ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইউরোপে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র, শুটিং শুরু ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা

অভিবাসী ফেরত পাঠানোয় ইইউতে দ্বিতীয় অবস্থানে ফ্রান্স

  • আপডেট সময় ০৮:১০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
  • ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

দর্পণ ডেস্ক

ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর তালিকায় ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ফ্রান্স। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরে ফ্রান্স থেকে ১৪ হাজার ৯৪০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত ইউরোস্ট্যাটের অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। দেশটি ২০২৫ সালে মোট ২৯ হাজার ২৯৫ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা সুইডেন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ জনকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফেরত পাঠানোর হার বেড়েছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

একই সময়ে ইউরোপের বহিঃসীমান্তেও কড়াকড়ি বাড়িয়েছে সদস্য দেশগুলো। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইইউ সীমান্তে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৫। ফলে সীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকানোর ঘটনা বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ‘‘অবৈধভাবে অবস্থানরত’’ হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে এ সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৫ জনে। অর্থাৎ এক বছরে এই সংখ্যা কমেছে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

এছাড়া চলতি বছরে ইইউ দেশগুলো ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে সংশ্লিষ্ট দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৫। ফলে দেশত্যাগের নির্দেশ বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে আরও দেখা গেছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন তুরস্কের নাগরিক। মোট ১৩ হাজার ৪০৫ জন তুর্কি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জর্জিয়ার ১০ হাজার ৪৭৫ জন, সিরিয়ার ৮ হাজার ৩৭০ জন এবং আলবেনিয়ার ৮ হাজার ২০ জন নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে এখন আরও কঠোর নীতির দিকে ঝুঁকছে ইইউ। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সদস্য দেশগুলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

অভিবাসী ফেরত পাঠানোয় ইইউতে দ্বিতীয় অবস্থানে ফ্রান্স

আপডেট সময় ০৮:১০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

দর্পণ ডেস্ক

ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে কঠোর অবস্থান আরও জোরদার করছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালে অভিবাসী ফেরত পাঠানোর তালিকায় ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ফ্রান্স। ইউরোপীয় পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, চলতি বছরে ফ্রান্স থেকে ১৪ হাজার ৯৪০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ মে) প্রকাশিত ইউরোস্ট্যাটের অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেরত পাঠানোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে জার্মানি। দেশটি ২০২৫ সালে মোট ২৯ হাজার ২৯৫ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে। আর তৃতীয় অবস্থানে থাকা সুইডেন থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে ১১ হাজার ২৫০ জনকে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো মোট ১ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬০ জনকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১২ হাজার ৪০। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ফেরত পাঠানোর হার বেড়েছে ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

একই সময়ে ইউরোপের বহিঃসীমান্তেও কড়াকড়ি বাড়িয়েছে সদস্য দেশগুলো। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইইউ সীমান্তে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৩৫। ফলে সীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকানোর ঘটনা বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ।

তবে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে ‘‘অবৈধভাবে অবস্থানরত’’ হিসেবে শনাক্ত মানুষের সংখ্যা কমেছে। ২০২৪ সালে যেখানে এ সংখ্যা ছিল ৯ লাখ ১৮ হাজার ৫২৫, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৩৯৫ জনে। অর্থাৎ এক বছরে এই সংখ্যা কমেছে ২১ দশমিক ৭ শতাংশ।

এছাড়া চলতি বছরে ইইউ দেশগুলো ৪ লাখ ৯১ হাজার ৯৫০ জন তৃতীয় দেশের নাগরিককে সংশ্লিষ্ট দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৯৮৫। ফলে দেশত্যাগের নির্দেশ বেড়েছে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে আরও দেখা গেছে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিলেন তুরস্কের নাগরিক। মোট ১৩ হাজার ৪০৫ জন তুর্কি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জর্জিয়ার ১০ হাজার ৪৭৫ জন, সিরিয়ার ৮ হাজার ৩৭০ জন এবং আলবেনিয়ার ৮ হাজার ২০ জন নাগরিককে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে এখন আরও কঠোর নীতির দিকে ঝুঁকছে ইইউ। সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার, দ্রুত প্রত্যাবাসন এবং তৃতীয় দেশের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সদস্য দেশগুলো।