বন্দিদশার ক্ষতচিহ্ন এখনও বুকে জাগে নিঃশব্দ ব্যথা,
তবু মুক্তির বাতাসে জেগে ওঠে জীবনের গোপন ব্যাকুলতা।
দীর্ঘদিনের অবদমিত শ্বাস আজ ছন্দ খুঁজে পায় প্রাণে,
নিভে যাওয়া প্রদীপ আবার জ্বলে ওঠে আলোর টানে।
অশ্রুসিক্ত চোখে যে নীরবতা ছিল দীর্ঘ রজনীজুড়ে,
আজ সেখানে স্বপ্নেরা খেলে মুক্ত আকাশের নীল সুরে।
বেদনাঘন স্মৃতিরা ভেসে যায় সময়ের অনন্ত স্রোতে,
নতুন সুখের আলপনা আঁকে হৃদয়ের অনুভূতিতে।
শৃঙ্খলভাঙা পদচারণায় সে এগোয় দূর অনিশ্চিত পথে,
প্রতিটি ধাপে খুঁজে পায় হারানো সত্তা নতুন রথে।
যে হৃদয় ছিল স্থবির নির্যাতনের নিষ্ঠুর ভারে,
আজ সে হৃদয় সুর তোলে জীবনের অনাবিল আহ্বানে।
ঝরাপাতার মতো ঝরে পড়ে গ্লানির কালো স্মৃতি,
শ্রাবণের ধারায় ধুয়ে যায় যন্ত্রণার ক্লান্ত গীতি।
অশ্রু আর বর্ষার জল মিশে এক পবিত্র স্রোতধারায়,
পরিশুদ্ধ করে প্রাণ, জাগায় আশার দীপ্তিময় মায়ায়।
আজ সে দাঁড়ায় অনন্ত আকাশের অবাধ বিস্তারে,
নেই কারাবাস, নেই আর অমানিশার অন্ধকারে।
মুক্তির স্পর্শে জেগে ওঠে প্রতিটি অনুভব,
জীবন যেন নতুন লেখা এক অনন্ত কবিতার বৈভব।
তবু স্মৃতির গভীরে লুকিয়ে থাকে বন্দিশালার ছায়া,
মনে করিয়ে দেয়—অন্ধকারও ছিল এক নীরব মায়া।
সেই মায়া ভেঙে আজ সে আলোর পথের অভিযাত্রী,
দুঃখকে জয়ে রূপ দিয়ে হয়ে ওঠে নিজেই মুক্তির শ্রী।



















