নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন সলিডারিতে আজি ফ্রান্স (সাফ)-এর প্রেসিডেন্ট এনকে নয়ন। এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এ সাক্ষাৎ ও আলোচনায় ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা, তাঁদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা, পারিবারিক পুনর্মিলন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং বিনিয়োগসহ ফ্রান্স ও বাংলাদেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে।
আলোচনায় ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রশাসনিক জটিলতা, দৈনন্দিন জীবনের নানা চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি অভিবাসীদের প্রশাসনিক ও সামাজিক সহায়তা প্রদান এবং ফরাসি সমাজে তাঁদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে সলিডারিতে আজি ফ্রান্সের (SAF) কার্যক্রম ও ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।
ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একত্রে বসবাসের সুযোগ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনসংক্রান্ত বিষয়গুলো আলোচনায় স্থান পায়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া এবং এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় হয়। এ ছাড়া ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভূমিকা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধান, সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন এবং দক্ষ পেশাজীবী ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য ট্যালেন্ট ভিসাব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা হয়। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরির বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়াও ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত, অর্থনৈতিক ও মানবিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাক্ষাৎকালে মূল্যবান সময় দেওয়া এবং আন্তরিক আলোচনার জন্য ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান সাফ প্রেসিডেন্ট এনকে নয়ন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ সাক্ষাৎ দুই দেশের জনগণের কল্যাণে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ফ্রান্স ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে দুই দেশের নাগরিক, শিক্ষার্থী, পরিবার, উদ্যোক্তা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরও গতিশীল করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।




















