ঢাকা ০৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোলাপগঞ্জে সরকারি বাঁধ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ: রাস্তা কেটে ধান চাষ, অবরুদ্ধ ২০ পরিবার

  • আপডেট সময় ০১:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম মদনগৌরী গ্রামে প্রায়২০টি পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা জোরপূর্বক কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুল–কলেজ–মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ হাট–বাজার, অফিস–আদালত ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, ২০০১–২০০২ সালের সেটেলমেন্ট জরিপ চলাকালে স্থানীয়এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘুষের মাধ্যমে বুড়িবরান নদী ও কাটা খালের জনস্বার্থে ব্যবহৃতসরকারি বাঁধভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে তার মৃত মায়ের নামে রেকর্ডভুক্ত করান।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাটা গাংয়ের পাড় সংলগ্ন প্রায় ১৮–২০ ফুটপ্রশস্ত বাঁধ এবং বাঁধ সংলগ্ন ৭/৮টি বাড়িতে প্রায় ২০টি পরিবার ৫৫ বছরেরও বেশিসময় ধরে বসবাস করে আসছে।

এভাবেই রাস্তা কেটে জমির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে

গ্রামের মূল সড়ক থেকে বুড়িবরান নদীর লঞ্চঘাট ও বাঁধের সঙ্গে প্রায় ৮ ফুট প্রশস্ত একটি প্রাচীন রাস্তা সংযুক্ত ছিল। স্থানীয়দের দাবি, ব্রিটিশ আমল থেকে মানুষ এইরাস্তা ব্যবহার করে নদী, লঞ্চঘাট ও বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। স্বাধীনতারপর থেকে ওই বাঁধসংলগ্ন এলাকায় বসতি গড়ে ওঠে এবং এলাকাবাসী একমাত্র এইপথ ব্যবহার করে চলাচল করে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রাস্তা জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে ভূমিদস্যুদের প্রভাবে ধানক্ষেত সংলগ্ন রাস্তাটি ২০২২ সালথেকে দফায় দফায় কেটে জমির সঙ্গে মিশিয়ে ধান চাষ করা হচ্ছে। এতে ২০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কথা বললে সফর আলী আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবাসীসাংবাদিক ফারুক আহমদ অভিযোগ করেন, তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে প্রভাবশালী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাড়ির সামনের অংশ থেকে  ইজ্জাদ আলীরবাড়ি পর্যন্ত গত চার বছরে অন্তত পাঁচবার রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। তার বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। থানায় মামলা হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়াযায়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এছাড়া ফারুক আহমদ তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গায়েবি মামলা দায়েরের অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে রাস্তা রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় ভুক্তভোগী চারটি দরিদ্র পরিবারকে মিথ্যা গায়েবি কাউন্টার মামলায় জড়িয়ে হয়রানিও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ফ্রান্সে নবাগত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানাতে BSNF-এর ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান

গোলাপগঞ্জে সরকারি বাঁধ ও জমি জালিয়াতির অভিযোগ: রাস্তা কেটে ধান চাষ, অবরুদ্ধ ২০ পরিবার

আপডেট সময় ০১:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

গোলাপগঞ্জ সংবাদদাতা

সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম মদনগৌরী গ্রামে প্রায়২০টি পরিবারের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা জোরপূর্বক কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এতে স্কুল–কলেজ–মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ হাট–বাজার, অফিস–আদালত ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াত করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়, ২০০১–২০০২ সালের সেটেলমেন্ট জরিপ চলাকালে স্থানীয়এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ঘুষের মাধ্যমে বুড়িবরান নদী ও কাটা খালের জনস্বার্থে ব্যবহৃতসরকারি বাঁধভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করে তার মৃত মায়ের নামে রেকর্ডভুক্ত করান।এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কাটা গাংয়ের পাড় সংলগ্ন প্রায় ১৮–২০ ফুটপ্রশস্ত বাঁধ এবং বাঁধ সংলগ্ন ৭/৮টি বাড়িতে প্রায় ২০টি পরিবার ৫৫ বছরেরও বেশিসময় ধরে বসবাস করে আসছে।

এভাবেই রাস্তা কেটে জমির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে

গ্রামের মূল সড়ক থেকে বুড়িবরান নদীর লঞ্চঘাট ও বাঁধের সঙ্গে প্রায় ৮ ফুট প্রশস্ত একটি প্রাচীন রাস্তা সংযুক্ত ছিল। স্থানীয়দের দাবি, ব্রিটিশ আমল থেকে মানুষ এইরাস্তা ব্যবহার করে নদী, লঞ্চঘাট ও বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। স্বাধীনতারপর থেকে ওই বাঁধসংলগ্ন এলাকায় বসতি গড়ে ওঠে এবং এলাকাবাসী একমাত্র এইপথ ব্যবহার করে চলাচল করে আসছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে রাস্তা জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। পরে ভূমিদস্যুদের প্রভাবে ধানক্ষেত সংলগ্ন রাস্তাটি ২০২২ সালথেকে দফায় দফায় কেটে জমির সঙ্গে মিশিয়ে ধান চাষ করা হচ্ছে। এতে ২০টি পরিবার কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কথা বললে সফর আলী আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবাসীসাংবাদিক ফারুক আহমদ অভিযোগ করেন, তিনি আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে প্রভাবশালী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে তার বাড়ির সামনের অংশ থেকে  ইজ্জাদ আলীরবাড়ি পর্যন্ত গত চার বছরে অন্তত পাঁচবার রাস্তা কেটে ফেলা হয়েছে। তার বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। থানায় মামলা হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়াযায়নি বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

এছাড়া ফারুক আহমদ তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গায়েবি মামলা দায়েরের অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে রাস্তা রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ায় ভুক্তভোগী চারটি দরিদ্র পরিবারকে মিথ্যা গায়েবি কাউন্টার মামলায় জড়িয়ে হয়রানিও আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।