ঢাকা ০৫:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
জেনেভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে প্রবাসীদের ১৮ দফা দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান বাংলাদেশিসহ ১০ লক্ষাধিক মানুষের আমেরিকার স্বপ্ন ধূলিসাতের পথে বিসিবি নির্বাচন আজ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হলেন সিলেটের আব্দুল কাইয়ুম ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন সতর্কতা জারি করলো যুক্তরাষ্ট্র মার্কিন ভিসা প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ে বিশেষ নির্দেশনা আজারবাইজানে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটির তথ্য ফাঁস পাকিস্তানে তিন সন্তানের সামনে ফরাসি পর্যটককে গণধর্ষণ, ২ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল বাংলাদেশের প্রার্থী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত তোফায়েল আহমেদ মারা গেছেন

তৌহিদি জনতার উত্থান ও সমাজে উগ্রতার বিস্তার

  • আপডেট সময় ০৮:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ১৭৮ বার পড়া হয়েছে

মোহাম্মদ শাহ আলম :রাজবাড়ির নুরুল হক নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করার পর মৃত্যুর পর তার মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা শুধু ন্যাক্কারজনক নয়, বরং সভ্য সমাজে একেবারেই অকল্পনীয়। ইসলামী বিধান, মানবিক মূল্যবোধ কিংবা আইনের শাসন—কোনো দিক থেকেই এ ধরনের কাজের ন্যায্যতা নেই।

ভণ্ডামির রাজনীতি ও ধর্মের অপব্যবহার

একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—শেখ হাসিনার আমলে তো এই তৌহিদি জনতা এমন বর্বরতা দেখাতে পারেনি, তখন তারা কোথায় ছিল? বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এদের সাহস হয় না। এখন নতুন ক্ষমতার ছায়া পেয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাজার ভাঙা, মূর্তি ভাঙা, মৃতদেহ অপমান করা—এসব কাজে ধর্মীয় কোনো মাহাত্ম্য নেই, আছে কেবল উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ।

হতাশা ও দুর্নীতির শিকার জনগোষ্ঠী

খেয়াল করলে দেখা যায়, এই তৌহিদি জনতার বড় একটি অংশ ব্যক্তিজীবনে হতাশাগ্রস্ত ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ধর্মের অপব্যাখ্যায় মাতাল হয়ে পড়ে। আর এই অপব্যাখ্যা সরবরাহ করছে কিছু ভণ্ড বক্তা ও রাজনীতিক।

দ্বিমুখী নীরবতা

ধর্মীয় বক্তা বা রাজনৈতিক নেতা যখন নবীজির পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে, কিংবা মিথ্যা অলীক গল্প বানিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তখন এই তৌহিদি জনতা চুপ থাকে। যেমন—

আজহারীর কুৎসা রটনায় নীরবতা,

মামুনুল হকের মিথ্যা দাবিতে নিশ্চুপ থাকা,

চরমোনাইন পীরের বেদে মারিফতি বা জাহাজে বেহেস্তে যাবার মিথ্যাচার

হুসাম উদ্দিন সংসদে যাওয়াকে মেরাজের সাথে তুলনা করার পরও কোনো প্রতিবাদ না করা।

কিন্তু অন্যদিকে সুযোগ পেলেই তারা মাজার ভাঙতে, মূর্তি ভাঙতে বা মৃতদেহ পর্যন্ত অপমান করতে পিছপা হয় না।

দায়ীদের চিহ্নিতকরণ

এই উগ্রতার পেছনে সেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মতো বক্তাদের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা বড় ভূমিকা রেখেছে। একইসাথে ক্ষমতাসীনদের আস্ফালনও তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

উপসংহার

আজ প্রধান উপদেষ্টা নিন্দা জানিয়েছেন, কিন্তু নিন্দা দিয়ে সমাজের উগ্রতা ঠেকানো যাবে না। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও সমাজের যৌথ প্রতিরোধ ছাড়া এরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে। মুক্তচিন্তার মানুষদের জন্য এরা এখন সরাসরি হুমকি। তাই রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণকে বুঝতে হবে—তৌহিদি জনতার উত্থান মানেই মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও মুক্তচিন্তার উপর আঘাত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

জেনেভায় প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীকে প্রবাসীদের ১৮ দফা দাবি সম্বলিত স্বারকলিপি প্রদান

তৌহিদি জনতার উত্থান ও সমাজে উগ্রতার বিস্তার

আপডেট সময় ০৮:০১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোহাম্মদ শাহ আলম :রাজবাড়ির নুরুল হক নিজেকে ইমাম মাহদী দাবি করার পর মৃত্যুর পর তার মরদেহ তুলে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা শুধু ন্যাক্কারজনক নয়, বরং সভ্য সমাজে একেবারেই অকল্পনীয়। ইসলামী বিধান, মানবিক মূল্যবোধ কিংবা আইনের শাসন—কোনো দিক থেকেই এ ধরনের কাজের ন্যায্যতা নেই।

ভণ্ডামির রাজনীতি ও ধর্মের অপব্যবহার

একটি প্রশ্ন থেকেই যায়—শেখ হাসিনার আমলে তো এই তৌহিদি জনতা এমন বর্বরতা দেখাতে পারেনি, তখন তারা কোথায় ছিল? বাস্তবতা হলো, রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় ছাড়া এদের সাহস হয় না। এখন নতুন ক্ষমতার ছায়া পেয়ে তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মাজার ভাঙা, মূর্তি ভাঙা, মৃতদেহ অপমান করা—এসব কাজে ধর্মীয় কোনো মাহাত্ম্য নেই, আছে কেবল উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ।

হতাশা ও দুর্নীতির শিকার জনগোষ্ঠী

খেয়াল করলে দেখা যায়, এই তৌহিদি জনতার বড় একটি অংশ ব্যক্তিজীবনে হতাশাগ্রস্ত ও দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে ধর্মের অপব্যাখ্যায় মাতাল হয়ে পড়ে। আর এই অপব্যাখ্যা সরবরাহ করছে কিছু ভণ্ড বক্তা ও রাজনীতিক।

দ্বিমুখী নীরবতা

ধর্মীয় বক্তা বা রাজনৈতিক নেতা যখন নবীজির পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে, কিংবা মিথ্যা অলীক গল্প বানিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তখন এই তৌহিদি জনতা চুপ থাকে। যেমন—

আজহারীর কুৎসা রটনায় নীরবতা,

মামুনুল হকের মিথ্যা দাবিতে নিশ্চুপ থাকা,

চরমোনাইন পীরের বেদে মারিফতি বা জাহাজে বেহেস্তে যাবার মিথ্যাচার

হুসাম উদ্দিন সংসদে যাওয়াকে মেরাজের সাথে তুলনা করার পরও কোনো প্রতিবাদ না করা।

কিন্তু অন্যদিকে সুযোগ পেলেই তারা মাজার ভাঙতে, মূর্তি ভাঙতে বা মৃতদেহ পর্যন্ত অপমান করতে পিছপা হয় না।

দায়ীদের চিহ্নিতকরণ

এই উগ্রতার পেছনে সেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মতো বক্তাদের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা বড় ভূমিকা রেখেছে। একইসাথে ক্ষমতাসীনদের আস্ফালনও তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

উপসংহার

আজ প্রধান উপদেষ্টা নিন্দা জানিয়েছেন, কিন্তু নিন্দা দিয়ে সমাজের উগ্রতা ঠেকানো যাবে না। সরকারের কঠোর পদক্ষেপ ও সমাজের যৌথ প্রতিরোধ ছাড়া এরা আরও ভয়ংকর হয়ে উঠবে। মুক্তচিন্তার মানুষদের জন্য এরা এখন সরাসরি হুমকি। তাই রাষ্ট্র, সমাজ ও জনগণকে বুঝতে হবে—তৌহিদি জনতার উত্থান মানেই মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও মুক্তচিন্তার উপর আঘাত।