ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
আজির উদ্দিনের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সংবর্ধনা ইতালিতে মুন্সীগঞ্জ-বিক্রমপুর সমিতির বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ: প্রকৃতির সান্নিধ্যে প্রবাসীদের দিনভর আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্যারিসের লাখুর্নভে বিস্ফোরণে নিহত নাহিল এর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন পর্তুগালে বদলে গেল রেসিডেন্সের নিয়ম ওবায়দুল কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা ব্যালন ডি’অর নিয়ে এমবাপ্পের বিতর্কিত মন্তব্য চুক্তিতে ফ্রান্সে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত থাকছেন তালহা পবিত্র মক্কা নগরীসহ ৩ অঞ্চলে জরুরি সতর্কতা জারি সৌদির বিদেশি শিক্ষার্থীদের ওপর ট্রাম্পের কঠোর নীতি আটকে দিলেন আদালত

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধনী ছিলেন এক মুসলমান

  • আপডেট সময় ০৪:২৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯
  • ৪০২ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বে বর্তমানে গেটস, বেজোসরা ধনীর তালিকায় শীর্ষে থাকলেও এরা কিন্তু সর্বকালের সবচেয়ে ধনী নন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এমন এক জন যার সম্পত্তির পরিমাণের ধারে কাছেও বিল-জেফরা যেতে পারবেন না! এমনকী ইতিহাসের কোনও রাজাও ছুঁতে পারেননি না তাকে।
ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে ২০১৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী আমাজনের সিইও জেফ বেজোস (১১২ বিলিয়ন ডলার)। তারপর মাইক্রোসফ‌্ট অধিকর্তা বিল গেটস (৯০ বিলিয়ন ডলার) এবং মার্কিন সংস্থা বার্কশায়ার হাথাওয়ের অধিকর্তা ওয়ারেন বাফে (৮৪ বিলিয়ন ডলার)। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ধনী মুকেশ অম্বানী (৩৯ বিলিয়ন ডলার)। আর যার কথা হচ্ছে, সর্বকালের সেই সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন? ৪০০ বিলিয়ন ডলার।
তিনি মানসা মুসা। আফ্রিকার বর্তমানে গরিব দেশ মালির আমির ছিলেন তিনি। ১৩১২ সালে মালির সিংহাসনে বসার আগে তার নাম ছিল মুসা কেইটা-১। রাজা হওয়ার পর তারই নামকরণ করা হয় মানসা মুসা। সম্প্রতি আমেরিকার ইভানস্টোনে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে তার জীবন নিয়ে একটি প্রদর্শনীও হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এত ছিল যে, ভবিষ্যতেও কেউ তা ছুঁতে পারবেন না। আফ্রিকার মালির মতো এত গরিব দেশের শাসক কী ভাবে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন? প্রশ্নটা আসতেই পারে।
ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, সে সময়কার পরিস্থিতি ছিল বর্তমান পরিস্থিতির ঠিক উল্টো। আফ্রিকা তখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। কারণ, মালি সাম্রাজ্য তখন মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। প্রকৃত অর্থেই সোনা ফলত মালির মাটিতে। আর সেই সোনাই তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। প্রচুর সোনার খনি রয়েছে মালিতে। মানসা মুসাই প্রথম এই খনির সন্ধান পান।
ক্ষমতায় আসার পর নিজের সামাজ্যের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন মুসা। সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনিয়া, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজেরিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৩২৪ সালে মুসা মক্কা যাত্রা করেন। ৪ হাজার মাইলের এই যাত্রা ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। অফুরন্ত ধনদৌলতের সঙ্গে নিয়েছিলেন বিশাল বাহিনীকে। কয়েক হাজার সেনা, ক্রীতদাস এবং প্রজাদের। মানসা মুসার সামনে ছিল ৫০০ সেনা, যারা শুধুমাত্র সোনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সোনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজে লাগানো হয় উট এবং ঘোড়াদেরও।
যাত্রাপথের বিভিন্ন জায়গায় ওই সোনা দান করেছিলেন মুসা। ইতিহাসবিদদের দাবি, মিশরের কায়রোতে তিনি এত সোনা দান করেছিলেন যে ভয়ঙ্কর মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লেগেছিল। ১৩৩৭ সালে মানসা মুসা মারা যান। তার ছেলে মেঘান ১ রাজা হন। সূত্র: লাইভ সায়েন্স।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

আজির উদ্দিনের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের সংবর্ধনা

সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ধনী ছিলেন এক মুসলমান

আপডেট সময় ০৪:২৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বিশ্বে বর্তমানে গেটস, বেজোসরা ধনীর তালিকায় শীর্ষে থাকলেও এরা কিন্তু সর্বকালের সবচেয়ে ধনী নন। বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি এমন এক জন যার সম্পত্তির পরিমাণের ধারে কাছেও বিল-জেফরা যেতে পারবেন না! এমনকী ইতিহাসের কোনও রাজাও ছুঁতে পারেননি না তাকে।
ফোর্বস ম্যাগাজিন অনুসারে ২০১৮ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী আমাজনের সিইও জেফ বেজোস (১১২ বিলিয়ন ডলার)। তারপর মাইক্রোসফ‌্ট অধিকর্তা বিল গেটস (৯০ বিলিয়ন ডলার) এবং মার্কিন সংস্থা বার্কশায়ার হাথাওয়ের অধিকর্তা ওয়ারেন বাফে (৮৪ বিলিয়ন ডলার)। ভারতের মধ্যে সবচেয়ে ধনী মুকেশ অম্বানী (৩৯ বিলিয়ন ডলার)। আর যার কথা হচ্ছে, সর্বকালের সেই সবচেয়ে ধনী ব্যক্তির সম্পত্তির পরিমাণ কত জানেন? ৪০০ বিলিয়ন ডলার।
তিনি মানসা মুসা। আফ্রিকার বর্তমানে গরিব দেশ মালির আমির ছিলেন তিনি। ১৩১২ সালে মালির সিংহাসনে বসার আগে তার নাম ছিল মুসা কেইটা-১। রাজা হওয়ার পর তারই নামকরণ করা হয় মানসা মুসা। সম্প্রতি আমেরিকার ইভানস্টোনে নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতে তার জীবন নিয়ে একটি প্রদর্শনীও হয়।
ইতিহাসবিদদের মতে, তার সম্পত্তির পরিমাণ এত ছিল যে, ভবিষ্যতেও কেউ তা ছুঁতে পারবেন না। আফ্রিকার মালির মতো এত গরিব দেশের শাসক কী ভাবে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি হলেন? প্রশ্নটা আসতেই পারে।
ইতিহাসবিদরা জানাচ্ছেন, সে সময়কার পরিস্থিতি ছিল বর্তমান পরিস্থিতির ঠিক উল্টো। আফ্রিকা তখন ফুলেফেঁপে উঠেছে। কারণ, মালি সাম্রাজ্য তখন মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল। প্রকৃত অর্থেই সোনা ফলত মালির মাটিতে। আর সেই সোনাই তাকে সর্বকালের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। প্রচুর সোনার খনি রয়েছে মালিতে। মানসা মুসাই প্রথম এই খনির সন্ধান পান।
ক্ষমতায় আসার পর নিজের সামাজ্যের বিস্তৃতি ঘটিয়েছিলেন মুসা। সেনেগাল, গাম্বিয়া, গিনিয়া, বুরকিনা ফাসো, মালি, নাইজেরিয়ার উপর আধিপত্য বিস্তার করেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৩২৪ সালে মুসা মক্কা যাত্রা করেন। ৪ হাজার মাইলের এই যাত্রা ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। অফুরন্ত ধনদৌলতের সঙ্গে নিয়েছিলেন বিশাল বাহিনীকে। কয়েক হাজার সেনা, ক্রীতদাস এবং প্রজাদের। মানসা মুসার সামনে ছিল ৫০০ সেনা, যারা শুধুমাত্র সোনা বয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। সোনা বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজে লাগানো হয় উট এবং ঘোড়াদেরও।
যাত্রাপথের বিভিন্ন জায়গায় ওই সোনা দান করেছিলেন মুসা। ইতিহাসবিদদের দাবি, মিশরের কায়রোতে তিনি এত সোনা দান করেছিলেন যে ভয়ঙ্কর মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছিল। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লেগেছিল। ১৩৩৭ সালে মানসা মুসা মারা যান। তার ছেলে মেঘান ১ রাজা হন। সূত্র: লাইভ সায়েন্স।