ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইউরোপে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র, শুটিং শুরু ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা

যে কৌশলে দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর

  • আপডেট সময় ০২:৫০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশ ছেড়েছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য নিরাপত্তা তল্লাশির অনেক ধাপ এড়িয়ে ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তিনি নির্বিঘ্নে বিদেশগামী ফ্লাইটে ওঠেন। প্রায় দুই বছর পর দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে সেই বহুল আলোচিত দেশত্যাগের ঘটনা।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই পুলিশের কাছ থেকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। একই তথ্য সংসদকে অবহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের সম্পদ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তদন্তে উঠে আসে, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।

ওই সময়ের বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি নির্বিঘ্নে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।

ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য যাওয়ার সময় বেনজীর আহমেদের সামনে ছিলেন ইউনিফর্ম পরিহিত এক পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকের এক নারী পুলিশ সদস্য। তার পেছনেও ছিলেন আরেক ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্য। দেশ ছাড়ার সময় তার সঙ্গে পরিবারের কোনও সদস্য ছিলেন না। তার পরনে ছিল সোনালি রঙের হাফশার্ট, গাঢ় রঙের প্যান্ট ও কালো জুতা।

সবশেষ নিরাপত্তা তল্লাশির ফুটেজে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করেন। সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশির বিধান থাকলেও বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে ফুটেজে দেখা যায়।

এছাড়া ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় সিল ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পাসপোর্ট এবং লাগেজ তার কাছে হস্তান্তর করেন। দেশ ছাড়ার আগে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেও দেখা যায় তাকে।

পুলিশ বাহিনীর অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ অবসরের পরও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাকে গাড়িসহ ছয় সদস্যের একটি সাদা পোশাকধারী পুলিশ দল নিরাপত্তা দিত। পাশাপাশি তার জন্য দুজন সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং বাসভবনে তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

যে কৌশলে দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর

আপডেট সময় ০২:৫০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর দুই সপ্তাহের মধ্যেই দেশ ছেড়েছিলেন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাধারণ যাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য নিরাপত্তা তল্লাশির অনেক ধাপ এড়িয়ে ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় তিনি নির্বিঘ্নে বিদেশগামী ফ্লাইটে ওঠেন। প্রায় দুই বছর পর দুবাইয়ে তার গ্রেফতারের খবর সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে সেই বহুল আলোচিত দেশত্যাগের ঘটনা।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ পুলিশ দুবাই পুলিশের কাছ থেকে বেনজীর আহমেদের গ্রেফতারের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বার্তা পায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। একই তথ্য সংসদকে অবহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের সম্পদ অনুসন্ধানে কমিটি গঠন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধান শুরুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরে তদন্তে উঠে আসে, ২০২৪ সালের ৪ মে রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি দুবাইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন।

ওই সময়ের বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সহায়তায় তিনি নির্বিঘ্নে বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।

ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য যাওয়ার সময় বেনজীর আহমেদের সামনে ছিলেন ইউনিফর্ম পরিহিত এক পুলিশ সদস্য ও সাদা পোশাকের এক নারী পুলিশ সদস্য। তার পেছনেও ছিলেন আরেক ইউনিফর্মধারী পুলিশ সদস্য। দেশ ছাড়ার সময় তার সঙ্গে পরিবারের কোনও সদস্য ছিলেন না। তার পরনে ছিল সোনালি রঙের হাফশার্ট, গাঢ় রঙের প্যান্ট ও কালো জুতা।

সবশেষ নিরাপত্তা তল্লাশির ফুটেজে দেখা যায়, সেখানে দায়িত্বরত আনসার সদস্যের শারীরিক তল্লাশি ছাড়াই তিনি চেকপয়েন্ট অতিক্রম করেন। সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশির বিধান থাকলেও বেনজীর আহমেদের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি বলে ফুটেজে দেখা যায়।

এছাড়া ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পাসপোর্টে প্রয়োজনীয় সিল ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে পাসপোর্ট এবং লাগেজ তার কাছে হস্তান্তর করেন। দেশ ছাড়ার আগে উপস্থিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে হাত নেড়ে বিদায় জানাতেও দেখা যায় তাকে।

পুলিশ বাহিনীর অন্যতম প্রভাবশালী কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত বেনজীর আহমেদ অবসরের পরও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সুবিধা ভোগ করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তাকে গাড়িসহ ছয় সদস্যের একটি সাদা পোশাকধারী পুলিশ দল নিরাপত্তা দিত। পাশাপাশি তার জন্য দুজন সশস্ত্র দেহরক্ষী এবং বাসভবনে তিনজন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত ছিলেন।