ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শহীদ হাদি হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে নগরীতে পদযাত্রা ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে কাঙ্কিত সাফল্য অর্জন সম্ভব- ব্যারিস্টার এম এ সালাম সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন : সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন সামাজিক এসোসিয়েশন সাফ’র কমিটি পুনর্গঠন :  সভাপতি এনকে নয়ন, সম্পাদক শাহিন নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই সিলেট প্রেসক্লাবের নতুন কমিটির সাথে ফ্রান্স বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও ফ্রান্স দর্পণ পরিবার মত বিনিময় বিদায়ী শিক্ষকদের সংবর্ধনা ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান আপোষহীন নেত্রীর চির বিদায় : শোকে মুহ্যমান গোটা জাতি এনসিপি থেকে তাসনিম জারার পদত্যাগ, নির্বাচন নিয়ে নতুন ঘোষণা

ব্রেক্সিট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • আপডেট সময় ০৬:০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮
  • ৪৬০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ব্রেক্সিট (ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) নিয়ে ভয়ের কিছু নেই; বরং এটা আশা জাগিয়েছে। আজ বুধবার লন্ডনে দেওয়া এক বক্তব্যে জনসন ব্রেক্সিট প্রশ্নে বিভক্ত দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে ব্রেক্সিটকে যুক্তরাজ্যের জাতীয়তাবাদী (ন্যাশনালিস্ট) সিদ্ধান্ত মনে করছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি আন্তর্জাতিকতাবাদী (ইন্টারন্যাশনালিস্ট) সিদ্ধান্ত। কেননা ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কবজা থেকে ছুটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইচ্ছামাফিক বাণিজ্য ও চুক্তি করার সুযোগ পাবে যুক্তরাজ্য।

ব্রেক্সিট প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের জনগণ অনেকটা সমানভাগে বিভক্ত। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশটির ৫২ শতাংশ মানুষ বিচ্ছেদের পক্ষে ভোট দেয়। আর ৪৮ শতাংশ মানুষ ছিল বিচ্ছেদের বিপক্ষে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন।

বিচ্ছেদের পর ইইউর সঙ্গে নতুন সম্পর্ক কেমন হবে—তা নিয়ে এখন বিভাজন তুঙ্গে। ব্রেক্সিটবিরোধী পক্ষের চাওয়া, বিচ্ছেদের পরও যাতে ইইউর মুক্তবাজার (সিঙ্গেল মার্কেট) এবং শুল্ক জোটের (কাস্টমস ইউনিয়ন) সদস্যপদ ধরে রাখে যুক্তরাজ্য। একটি নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখে। বিপরীতে ব্রেক্সিটপন্থীরা ইইউর সব নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসার পক্ষে।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের মন্ত্রিসভাও এই দুই মেরুতে বিভক্ত। যে কারণে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো রূপরেখা ঠিক করতে পারেনি তাঁর সরকার। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন থেরেসা মে। ইইউর পক্ষ থেকেও দ্রুত যুক্তরাজ্যের চাওয়াগুলো পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আলোচনা ব্যাহত হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে তারা।

বিভাজন নিরসনের কৌশল হিসেবে বরিস জনসন এ ভাষণ দিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে আরও দুজন মন্ত্রী এ বিষয়ে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইইউর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা তুলে ধরবেন।

বরিস জনসন বলেন, ব্রেক্সিট প্রশ্নে আরেকটি গণভোট আয়োজনের অর্থ হবে আরও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই ইইউর সব নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ইইউ আইনের অধীনতা অব্যাহত রাখা হবে অগ্রহণযোগ্য ও অগণতান্ত্রিক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই ব্রেক্সিটপন্থী মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে যখন যুক্তরাজ্যকে ইইউর অধীন করা হয়, তখনো এর বিরোধিতা ছিল। কিন্তু ইইউর পক্ষের নেতারা কোনো স্বপ্ন দেখাতে পারেননি। যে কারণে মানুষ বিচ্ছেদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে ইচ্ছামাফিক সম্পর্ক গড়তে পারে—সে স্বপ্নই আমরা মানুষকে দেখাচ্ছি।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

Priority Seats: But Where Is Humanity?

ব্রেক্সিট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই: ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ব্রেক্সিট (ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ) নিয়ে ভয়ের কিছু নেই; বরং এটা আশা জাগিয়েছে। আজ বুধবার লন্ডনে দেওয়া এক বক্তব্যে জনসন ব্রেক্সিট প্রশ্নে বিভক্ত দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেকে ব্রেক্সিটকে যুক্তরাজ্যের জাতীয়তাবাদী (ন্যাশনালিস্ট) সিদ্ধান্ত মনে করছেন। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি আন্তর্জাতিকতাবাদী (ইন্টারন্যাশনালিস্ট) সিদ্ধান্ত। কেননা ব্রেক্সিটের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কবজা থেকে ছুটে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ইচ্ছামাফিক বাণিজ্য ও চুক্তি করার সুযোগ পাবে যুক্তরাজ্য।

ব্রেক্সিট প্রশ্নে যুক্তরাজ্যের জনগণ অনেকটা সমানভাগে বিভক্ত। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত গণভোটে দেশটির ৫২ শতাংশ মানুষ বিচ্ছেদের পক্ষে ভোট দেয়। আর ৪৮ শতাংশ মানুষ ছিল বিচ্ছেদের বিপক্ষে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রেক্সিটের পক্ষে প্রচারণায় নেতৃত্ব দেন।

বিচ্ছেদের পর ইইউর সঙ্গে নতুন সম্পর্ক কেমন হবে—তা নিয়ে এখন বিভাজন তুঙ্গে। ব্রেক্সিটবিরোধী পক্ষের চাওয়া, বিচ্ছেদের পরও যাতে ইইউর মুক্তবাজার (সিঙ্গেল মার্কেট) এবং শুল্ক জোটের (কাস্টমস ইউনিয়ন) সদস্যপদ ধরে রাখে যুক্তরাজ্য। একটি নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখে। বিপরীতে ব্রেক্সিটপন্থীরা ইইউর সব নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসার পক্ষে।

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মের মন্ত্রিসভাও এই দুই মেরুতে বিভক্ত। যে কারণে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ব্যাপারে কোনো রূপরেখা ঠিক করতে পারেনি তাঁর সরকার। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার শিকার হচ্ছেন থেরেসা মে। ইইউর পক্ষ থেকেও দ্রুত যুক্তরাজ্যের চাওয়াগুলো পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আলোচনা ব্যাহত হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে তারা।

বিভাজন নিরসনের কৌশল হিসেবে বরিস জনসন এ ভাষণ দিলেন। কয়েক দিনের মধ্যে আরও দুজন মন্ত্রী এ বিষয়ে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ইইউর সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্কের রূপরেখা তুলে ধরবেন।

বরিস জনসন বলেন, ব্রেক্সিট প্রশ্নে আরেকটি গণভোট আয়োজনের অর্থ হবে আরও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই ইইউর সব নিয়ন্ত্রণ থেকে সরে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, ইইউ আইনের অধীনতা অব্যাহত রাখা হবে অগ্রহণযোগ্য ও অগণতান্ত্রিক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই ব্রেক্সিটপন্থী মন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে যখন যুক্তরাজ্যকে ইইউর অধীন করা হয়, তখনো এর বিরোধিতা ছিল। কিন্তু ইইউর পক্ষের নেতারা কোনো স্বপ্ন দেখাতে পারেননি। যে কারণে মানুষ বিচ্ছেদের পক্ষে ভোট দিয়েছে। নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সমগ্র বিশ্বের সঙ্গে ইচ্ছামাফিক সম্পর্ক গড়তে পারে—সে স্বপ্নই আমরা মানুষকে দেখাচ্ছি।’