ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ

ব্রেক্সিটের বেড়াজাল ভাঙছে যুক্তরাজ্য

  • আপডেট সময় ০১:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

ব্রেক্সিটের পর খাদ্য ও কৃষিপণ্য রফতানিতে তৈরি হওয়া কাগজপত্রের জটিলতা এবং সীমান্তে বাড়তি তল্লাশি তুলে নিতে খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

চলতি মাসের শেষ দিকে দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনের আগে এ সমঝোতা হলো।

এটিকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) চুক্তির প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার খসড়া ব্রাসেলসে ইইউর সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্য এবং তরুণদের ভ্রমণ ও কাজের সুযোগ নিয়ে পৃথক খসড়াও পাঠানো হয়েছে।

চুক্তিটি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্য থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাজা সসেজ, বার্গার, নিজস্ব জলসীমায় আহরিত সামুদ্রিক খাবার ও বীজ আলুর রফতানি আবার শুরু হতে পারবে।

একই সঙ্গে পণ্য রফতানিতে ২০০ পাউন্ডের এক্সপোর্ট হেলথ সার্টিফিকেট এবং ২৫ পাউন্ডের ফাইটোস্যানিটারি সনদের প্রয়োজনীয়তা দূর হবে। পরিদর্শন ফি, জৈব পণ্যের সনদ এবং কিছু বন্দর ফিও উঠে যেতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভ্রমণকারী ব্রিটিশ পোষা প্রাণীর জন্য পাসপোর্ট ব্যবস্থাও ফিরবে।

বিনিময়ে যুক্তরাজ্যকে উদ্ভিদ, প্রাণী ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্যে ইইউর বিদ্যমান বিধিবিধান মেনে চলতে হবে এবং নতুন নিয়মের সঙ্গে নিজেদের আইন সামঞ্জস্য করতে হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘ডাইনামিক অ্যালাইনমেন্ট’।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, চুক্তির ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে শেষ পর্যন্ত ৫১০ কোটি পাউন্ডের সুবিধা যুক্ত হতে পারে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের জন্যও চুক্তিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক্সিটের পর অঞ্চলটি ইইউর পণ্যবাজারের অংশ থাকায় যুক্তরাজ্যের অন্য অঞ্চল থেকে সেখানে খাদ্যপণ্য পাঠাতে বাড়তি কাগজপত্র ও তল্লাশির প্রয়োজন হয়। নতুন সমঝোতা কার্যকর হলে এসব বাধা দূর হবে।

ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, অভিন্ন নিয়ম মেনে চলার বিনিময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচ, দ্রুত পণ্য পরিবহন এবং ইউরোপের বাজারে বাড়তি প্রবেশাধিকার পাবে।

তবে ব্রেক্সিটপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠী ইইউর নিয়ম আবার মেনে চলার সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে যুক্তরাজ্যের নিজস্ব নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতা সীমিত হবে। সূত্র: বিবিসি

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

ইতালিতে কর্মী নিতে নিয়োগদাতারাই দেবে প্রশিক্ষণের খরচ : রাষ্ট্রদূত

ব্রেক্সিটের বেড়াজাল ভাঙছে যুক্তরাজ্য

আপডেট সময় ০১:২৯:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

ব্রেক্সিটের পর খাদ্য ও কৃষিপণ্য রফতানিতে তৈরি হওয়া কাগজপত্রের জটিলতা এবং সীমান্তে বাড়তি তল্লাশি তুলে নিতে খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

চলতি মাসের শেষ দিকে দুই পক্ষের শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনের আগে এ সমঝোতা হলো।

এটিকে ব্রেক্সিট-পরবর্তী সম্পর্ক পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিবিসি জানিয়েছে, স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) চুক্তির প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার খসড়া ব্রাসেলসে ইইউর সদস্যদেশগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। বুধবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ বাণিজ্য এবং তরুণদের ভ্রমণ ও কাজের সুযোগ নিয়ে পৃথক খসড়াও পাঠানো হয়েছে।

চুক্তিটি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্য থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে তাজা সসেজ, বার্গার, নিজস্ব জলসীমায় আহরিত সামুদ্রিক খাবার ও বীজ আলুর রফতানি আবার শুরু হতে পারবে।

একই সঙ্গে পণ্য রফতানিতে ২০০ পাউন্ডের এক্সপোর্ট হেলথ সার্টিফিকেট এবং ২৫ পাউন্ডের ফাইটোস্যানিটারি সনদের প্রয়োজনীয়তা দূর হবে। পরিদর্শন ফি, জৈব পণ্যের সনদ এবং কিছু বন্দর ফিও উঠে যেতে পারে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে ভ্রমণকারী ব্রিটিশ পোষা প্রাণীর জন্য পাসপোর্ট ব্যবস্থাও ফিরবে।

বিনিময়ে যুক্তরাজ্যকে উদ্ভিদ, প্রাণী ও খাদ্যপণ্যের বাণিজ্যে ইইউর বিদ্যমান বিধিবিধান মেনে চলতে হবে এবং নতুন নিয়মের সঙ্গে নিজেদের আইন সামঞ্জস্য করতে হবে। এ প্রক্রিয়াকে বলা হচ্ছে ‘ডাইনামিক অ্যালাইনমেন্ট’।

যুক্তরাজ্য সরকারের দাবি, চুক্তির ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বছরে শেষ পর্যন্ত ৫১০ কোটি পাউন্ডের সুবিধা যুক্ত হতে পারে।

উত্তর আয়ারল্যান্ডের জন্যও চুক্তিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ব্রেক্সিটের পর অঞ্চলটি ইইউর পণ্যবাজারের অংশ থাকায় যুক্তরাজ্যের অন্য অঞ্চল থেকে সেখানে খাদ্যপণ্য পাঠাতে বাড়তি কাগজপত্র ও তল্লাশির প্রয়োজন হয়। নতুন সমঝোতা কার্যকর হলে এসব বাধা দূর হবে।

ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্যনীতি বিভাগের প্রধান উইলিয়াম বেইন বলেন, অভিন্ন নিয়ম মেনে চলার বিনিময়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচ, দ্রুত পণ্য পরিবহন এবং ইউরোপের বাজারে বাড়তি প্রবেশাধিকার পাবে।

তবে ব্রেক্সিটপন্থী কয়েকটি গোষ্ঠী ইইউর নিয়ম আবার মেনে চলার সমালোচনা করেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে যুক্তরাজ্যের নিজস্ব নীতিনির্ধারণের স্বাধীনতা সীমিত হবে। সূত্র: বিবিসি