স্পোর্টস ডেস্ক
ঠিক এর চার বছর পর, ১৯৫৪ সালে ফুটবল বিশ্ব প্রত্যক্ষ করে ‘মিরাকল অব বার্ন’। সে সময়ের হাঙ্গেরি দলটিকে বলা হতো ইতিহাসের অন্যতম সেরা অপরাজেয় শক্তি, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন মহান পুসকাস। টুর্নামেন্টের শুরুতেই পশ্চিম জার্মানিকে ৮-৩ গোলে বিধ্বস্ত করা হাঙ্গেরি ফাইনালে যখন মাত্র আট মিনিটে দুই গোলে এগিয়ে যায়, তখন সবাই ভেবেছিল ম্যাচ শেষ।
স্নায় যুদ্ধের আবহে ১৯৬৬ সালে আরেকটি নাটকীয়তার জন্ম দেয় উত্তর কোরিয়া। ভিসা পাওয়া নিয়ে জটিলতা কাটিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখা এই দলটির মুখোমুখি হয়েছিল দুই বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ইতালির চোট আঘাতের সুযোগ নিয়ে পাক দু ইকের করা একমাত্র ঐতিহাসিক গোলে আজ্জুরিদের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দেয় উত্তর কোরিয়া।
এরপর ১৯৮২ সালে নবাগত আলজেরিয়া বিশ্বমঞ্চে এমন বিস্ফোরণ ঘটায় যা কেউ কল্পনাও করেনি। তৎকালীন ইউরো চ্যাম্পিয়ন এবং দুই বারের বিশ্বসেরা পশ্চিম জার্মানি ম্যাচ শুরুর আগে আলজেরিয়াকে পাত্তাই দেয়নি। কিন্তু মাঠের খেলায় চরম অহংকারী জার্মানদের স্তব্ধ করে দিয়ে ২-১ গোলের অবিশ্বাস্য জয় তুলে নেয় আলজেরিয়া। লাখদার বেলৌমির সেই জয়সূচক গোলটি বিশ্ব ফুটবলে আফ্রিকার উত্থানের এক নতুন বার্তা দিয়েছিল।
আফ্রিকান ফুটবলের সেই অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রার আরেকটি বড় প্রমাণ মেলে ১৯৯০ সালের উদ্বোধনী ম্যাচে। তৎকালীন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটবল ঈশ্বরখ্যাত দিয়াগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে প্রথম ম্যাচে মোকাবিলা করেছিল ক্যামেরুন। সান সিরো স্টেডিয়ামে ম্যারাডোনার জাদুকে বোতলবন্দী করে ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িকের দুর্দান্ত এক হেড আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয়। এই অঘটনের ধারা বজায় রেখে ২০০২ সালেও নবাগত সেনেগাল উদ্বোধনী ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছিল।
আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি এবং অবিশ্বাস্য অধ্যায়টি রচিত হয়েছিল ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে। হেক্সা মিশনের স্বপ্নে বিভোর আয়োজক ব্রাজিল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানির। কিন্তু ইনজুরির কারণে নেইমার এবং কার্ডের খাড়ায় থিয়াগো সিলভাকে ছাড়া মাঠে নামা সেলেসাওদের ঘরের মাঠে মাত্র ২৯ মিনিটের মধ্যে ৫ গোল হজম করতে হয়। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক ও লজ্জাজনক পরাজয় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের ইতিহাসে চিরকালের জন্য এক জাতীয় অপবাদ হয়ে রয়ে গেছে।
ঠিক একই বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ৫-১ গোলে নেদারল্যান্ডসের কাছে বিধ্বস্ত হওয়া কিংবা ২০১৮ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে জার্মানির ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার ক্ষতগুলো এখনো টাটকা।
তবে কাতার ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে ফেবারিট আর্জেন্টিনার ২-১ গোলের পরাজয়টি আধুনিক ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছিল। লিওনেল মেসির পেনাল্টি গোলের পর সালেহ আল-শেহরি এবং সালেম আল-দাওসারির সেই অবিশ্বাস্য দুটি গোল আর্জেন্টিনাকে স্তব্ধ করে দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই ট্রফিটি মেসিই উঁচিয়ে ধরেছিলেন।
ফুটবল বিশ্বকাপের এই নাটকীয় অঘটনগুলোই প্রমাণ করে, মাঠের লড়াইয়ে নামের চেয়ে আবেগ আর জেদই শেষ কথা বলে।




















