ঢাকা ০৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইউরোপে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র, শুটিং শুরু ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা

হাসনাতকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তিনজনকে আটক করলো লন্ডন পুলিশ

  • আপডেট সময় ১১:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • ৯২ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভাস্থল ও এর আশপাশে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (স্থানীয় সময়) ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সভা শুরুর আগেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা। এ সময় এনসিপির সমর্থকরাও সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সভাস্থল এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় অন্তত তিনজনকে আটক করেছে লন্ডন পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তুলতে দেখা যায়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে। পরে তার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে এলেম পার্ক এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও এহতেশামুল হকের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘পূর্বপরিকল্পিত উসকানির অংশ’। সংগঠনটির দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা, বিরোধী মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং ক্ষমতার অহংকারই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কারণ হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

হাসনাতকে ডিম নিক্ষেপের ঘটনায় তিনজনকে আটক করলো লন্ডন পুলিশ

আপডেট সময় ১১:৪৮:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর একটি সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সভাস্থল ও এর আশপাশে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ এবং হাতাহাতির ঘটনায় অন্তত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার (স্থানীয় সময়) ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্টে এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন হাসনাত আবদুল্লাহ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, সভা শুরুর আগেই সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও তাদের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরা। এ সময় এনসিপির সমর্থকরাও সেখানে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে এনসিপির কর্মী-সমর্থকদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন ঘণ্টা পর কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান এবং বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে পুলিশি নিরাপত্তায় তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, সভাস্থল এলাকায় সৃষ্ট উত্তেজনার ঘটনায় অন্তত তিনজনকে আটক করেছে লন্ডন পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন বলে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তুলতে দেখা যায়। তবে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি পাশের একটি রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের দিকে ডিম নিক্ষেপ করা হয়।

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক এহতেশামুল হকের গায়ে ডিম লাগে। পরে তার সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

এ ঘটনায় এনসিপি ইউকে অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, স্থানীয় সময় সোমবার বিকেলে এলেম পার্ক এলাকায় হাসনাত আবদুল্লাহ ও এহতেশামুল হকের সফরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কিছু কর্মী বিশৃঙ্খলা ও উসকানিমূলক আচরণের চেষ্টা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, এসব কর্মকাণ্ড ‘কাপুরুষোচিত’ এবং ‘পূর্বপরিকল্পিত উসকানির অংশ’। সংগঠনটির দাবি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অসহিষ্ণুতার রাজনীতি থেকে আওয়ামী লীগ এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা, বিরোধী মতের প্রতি অসহিষ্ণুতা এবং ক্ষমতার অহংকারই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের কারণ হয়েছে।