মোহাম্মদ শাহ আলম : বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে সম্প্রতি একটি আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি) জামাত, চরমোনাই ও হেফাজতের ভণ্ড ইসলামী রাজনীতির কাবু থেকে মুক্তি পেয়েছে। এই মুক্তির প্রক্রিয়াটি সহজ ছিল না। প্রথমদিকে ভন্ড সেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্রদের খপ্পরে পড়ে দলটির শীর্ষ নেতা হাসনাত এবং সারজিস সাঈদী নামের দুরুদে আটকা পড়েছিল। তখন আমরা আতঙ্কিত ছিলাম যে এই মোল্লা গুষ্টি উদীয়মান তরুণদের নষ্ট করে ফেলবে ।
কিন্তু এনসিপি শেষ পর্যন্ত ভুল পথ থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এটি প্রমাণ করে যে তরুণরা তাদের রাজনৈতিক পরিচয় সচেতনভাবে বেছে নিতে পারে এবং ভণ্ড ধর্মভিত্তিক নেতাদের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে।
গুঞ্জন রয়েছে যে এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদ একত্রিত হতে পারে। যদি এটি বাস্তবায়িত হয়, তবে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি থেকে মুক্ত একটি শক্তিশালী তরুণ দল বিএনপির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে সক্ষম হবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে ধর্মীয় কালোছায়া এবং প্রতারণামূলক রাজনৈতিক কৌশল থেকে রক্ষা করার জন্য তরুণদের ঐক্য অপরিহার্য।
জামাত, চরমোনাই ও হেফাজত এক যুগ ধরে ধান্দাবাজ রাজনীতির প্রতীক হিসেবে কাজ করে আসছে। মওদুদিবাদ এক ভয়ংকর ফেতনা, যা শুধুমাত্র তত্ত্ব নয়, বাস্তব রাজনীতিতেও প্রতারণা ও ভয়ঙ্কর প্রভাব বিস্তার করেছে। উপদেষ্টা মাহফুজ বোতল কাণ্ডের পর বুঝতে পেরেছেন, এই গুপ্ত শিবিরের কার্যকলাপ কতটা ক্ষতিকর।
ভিপি নূরের উপর হামলার পর এনসিপি মন থেকে তার পাশে দাঁড়িয়েছে। তবে জামাত আবারও সুবিধাবাদী কৌশল হিসেবে “নির্বাচনের দাবি” তোলার মাধ্যমে তাদের প্রকৃত চরিত্র প্রকাশ করেছে। এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, পৃথিবীর ইতিহাসে এমন মুনাফেক এবং দ্বৈত চরিত্রের দল খুবই কম দেখা যায়।
বাংলাদেশে তরুণদের রাজনীতির ভবিষ্যৎকে সঠিক পথে রাখতে হলে, ধর্মের কালোছায়া ও ধান্দাবাজদের প্রভাব থেকে মুক্ত একটি ঐক্যবদ্ধ দল তৈরি করা অপরিহার্য। এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদযদি এক হয়ে বিএনপির মোকাবিলা করতে পারে, তা হলে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন দিগন্ত খুলবে।
লেখক :লন্ডন প্রবাসী, সমাজকর্মী ।











