ডেস্ক রিপোর্ট : প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পেয়েছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫ সালে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
মন্ত্রী বলেন, প্রধান বিদেশি শ্রমবাজারগুলোর বেশির ভাগ থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ইতালি, ওমান, কুয়েত, কাতার, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও গ্রিস অন্যতম।
সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স
রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে সৌদি আরব তার অবস্থান ধরে রেখেছে। দেশটি থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৫ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রেমিট্যান্স ৪ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে হয়েছে ৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।
ইতালি ও ওমান থেকেও রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইতালি থেকে রেমিট্যান্স ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে এবং ওমান থেকে ১ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ২ দশমিক ০৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
কুয়েত থেকে রেমিট্যান্স ১ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আর কাতার থেকে ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশেও প্রবাহ বেড়েছে
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে রেমিট্যান্সের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ০ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে রেমিট্যান্স ০ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ০ দশমিক ৬৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। ফ্রান্স থেকে ০ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ০ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ০ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
জর্ডান থেকে রেমিট্যান্স ০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ০ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। গ্রিস থেকেও রেমিট্যান্স সামান্য বেড়েছে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ০ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ০ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
চার দেশ থেকে রেমিট্যান্স কমেছে
সামগ্রিকভাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও চারটি দেশ থেকে এর পরিমাণ কমেছে।
সবচেয়ে বেশি কমেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা রেমিট্যান্স। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ৪ দশমিক ৭৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এলেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা কমে ৩ দশমিক ০৩ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স কমেছে ১ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার বা ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
শতকরা হিসাবে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স কমেছে মরিশাস থেকে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ০ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ০ দশমিক ০৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ কম।
কানাডা থেকেও রেমিট্যান্স প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। দেশটি থেকে রেমিট্যান্স ০ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ০ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া মালদ্বীপ থেকে রেমিট্যান্স ০ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলার থেকে কমে ০ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ কম।













