ঢাকা ০২:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে আবারও চালু হচ্ছে বিমানের ফ্লাইট, শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি ঝিনাই নদীর পাড়ে -মমতাজ তপন ধাতব দ্বৈততার মূল্য-ভ্রান্তি মেশকাতুন নাহার গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষায় নারীর পিছিয়ে থাকা: একঅদৃশ্য সংকট অহংকারের অদৃশ্য ভুঁড়ি ও নিঃসঙ্গতার নীরব জ্যামিতি ব্রেক্সিট-পরবর্তী নিয়মে কিছু ক্ষেত্রে ইইউ নাগরিকদের আবাসিক অধিকার বাতিল শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউকে ওয়েলস আওয়ামী লীগ নবকন্ঠ ক্ষুদে ফুটবল টুর্নামেন্টে ফ্রান্স টাইগারকে হারিয়ে ফ্রান্স লায়ন বিজয়ী ইরান-যুক্তরাষ্ট্র প্রথম দফার আলোচনা ‘ইতিবাচক’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ  নিয়ে এরদোয়ানের সঙ্গে ম্যাক্রোঁর আলোচনা

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: শাবানা মাহমুদ কি হচ্ছেন সম্ভাব্য উত্তরসূরি?

  • আপডেট সময় ১০:১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের রাজনীতি বর্তমানে টালমাটাল অবস্থায়। একের পর এক বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির ভেতরে নীরবে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা। সেই আলোচনায় সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে একটি নাম—শাবানা মাহমুদ।

যদি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তিনি দায়িত্ব পান, তবে ইতিহাস গড়বেন শাবানা মাহমুদ—হবেন যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমি

সাম্প্রতিক সংকটের সূত্রপাত ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে। অতীতে জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হলে সরকার চাপে পড়ে।

এই ঘটনার জেরে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন। উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ কমানো, কিন্তু উল্টো সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়।

জনমত জরিপে লেবার পার্টির সমর্থন কমতে থাকায় দলের ভেতরেই অনেকে মনে করছেন, স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

কে এই শাবানা মাহমুদ?

১. প্রভাবশালী মন্ত্রী ও স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

২০২৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাবানা মাহমুদ। লেবার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী মুখ তিনি।

২. আইনি পটভূমি

বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া শাবানা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যারিস্টার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দক্ষতায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

৩. ইতিহাসের অংশ

২০১০ সালে পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে তিনি রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রথম তিন মুসলিম নারী এমপির একজন হন—যা ছিল প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

৪. অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, স্থায়ী আবাসন কোনো “অধিকার” নয়, বরং “বিশেষ সুযোগ”।
এই অবস্থান লেবার পার্টির ভেতরেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

কেন তাঁর নাম এগিয়ে?

স্টারমারের নেতৃত্ব দুর্বল হলে দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন।

মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ পদ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দলের ভেতরে শক্ত অবস্থানের কারণে শাবানা মাহমুদ সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন।

অনেকে মনে করেন, মুসলিম ও সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশকে তিনি আবার লেবারের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারেন। অন্যদিকে, তাঁর মধ্যপন্থী ও কিছু ক্ষেত্রে রক্ষণশীল অবস্থান তাঁকে মূলধারার ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্য করতে পারে।

সামনে কী?

এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা আসেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে।

সেই সম্ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছেন শাবানা মাহমুদ—যাঁর সামনে হয়তো অপেক্ষা করছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে আবারও চালু হচ্ছে বিমানের ফ্লাইট, শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: শাবানা মাহমুদ কি হচ্ছেন সম্ভাব্য উত্তরসূরি?

আপডেট সময় ১০:১০:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যের রাজনীতি বর্তমানে টালমাটাল অবস্থায়। একের পর এক বিতর্ক ও কেলেঙ্কারির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে লেবার পার্টির ভেতরে নীরবে শুরু হয়েছে সম্ভাব্য উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা। সেই আলোচনায় সবচেয়ে জোরালোভাবে উচ্চারিত হচ্ছে একটি নাম—শাবানা মাহমুদ।

যদি নেতৃত্ব পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং তিনি দায়িত্ব পান, তবে ইতিহাস গড়বেন শাবানা মাহমুদ—হবেন যুক্তরাজ্যের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী।

রাজনৈতিক অস্থিরতার পটভূমি

সাম্প্রতিক সংকটের সূত্রপাত ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে। অতীতে জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হলে সরকার চাপে পড়ে।

এই ঘটনার জেরে স্টারমারের চিফ অব স্টাফ মরগান ম্যাকসুইনি দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন। উদ্দেশ্য ছিল প্রধানমন্ত্রীর ওপর চাপ কমানো, কিন্তু উল্টো সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন আরও ঘনীভূত হয়।

জনমত জরিপে লেবার পার্টির সমর্থন কমতে থাকায় দলের ভেতরেই অনেকে মনে করছেন, স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।

কে এই শাবানা মাহমুদ?

১. প্রভাবশালী মন্ত্রী ও স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী

২০২৫ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাবানা মাহমুদ। লেবার সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী মুখ তিনি।

২. আইনি পটভূমি

বার্মিংহামে জন্ম নেওয়া শাবানা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যারিস্টার হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন, যা তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দক্ষতায় আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

৩. ইতিহাসের অংশ

২০১০ সালে পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে তিনি রুশনারা আলী ও ইয়াসমিন কোরেশির সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রথম তিন মুসলিম নারী এমপির একজন হন—যা ছিল প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

৪. অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শাবানা মাহমুদ সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। স্থায়ী বসবাসের আবেদনের সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষায়, স্থায়ী আবাসন কোনো “অধিকার” নয়, বরং “বিশেষ সুযোগ”।
এই অবস্থান লেবার পার্টির ভেতরেই বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

কেন তাঁর নাম এগিয়ে?

স্টারমারের নেতৃত্ব দুর্বল হলে দলের ভেতরে নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করতে অন্তত ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন প্রয়োজন।

মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ পদ, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও দলের ভেতরে শক্ত অবস্থানের কারণে শাবানা মাহমুদ সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছেন।

অনেকে মনে করেন, মুসলিম ও সংখ্যালঘু ভোটারদের একটি অংশকে তিনি আবার লেবারের প্রতি আকৃষ্ট করতে পারেন। অন্যদিকে, তাঁর মধ্যপন্থী ও কিছু ক্ষেত্রে রক্ষণশীল অবস্থান তাঁকে মূলধারার ভোটারদের কাছেও গ্রহণযোগ্য করতে পারে।

সামনে কী?

এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা আসেনি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা আরও জোরদার হতে পারে।

সেই সম্ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছেন শাবানা মাহমুদ—যাঁর সামনে হয়তো অপেক্ষা করছে ইতিহাস গড়ার সুযোগ।