স্ত্রীকে নিয়ে একতরফা আসক্তির অভিযোগ; ছেলে গুরুতর আহত, দেশজুড়ে চলছে অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার
ইতালির রাজধানী রোমের পশ্চিমাঞ্চলের কাসালোত্তি এলাকায় একই পরিবারের তিন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় ৪৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক শাহাদাত হোসেনকে (Hossain Shahadat) প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে খুঁজছে ইতালির পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। রোম প্রসিকিউটর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে হত্যাকাণ্ডের তদন্ত চলছে এবং দেশজুড়ে তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
নিহতরা হলেন কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী আরজু বেগম (ইতালীয় সংবাদমাধ্যমে জাহান/হোসনে জাহান নামেও উল্লেখ রয়েছে) এবং তাদের আট বছর বয়সী কন্যা আরোয়া ইসলাম। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন দম্পতির ২০ বছর বয়সী ছেলে আমির, যিনি বর্তমানে রোমের জেমেলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের বাসায় প্রবেশ করেন। তদন্তকারীদের ধারণা, প্রথমে মা ও শিশুকন্যার ওপর হামলা চালানো হয়। পরে বাসায় ফিরে আসা কামাল উদ্দিন বাধা দিতে গেলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরিবারের বড় ছেলে আমির হামলাকারীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ।
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শাহাদাত কয়েক মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে ইতালিতে আসেন। তিনি নিহত পরিবারের পরিচিত ছিলেন এবং কামাল উদ্দিনই তাকে রোমে বসবাসের ব্যবস্থা করতে সহায়তা করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, অভিযুক্ত শাহাদাত নিহত আরজু বেগমের প্রতি একতরফাভাবে আসক্ত ছিলেন। তার প্রস্তাব বা আকাঙ্ক্ষা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে পুলিশ এখনো হত্যার চূড়ান্ত মোটিভ নিশ্চিত করেনি এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হত্যাকাণ্ডের আগে শাহাদাতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টও তদন্তের আওতায় এসেছে। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, ‘কেউ একা মারা যায় না… মৃত্যু এলে প্রিয়জনদেরও সঙ্গে নিয়ে যাওয়া উচিত।’ তদন্তকারীরা পোস্টটির সঙ্গে ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করছেন।
গুরুতর আহত আমির পুলিশকে জানান, হামলাকারী শাহাদাত হোসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি বারবার বলছিলেন, ‘সে আমার পুরো পরিবারকে শেষ করে দিয়েছে।’ এই বক্তব্যের ভিত্তিতেও তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে পুলিশ।
ইতালির পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। অভিযুক্তের ফেলে যাওয়া মোবাইল ফোন জব্দ করে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। নিহত পরিবারের স্বজন, প্রতিবেশী এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শনিবার বোলোনিয়া রেলস্টেশনে সম্ভাব্য অবস্থানের একটি খবর পাওয়া গেলেও সেটি সঠিক প্রমাণিত হয়নি।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের দাবি, নিহত পরিবার ও সন্দেহভাজন শাহাদাত—উভয়ের বাড়িই বাংলাদেশের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। কামাল উদ্দিন ২০০৯ সালে ইতালিতে যান। অন্যদিকে শাহাদাত প্রায় ছয় মাস আগে যুক্তরাজ্য থেকে রোমে আসেন বলে জানা গেছে।
রোম প্রসিকিউটর অফিস হত্যা ও গুরুতর আহত করার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এরপর হত্যার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও ঘটনার পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।








