একটি চুক্তির মধ্য দিয়ে ইইউ ছাড়তে পারি তাহলেই কেবল এটি বাস্তবায়ন সম্ভব।

রক্ষণশীল দল বলছে, আগামী মাসের নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে তারা অভিবাসীদের জন্য পয়েন্ট ভিত্তিক নিয়ম চালু করবে। ইংরেজি ভাষাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর দক্ষতার ভিত্তিতে এসব পয়েন্ট নির্ধারিত হবে। এর মাধ্যমে তারা সারা বিশ্ব থেকে সবচেয়ে মেধাবী ও যোগ্যদের নিজ দেশে প্রবেশের সুযোগ দিতে চায় তারা।

লেবার পার্টির ডায়ান অ্যাবোট একে রক্ষণশীল দলের আরেকটি ‘ফেইক নিউজ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সমাজের ক্ষতি হয়েছে সরকারি সেবা কমানোয় ইইউ নাগরিকেরা কাজের জন্য আসায় নয়।