মিনহাজ হোসেন, ইতালি: খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, টেকসই কৃষির বিকাশ এবং কৃষি খাতে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইতালির রাজধানী রোমে অনুষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ২০২৬’-এ অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও এফএওতে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এ.টি.এম. রকিবুল হক।
“Innovate Today. Nourish Tomorrow” প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু সহনশীল খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, টেকসই কৃষির প্রসার এবং কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এসব লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জ্ঞান বিনিময় ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ সম্প্রসারণের বিষয়টিও আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
ফোরামের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন ছিল কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থা এবং গ্রামীণ উন্নয়নে নারীদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান। এফএওর উদ্যোগে ‘১০০ উইমেন হিরোস ইন এগ্রিফুড সিস্টেমস অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের বিলকিস খাতুনসহ ৯৬টি সদস্যরাষ্ট্রের মোট ১০০ জন নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
কৃষি ও খাদ্যব্যবস্থার উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে এ উদ্যোগকে বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্বকে আরও উৎসাহিত করার ক্ষেত্রেও এ স্বীকৃতি তাৎপর্যপূর্ণ।
কৃষিতে তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উদ্যোগ
ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ২০২৬-এর গ্লোবাল ইয়ুথ ফোরামের আওতায় ৩৫টি নতুন ন্যাশনাল ইয়ুথ চ্যাপ্টারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতসংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাও ফোরামে অংশ নেন।
কৃষিতে তরুণদের আগ্রহ বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষির প্রসার এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং খাদ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ক্ষেত্রে তরুণদের অংশগ্রহণ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের সম্ভাবনা
বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কৃষিকে আরও টেকসই, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। এ ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কৃষি উন্নয়নে দেশের অভিজ্ঞতা, সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, গ্রামীণ উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং খাদ্যব্যবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সংস্থা, বিভিন্ন দেশের সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, তরুণ উদ্যোক্তা ও কৃষি খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ওয়ার্ল্ড ফুড ফোরাম ২০২৬-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ তাই শুধু একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উপস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং খাদ্য নিরাপত্তা, টেকসই কৃষি, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং কৃষিতে উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ খাদ্যব্যবস্থা উন্নয়নে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




















