ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র কেন্দ্রীয় সম্মেলন সম্পন্ন ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন জোরালো, সমর্থনে রাজপথে হাজারো মানুষ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ইউরোপে নির্মিত হচ্ছে প্রামাণ্যচিত্র, শুটিং শুরু ১৯ অক্টোবর নিউইয়র্কে ড. ইউনূসকে হেনস্তায় যেসব আ. লীগ নেতার নাম আলোচনায় আট মাসে বিদেশে গেছেন সাড়ে ৪ লাখ কর্মী সরকারবিরোধী চক্রান্ত : সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে বাংলাদেশিদের ছবি-ভিডিও প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা ইইউর বিভিন্ন দেশে প্রায় পাঁচ লাখ বাংলাদেশি বৈধভাবে বসবাস করছেন প্যারিস বিমানবন্দরে ইসরায়েলি কোম্পানির সামরিক চালান আটকে দিলেন কর্মীরা

১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

  • আপডেট সময় ১২:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইন অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। এর মাধ্যমে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ফ্রান্স।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশটির জাতীয় পরিষদ ও সিনেটে বিলটি পাস হয়। শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এ আইন আনা হয়েছে।

ভোটাভুটির পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতার ধারণা গ্রহণ করে ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে পথ দেখাল ফ্রান্স।

নতুন আইন অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু সামাজিক মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে চার মাসের মধ্যে বিদ্যমান অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট অপসারণ করতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলোকে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি চান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইনটি কার্যকর করা হোক।

গত এপ্রিলের এক অনুষ্ঠানে ম্যাক্রোঁ তরুণদের স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় ব্যয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা তোমাদের এমন এক ডিজিটাল জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি, যা তোমাদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। এখন আমাদের গতি কমাতে হবে এবং তোমাদের দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে।

অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো সাধারণত বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে থাকে। তাদের দাবি, তারা ইতোমধ্যে ন্যূনতম বয়সসীমা কার্যকর করছে এবং কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে সরকার আইন করলে তা মেনে চলার কথাও জানিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশন শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে বৃহত্তর নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নজির গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

লক ডাউন পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ফ্রান্সে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

যুক্তরাজ্যে করোনার মধ্যেই শিশুদের মাঝে নতুন রোগের হানা

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের পাইলট-ক্রুদের ওপর ইসরায়েলের নিষেধাজ্ঞা মানবে এয়ার ফ্রান্স

১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

আপডেট সময় ১২:৫৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার আইন অনুমোদন করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। এর মাধ্যমে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশে বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ফ্রান্স।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দেশটির জাতীয় পরিষদ ও সিনেটে বিলটি পাস হয়। শিশু-কিশোরদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতার ওপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে এ আইন আনা হয়েছে।

ভোটাভুটির পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জুনিয়র মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেন, ডিজিটাল প্রাপ্তবয়স্কতার ধারণা গ্রহণ করে ইউরোপে প্রথম দেশ হিসেবে পথ দেখাল ফ্রান্স।

নতুন আইন অনুযায়ী, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু সামাজিক মাধ্যমে নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবে না। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে চার মাসের মধ্যে বিদ্যমান অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট অপসারণ করতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, প্ল্যাটফর্মগুলোকে ফ্রান্সের গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত বয়স যাচাই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দীর্ঘদিন ধরেই শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তিনি চান, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই আইনটি কার্যকর করা হোক।

গত এপ্রিলের এক অনুষ্ঠানে ম্যাক্রোঁ তরুণদের স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম সময় ব্যয় করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা তোমাদের এমন এক ডিজিটাল জঙ্গলে ছেড়ে দিয়েছি, যা তোমাদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে। এখন আমাদের গতি কমাতে হবে এবং তোমাদের দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্ক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করতে হবে।

অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো সাধারণত বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে থাকে। তাদের দাবি, তারা ইতোমধ্যে ন্যূনতম বয়সসীমা কার্যকর করছে এবং কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। তবে সরকার আইন করলে তা মেনে চলার কথাও জানিয়েছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশন শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে বৃহত্তর নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে। ফ্রান্সের নতুন আইনটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদ্যমান বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তাও পর্যালোচনা করা হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য দেশব্যাপী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে নজির গড়েছিল অস্ট্রেলিয়া।