প্যারিস, ফ্রান্স: বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিসংগ্রাম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও অবদানকে কেন্দ্র করে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্যারিসকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত এই প্রামাণ্যচিত্রের শুটিং আগামী ১৯ অক্টোবর বেলজিয়ামের ইউরোপীয় কমিশন প্রাঙ্গণে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্রটির প্রযোজক সাত্তার আলী সুমন এবং পরিচালক স্বপন আহমেদ। এতে অভিনয় করছেন তকির আহমেদ, বিপাশা হায়াৎ, রায়হানা রাখি ও নজরুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রামাণ্যচিত্রে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, তাঁর ঐতিহাসিক অবদান এবং ইউরোপীয় প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রামাণ্যচিত্রটিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে তাঁর আত্মজীবনী, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ এবং ইউনেস্কোর বিভিন্ন উদ্যোগ।
বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী অসমাপ্ত আত্মজীবনী ফরাসি ভাষায় Les Mémoires inachevés নামে প্রকাশিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ফরাসিভাষী পাঠকদের কাছে তাঁর ব্যক্তিজীবন, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
২০১৭ সালে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ অন্তর্ভুক্ত করে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ এই ভাষণের ঐতিহাসিক তাৎপর্যও প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরা হতে পারে।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মরণে স্মারক ডাক খাম প্রকাশের উদ্যোগের বিষয়টিও প্রামাণ্যচিত্রে স্থান পেতে পারে। এ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত খোন্দকার এম তালহা ও ওয়ালিদ বিন কাশেমের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগে তাঁদের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া সৃজনশীল অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ইউনেস্কো ও বাংলাদেশের উদ্যোগে ‘ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক পুরস্কার’ প্রবর্তন করা হয়। ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হয়। এর অর্থমূল্য ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। সৃজনশীল অর্থনীতিতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়াই এ পুরস্কারের অন্যতম উদ্দেশ্য।
প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে আয়োজিত প্রদর্শনী ও অন্যান্য উদ্যোগের বিষয়ও প্রামাণ্যচিত্রে তুলে ধরা হতে পারে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন এবং দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আন্তর্জাতিক দর্শকদের কাছে উপস্থাপনের লক্ষ্য রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
২০২২ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে প্যারিসে আয়োজিত ‘জয়বাংলা উৎসব’ নিয়েও প্রামাণ্যচিত্রের প্রেক্ষাপটে আলোচনা হতে পারে। ওই আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। উৎসবটির আয়োজন, তা নিয়ে ওঠা আপত্তি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তুলে ধরার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ঐতিহাসিক অবদানকে কেন্দ্র করে নির্মিতব্য এই প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বঙ্গবন্ধুর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিভিন্ন দিক ইউরোপের দর্শকদের সামনে তুলে ধরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইউরোপের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হতে পারে। তবে শুটিংয়ের সময়সূচি, স্থান, অংশগ্রহণকারীদের ভূমিকা এবং প্রামাণ্যচিত্রের চূড়ান্ত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে প্রকল্পটির পরিধি আরও স্পষ্ট হবে।



















