ঢাকা ০৭:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেট-সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার আভাস

  • আপডেট সময় ০৯:৩৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ প্রতিনিধি

আগামী তিন দিনের অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

শনিবার (২ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারি এবং দেশের অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

অন্যদিকে হবিগঞ্জের খোয়াই ও সুতাং নদী এবং মৌলভীবাজারের মনু ও জুড়ি নদীর পানিও আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

পাউবো জানিয়েছে, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বেড়ে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি মনু নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজার জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং হবিগঞ্জ জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ভেতরে সৃষ্ট মেঘমালার প্রভাবে আগামীকাল রোববার সিলেটসহ চারটি বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টি টানা আরও চার দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে।

শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় দেওয়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে গঠিত মেঘমালার কারণে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সোম, মঙ্গল ও বুধবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে ধীরে ধীরে কমে আসবে বৃষ্টি।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে ভারি এবং হাওর অববাহিকায় অতিভারি বৃষ্টির কারণে তিন জেলার পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত শুক্রবারের তুলনায় সুনামগঞ্জের নালজুর নদী ও নেত্রকোনার মগর নদীর পানি প্রায় শূন্য দশমিক ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এছাড়া নেত্রকোনার ভুসাই-কংস নদী, সোমেশ্বরী নদী এবং হবিগঞ্জের সুতাল নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানিয়েছে, তাদের ৪৬টি বন্যা পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৯টিতে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান বলেন, প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টির কারণে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

দক্ষিণ কোরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নিহত

সিলেট-সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার আভাস

আপডেট সময় ০৯:৩৮:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশ প্রতিনিধি

আগামী তিন দিনের অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

শনিবার (২ মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারি এবং দেশের অভ্যন্তরে হাওর অববাহিকায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

এতে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর অববাহিকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর কোথাও কোথাও পানি প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

এদিকে নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস অববাহিকার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।

অন্যদিকে হবিগঞ্জের খোয়াই ও সুতাং নদী এবং মৌলভীবাজারের মনু ও জুড়ি নদীর পানিও আগামী তিন দিন বৃদ্ধি পেতে পারে।

পাউবো জানিয়েছে, খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বেড়ে প্রাক-মৌসুমী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। পাশাপাশি মনু নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজার জেলার হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে এবং হবিগঞ্জ জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের ভেতরে সৃষ্ট মেঘমালার প্রভাবে আগামীকাল রোববার সিলেটসহ চারটি বিভাগে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে। এই বৃষ্টি টানা আরও চার দিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কমে আসতে পারে।

শনিবার (২ মে) সন্ধ্যায় দেওয়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানান আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, দেশের ভেতরে গঠিত মেঘমালার কারণে সিলেট, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক স্থানে ভারি বর্ষণ হতে পারে। একই সঙ্গে সারা দেশে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, সোম, মঙ্গল ও বুধবার বৃষ্টিপাতের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। এরপর বৃহস্পতিবার থেকে ধীরে ধীরে কমে আসবে বৃষ্টি।

অন্যদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে ভারি এবং হাওর অববাহিকায় অতিভারি বৃষ্টির কারণে তিন জেলার পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত শুক্রবারের তুলনায় সুনামগঞ্জের নালজুর নদী ও নেত্রকোনার মগর নদীর পানি প্রায় শূন্য দশমিক ৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এছাড়া নেত্রকোনার ভুসাই-কংস নদী, সোমেশ্বরী নদী এবং হবিগঞ্জের সুতাল নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানিয়েছে, তাদের ৪৬টি বন্যা পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১৯টিতে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুর রহমান বলেন, প্রাক-মৌসুমি বৃষ্টির কারণে নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জের হাওর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে এবং নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।