দর্পণ ডেস্ক
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মজুরি ও সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষে উত্তাল হয়ে উঠছে ফ্রান্স। দেশজুড়ে ধর্মঘট ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাঁচটি শ্রমিক ইউনিয়ন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবারের (৫ নভেম্বর) কর্মসূচিতে ৫ লাখ থেকে ৭ লাখ মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। শুধু রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে যোগ দিতে পারেন প্রায় এক লাখ মানুষ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা ও পর্যাপ্ত সম্পদের অভাব নিয়ে সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। পরে এতে যুক্ত হয় শ্রমিক ও কয়েক বছর আগে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরা।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি, ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি এবং সরকারি সেবা সুরক্ষিত রাখা। বর্তমানে ফ্রান্সে ঘণ্টাপ্রতি ন্যূনতম মজুরি ১২ দশমিক ৩১ ইউরো। তবে সিএফডিটি ইউনিয়নের প্রধান মেরিলিস লিওঁ বলেছেন, শুধু ন্যূনতম মজুরি নয়, মাসিক নিট বেতনও ১০০ ইউরো বাড়াতে হবে।
কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, ৭০ হাজার পুলিশ ও জেনদার্ম মোতায়েন করা হচ্ছে। সহিংসতা দেখা দিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
দেশজুড়ে ২৫০টির বেশি স্থানে বিক্ষোভ ও কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে স্কুল, হাসপাতাল ও গণপরিবহনে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ৮১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। তেল শোধনাগারের কর্মীদেরও উৎপাদন বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মবিরতির কারণে বৃহস্পতিবার ফ্রান্সকে নিজস্ব উৎপাদনের চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতে পারে।
এদিকে, প্যারিসে বিক্ষোভের জন্য ইউনিয়নগুলোর প্রস্তাবিত পথ পরিবর্তন করেছে কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত প্লাস দ্য লা রিপাবলিক থেকে প্লাস দ্য লা নাসিওঁ পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে সহিংসতা, দুই হাজারের বেশি দোকান লুট এবং ঐতিহাসিক স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর এ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
পুনরুজ্জীবিত ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন শুক্রবার ও শনিবারও অবরোধ ও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। ফলে ফ্রান্সে কয়েক দিন ধরে অস্থিরতা চলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
















