ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ বললেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত প্রবাসীবান্ধব সেবা নিশ্চিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন মেসির বিদায় হবে আর্জেন্টিনায় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ আল-আকসা মসজিদে ঢুকে চার সহস্রাধিক ইসরায়েলির তাণ্ডব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের প্রতি সিলেটে ছাত্র সমাজের পূর্ণ সংহতি যুক্তরাজ্যে মোল্লারগাঁও ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত শেখ মখন মিয়ার পরিবারের ৩ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু
ভারত থেকে নির্বাসনে থেকেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা

২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোট বর্জনের হুমকি শেখ হাসিনার

  • আপডেট সময় ১০:০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে

আলজাজিরা রিপোর্ট  — বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতের নির্বাসিত নেতা শেখ হাসিনা সতর্ক করেছেন যে, আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দিলে তা দেশের রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করবে। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ সমর্থক ভোট বর্জন করবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হবে।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকার সম্প্রতি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগ তুলে।

রয়টার্সকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা শুধু অন্যায় নয়, এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক—তারা ভোট দেবে না। জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে আধিপত্য করে আসছে। দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৬০ লাখের বেশি। গত জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, কারণ দলের শীর্ষ নেতারা তখন হয় কারাবন্দী, নয়তো নির্বাসনে ছিলেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে “নির্মম” আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত থাকায় আগামী নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ক্রমে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অন্য দলকে ভোট দিতে বলছি না। আমরা এখনো আশাবাদী যে, শেষ পর্যন্ত সাধারণ বুদ্ধি প্রাধান্য পাবে এবং আমাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ বললেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত

ভারত থেকে নির্বাসনে থেকেও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা

২০২৬ সালের নির্বাচনে ভোট বর্জনের হুমকি শেখ হাসিনার

আপডেট সময় ১০:০৫:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

আলজাজিরা রিপোর্ট  — বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানে ভারতের নির্বাসিত নেতা শেখ হাসিনা সতর্ক করেছেন যে, আগামী বছরের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দিলে তা দেশের রাজনৈতিক বিভাজন আরও গভীর করবে। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ সমর্থক ভোট বর্জন করবে, যা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর হবে।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর দমন অভিযানে প্রায় ১,৪০০ জন নিহত হন।

নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সরকার সম্প্রতি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সংশোধনী এনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে, দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির অভিযোগ তুলে।

রয়টার্সকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা শুধু অন্যায় নয়, এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। লক্ষ লক্ষ মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক—তারা ভোট দেবে না। জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে কোনো কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায় না।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে আধিপত্য করে আসছে। দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৬০ লাখের বেশি। গত জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি, কারণ দলের শীর্ষ নেতারা তখন হয় কারাবন্দী, নয়তো নির্বাসনে ছিলেন।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে “নির্মম” আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত থাকায় আগামী নির্বাচনে বিএনপির জয়লাভের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ক্রমে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমরা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অন্য দলকে ভোট দিতে বলছি না। আমরা এখনো আশাবাদী যে, শেষ পর্যন্ত সাধারণ বুদ্ধি প্রাধান্য পাবে এবং আমাদের নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হবে।”