টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ শুরুর আগেই গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে টুর্নামেন্টটি। এই পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন।
স্কাই স্পোর্টসের জনপ্রিয় পডকাস্টে মাইকেল অ্যাথারটনের সঙ্গে আলাপকালে হুসেইনের অভিযোগ, আইসিসি দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাবশালী বোর্ডগুলোর—বিশেষ করে ভারতের—প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছে, যা বিশ্ব ক্রিকেটে ভারসাম্যহীনতা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
হুসেইনের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্ক ও সংকট। আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স হঠাৎ করেই বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়। এর জেরে বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ভারতে সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় এবং শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে পড়ে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে, যখন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঘোষণা দেয় যে তারা গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করবে। এতে করে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। উল্লেখ্য, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল।
আইসিসির অবস্থানের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসের হুসেইন বলেন, ভারত যদি সরকারি নির্দেশ বা নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো দেশে খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানাত, তাহলে আইসিসি কি একই রকম কঠোর সিদ্ধান্ত নিত?
হুসেইনের ভাষায়,
“ধরা যাক, টুর্নামেন্টের এক মাস আগে ভারত বলল—‘আমাদের সরকার আমাদের নির্দিষ্ট একটি দেশে খেলতে যেতে দিচ্ছে না।’ তখন কি আইসিসি বলত, ‘নিয়ম সবার জন্য সমান, তাই তোমাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে’?”
তার মতে, আইসিসির উচিত বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ভারতের মতোই সমান গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে মূল্যায়ন করা।
বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা করে নাসের হুসেইন বলেন, খেলোয়াড়দের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ যে দৃঢ়তা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানের অবস্থানকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি।
হুসেইন বলেন,
“কেউ না কেউকে তো বলতে হবে—রাজনীতি অনেক হয়েছে, এবার ক্রিকেট খেলতে দিন।”
তার মতে, এ ধরনের ঘটনা খেলাধুলার মূল চেতনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপর নিয়মিত রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়, তাহলে বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎই হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তবে সব প্রতিকূলতার মাঝেও পাকিস্তানের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করতে ভোলেননি ইংল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক। তার মন্তব্য,
“এত বাধা সত্ত্বেও পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে দারুণ ক্রিকেট খেলছে—এটা সত্যিই প্রশংসনীয়।”












