মিনহাজ হোসেন, বিশেষ প্রতিনিধি : ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আসর ‘কমনওয়েলথ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ২০২৬’-এ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম ক্রিকেট দল। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ফাইনালেও জয় তুলে নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে দলটি।
ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছিল ইউনাইটেড নেশনস (জাতিসংঘ) ক্রিকেট দল। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং—তিন বিভাগেই সমন্বিত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে বাংলাদেশ দল। পুরো টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি ফাইনালে দাপুটে পারফরম্যান্সের মধ্য দিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয় তারা। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে টুর্নামেন্ট প্রাঙ্গণ।
বাংলাদেশ দলের এই সাফল্যে সন্তোষ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন রোমে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা। বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, কমনওয়েলথ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় তিনি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।
তিনি বলেন, ইতালিতে ফুটবল ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও প্রবাসীদের উদ্যোগ এবং বিভিন্ন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের ফলে দেশটিতে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের খেলাধুলা এবং তরুণদের বিভিন্ন উদ্যোগকে উৎসাহিত করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমে দূতাবাসের আর্থিক ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ দলের এই বিজয় ইতালিতে বসবাসরত সব প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্দেশে উৎসর্গ করেন রাষ্ট্রদূত।
এদিকে ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইউনাইটেড নেশনস দলের অধিনায়কও বাংলাদেশ দলের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব দলই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট উপহার দিয়েছে। প্রতিবছরের মতো এবারও আয়োজনটি বিভিন্ন দেশের মানুষ ও সংস্কৃতিকে কাছাকাছি এনেছে। তবে বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং ছিল বিশেষভাবে প্রশংসনীয়। তাদের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতেই শিরোপা প্রাপ্য ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
টুর্নামেন্টে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে শ্রীলঙ্কা দূতাবাস ক্রিকেট দল। চতুর্থ হয়েছে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ইউএনআই ক্যাসিনো ইউনিভার্সিটি ক্রিকেট দল।
কমনওয়েলথ ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং প্রবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশ দলের টানা চতুর্থবারের এই সাফল্যে ইতালিপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি ইতালিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে নতুন অনুপ্রেরণা জোগাবে।

















