লন্ডন: ইংল্যান্ডে ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থায় যুগান্তকারী সংস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন জাতীয় ক্যানসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩৫ সালের মধ্যে ক্যানসারে আক্রান্ত তিন-চতুর্থাংশ রোগী হয় সম্পূর্ণ ক্যানসারমুক্ত হবেন, নয়তো রোগ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারবেন। বর্তমানে পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় বেঁচে থাকা রোগীর হার প্রায় ৬০ শতাংশ।
ম্যাকমিলান ক্যানসার সাপোর্টের তথ্যমতে, যুক্তরাজ্যে প্রতি ৭৫ সেকেন্ডে একজন করে মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। দেশটিতে ক্যানসারই সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী রোগ—প্রতি চারটি মৃত্যুর একটির কারণ এটি।
দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইংল্যান্ডের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এনএইচএস হাসপাতাল ট্রাস্ট ক্যানসার চিকিৎসায় নির্ধারিত মান পূরণ করতে পারছে না। পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা ‘জাতীয় জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকার নতুন ক্যানসার পরিকল্পনার আওতায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা বিভাগ (ডিএইচএসসি) জানিয়েছে, ২০২৯ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ৯৫ লাখ (৯.৫ মিলিয়ন) পরীক্ষা নিশ্চিত করতে মোট ২.৩ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করা হবে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে নতুন স্ক্যানার, আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষাব্যবস্থা চালু করা হবে।
নতুন পরিকল্পনার আওতায় ২০২৯ সালের মধ্যে ক্যানসার চিকিৎসার তিনটি প্রধান অপেক্ষার সময়সীমা পূরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু কমিউনিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার দিনে ১২ ঘণ্টা এবং সপ্তাহে সাত দিন চালু থাকবে। পাশাপাশি রোবট-সহায়ক অস্ত্রোপচারের সংখ্যা ২০৩৫ সালের মধ্যে বর্তমান ৭০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫ লাখে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব রোগী এতে উপকৃত হতে পারেন, তাদের প্রত্যেককে জেনোমিক পরীক্ষা বা ডিএনএ বিশ্লেষণের আওতায় আনা হবে, যাতে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা নির্ধারণ করা যায়।
স্বাস্থ্যসচিব ওয়েস স্ট্রিটিং—যিনি ২০২১ সালে ৩৮ বছর বয়সে কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেন—বলেন,
“একজন ক্যানসার সারভাইভার হিসেবে আমি এনএইচএসের কাছে জীবনঋণী। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের রোগীদের জন্য একই মানের সেবা নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্যে ক্যানসার এখনো অনেক দেশের তুলনায় বেশি প্রাণঘাতী হলেও আধুনিক চিকিৎসা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে এ পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব।
এনএইচএসের ক্যানসারবিষয়ক ক্লিনিক্যাল পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন,
“এই পরিকল্পনা দ্রুত ক্যানসার শনাক্ত, সময়মতো চিকিৎসা এবং রোগীদের বেঁচে থাকার হার বাড়ানোর একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ।”
ক্যানসার রিসার্চ ইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এখনো অনেক রোগীকে চিকিৎসা শুরুর জন্য অযৌক্তিক সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।
তবে কিংস ফান্ডের প্রধান নির্বাহী সারাহ উলনাফ সতর্ক করে বলেন, অনেক হাসপাতাল এখনো পুরোনো প্রযুক্তির কারণে দ্রুত ইমেজিং বা প্যাথলজি রিপোর্ট আদান-প্রদান করতে পারছে না। নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্পের পাশাপাশি এসব মৌলিক সমস্যার সমাধান জরুরি। তাঁর মতে, কাঠামোগত বড় পরিবর্তন ছাড়া ২০২৯ সালের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান












