তুমি কি শুধু ছায়ার ছলনা?
নাকি অনাদিকালের সেই অশ্রু-অভিষেক,
যে তৃষ্ণা শিকড় গেড়ে থাকে হৃদয়ের নির্জন দ্বীপে
বন্ধুত্ব নামের নোনা জলে?
কে শোনে আজ তার ভাষা?
প্রেম নামক বালুর মিছিলে ভেঙে পড়ে হাজারো মন্দির।
আর আমরা!
লালসার লাটাইয়ে বাঁধা পতঙ্গের মতো,
অনবরত জ্বলি, খুঁজি ফিরি নিজের ছাইয়ের গন্ধ।
তবু কেন নদী চায় সাগরের স্মৃতি?
কেন প্রান্তরের বাতাস উঁচু পাহাড় চুম্বন করে?
তুমি সেই অদৃশ্য স্পন্দন,
যে ইশারায় পাড়ি দেয় মহাদেশ,
যে আলোড়ন জাগায় রাত্রির নিস্তব্ধতায়,
যখন সব সম্পর্ক ঘুমায় ক্লান্ত শরীরে,
তুমি জাগো নিঃশব্দ সংলাপে, দীর্ঘশ্বাসের বর্ণমালায়।
প্রেম বড়ো আত্মমগ্ন, বন্ধুত্ব আত্মবিসর্জিত নিশ্বাস।
প্রেম চায় অধিকার, অধিগ্রহণহীন আশ্রয়।
প্রেমের ডালি ভরে ওঠে গোলাপে, কণ্টকে;
তোমার অঙ্গুলি ছুঁয়েই ফোটে শূন্যতার পদ্ম,
যার পাপড়িতে লেখা নেই কোন প্রার্থনা কিংবা প্রেমপত্র,
শুধুই নিরবধি সংস্রবের অনাবিল রেখা।
মন কেন দুঃখ বিলাসী?
সে কি পায়ের শব্দ শুনতে চায় নিজেই ফেলে রাখা খালি ঘাটে?
যে ধ্বনি বলে, “দেখ, কিছু ছিল, কিছু নেই,
এই ‘থাকা না থাকায় মিশে আছে এক অসামান্য সংগীত”?
তুমি সেই সংগীতের অবিরল তানপুরা,
প্রেম আসে প্রেম যায়; তুমি শুধু থেকে যাও
হৃদয়ের সেই নির্মোক চিহ্নের মতো,
যা শরীর ছাড়ে, কিন্তু ছায়া দিয়ে যায়
আলোর নিচে এক অদৃশ্য অবিনাশী রেখার মতো।
সর্বশেষ সংবাদ
অন্তর্বীণা- মাহবুব শাহজালাল
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ















