ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইউরোপে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র, শুটিং শুরু ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা ‎সিলেট বিভাগ গণদাবি পরিষদ ফ্রান্স শাখার কমিটি গঠন

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ

  • আপডেট সময় ০১:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে
দর্পণ ডেস্ক

শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত চাপের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে নতুন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ অংশ নেন। এর আগের বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ হাজার ৫০০। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ।

প্যারিস ও লিওঁতে সংঘর্ষ, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস

বেশির ভাগ শহরে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিস ও লিওঁর কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্যারিসে প্রায় ৪১ হাজার ৫০০ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি মিছিলের আশপাশে মুখোশধারী কয়েকজন তরুণ ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

লিওঁ শহরেও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনিসে শিক্ষার্থীদের একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান।

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে ক্ষোভ

গত মাসে ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষক স্বল্পতা, ভবনের বেহাল অবস্থা, অতিরিক্ত ব্যস্ত সময়সূচি এবং শ্রেণিকক্ষের প্রতিকূল পরিবেশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করেন।

মার্সেইয়ের একটি স্কুলের সামনে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এমেলিন বলেন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ ও অর্থবহ সংলাপ চান তাঁরা, দমন-পীড়ন নয়।

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নিনা। তাঁর ভাষ্য, সরকারের কাছে নিজেদের দাবির গুরুত্ব তুলে ধরতে পারছেন না বলেই তাঁরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর আচরণ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে স্টান গ্রেনেডের ঘটনায় এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আরেকজন এক চোখ হারান। এ ছাড়া কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার এক পুলিশ কর্মকর্তার মুখে আঘাত করলে তাঁর কয়েকটি দাঁত পড়ে যায়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের সহিংসতার অভিযোগে ৩৬টি ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, আন্দোলন চলাকালে প্রায় ৯০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহত শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১৪৭।

বাজেটবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের ব্যয় সংকোচনমূলক বাজেট নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আগামী ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভকে ঘিরে শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনা দেখছে।

সরকারি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্সের মধ্যপন্থী সরকার। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বাম ও ডান—উভয় রাজনৈতিক শিবির। বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউড (এলএফআই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে। দলটির নেতা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁকেও প্যারিসের বিক্ষোভে দেখা গেছে।

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁর দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে এই আন্দোলন সরকারের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

সরকারি আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা

গত সপ্তাহের বিক্ষোভের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১১৪টি স্কুলে তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সাময়িকভাবে শিক্ষক পাঠিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, শিক্ষক সংকট নিরসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কার এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফ্রান্সের ২১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, যার অধিকাংশই উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ল’ইউনিয়ন এতুদিয়ান্তের দাবি, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল।

প্যারিসের ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্যাট্রিসিয়া জানিয়েছেন, উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদ এবং পুলিশের সহিংসতার নিন্দা জানাতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ব্রেস্টের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাওয়েলও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা স্কুল অবরোধ চালিয়ে যাবেন এবং নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবেন না। অক্টোবরের শেষ দিকে ছুটি শেষ হওয়ার পরও আন্দোলন চলবে বলে আশা করছেন তিনি।

সংযমের আহ্বান ম্যাখোঁর

সোমবার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ বিক্ষোভকারীদের সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধানে সময়, আলোচনা, বিতর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা জরুরি।

তবে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান, শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমর্থন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে আসন্ন বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের দাবি ও বাজেটবিরোধী আন্দোলন একসঙ্গে বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ

আপডেট সময় ০১:৫১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
দর্পণ ডেস্ক

শিক্ষক সংকট, জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত চাপের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে নতুন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে।

মঙ্গলবারের বিক্ষোভে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ মানুষ অংশ নেন। এর আগের বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে উপস্থিতির সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ হাজার ৫০০। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ।

প্যারিস ও লিওঁতে সংঘর্ষ, পুলিশের কাঁদানে গ্যাস

বেশির ভাগ শহরে বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকলেও প্যারিস ও লিওঁর কয়েকটি স্থানে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্যারিসে প্রায় ৪১ হাজার ৫০০ মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত একটি মিছিলের আশপাশে মুখোশধারী কয়েকজন তরুণ ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ সময় কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

লিওঁ শহরেও বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ।

সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ প্যারিসের উপকণ্ঠ সাঁ-দেনিসে শিক্ষার্থীদের একটি কর্মসূচিতে যোগ দেন। সেখানে তিনি বলেন, তাঁদের ভবিষ্যৎ কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এ কারণেই তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান।

শিক্ষাব্যবস্থার সংকট নিয়ে ক্ষোভ

গত মাসে ফ্রান্সের উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শিক্ষক স্বল্পতা, ভবনের বেহাল অবস্থা, অতিরিক্ত ব্যস্ত সময়সূচি এবং শ্রেণিকক্ষের প্রতিকূল পরিবেশের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথ অবরোধ করেন।

মার্সেইয়ের একটি স্কুলের সামনে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী এমেলিন বলেন, সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় থাকা উচ্চ বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন। সমস্যার সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ ও অর্থবহ সংলাপ চান তাঁরা, দমন-পীড়ন নয়।

একই ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী নিনা। তাঁর ভাষ্য, সরকারের কাছে নিজেদের দাবির গুরুত্ব তুলে ধরতে পারছেন না বলেই তাঁরা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।

পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে বাড়ছে বিতর্ক

বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর আচরণ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলন চলাকালে স্টান গ্রেনেডের ঘটনায় এক কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং আরেকজন এক চোখ হারান। এ ছাড়া কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার এক পুলিশ কর্মকর্তার মুখে আঘাত করলে তাঁর কয়েকটি দাঁত পড়ে যায়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশের সহিংসতার অভিযোগে ৩৬টি ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি আরও জানান, আন্দোলন চলাকালে প্রায় ৯০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আহত শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১৪৭।

বাজেটবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সরকারের ব্যয় সংকোচনমূলক বাজেট নিয়ে অসন্তোষও বাড়ছে। আগামী ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভকে ঘিরে শ্রমিক ও ছাত্র সংগঠনগুলো বৃহত্তর আন্দোলনের সম্ভাবনা দেখছে।

সরকারি ঋণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্সের মধ্যপন্থী সরকার। তবে প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বাম ও ডান—উভয় রাজনৈতিক শিবির। বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউড (এলএফআই) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে। দলটির নেতা ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জঁ-লুক মেলঁশোঁকেও প্যারিসের বিক্ষোভে দেখা গেছে।

প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁর দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের শেষ পর্যায়ে এসে এই আন্দোলন সরকারের ওপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

সরকারি আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা

গত সপ্তাহের বিক্ষোভের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১১৪টি স্কুলে তিন হাজার বিকল্প শিক্ষক পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সরকার। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সাময়িকভাবে শিক্ষক পাঠিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাঁদের দাবি, শিক্ষক সংকট নিরসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো সংস্কার এবং শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ফ্রান্সের ২১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল, যার অধিকাংশই উচ্চ বিদ্যালয়। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সংগঠন ল’ইউনিয়ন এতুদিয়ান্তের দাবি, আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশজুড়ে প্রায় ৯০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল।

প্যারিসের ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্যাট্রিসিয়া জানিয়েছেন, উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদ এবং পুলিশের সহিংসতার নিন্দা জানাতে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ব্রেস্টের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাওয়েলও আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁরা স্কুল অবরোধ চালিয়ে যাবেন এবং নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবেন না। অক্টোবরের শেষ দিকে ছুটি শেষ হওয়ার পরও আন্দোলন চলবে বলে আশা করছেন তিনি।

সংযমের আহ্বান ম্যাখোঁর

সোমবার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ বিক্ষোভকারীদের সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যাগুলো সমাধানে সময়, আলোচনা, বিতর্ক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা জরুরি।

তবে শিক্ষার্থীদের অনড় অবস্থান, শ্রমিক সংগঠনগুলোর সমর্থন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে আসন্ন বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের দাবি ও বাজেটবিরোধী আন্দোলন একসঙ্গে বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।